এক বল নিয়েই উৎসব কাল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আহসান শামীম

কলকাতায় ইডেন টেস্ট দিয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও ভারত গোলাপি-যুগে প্রবেশ করবে। তাইতো আয়োজক ভারত চায় ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখতে। সেজন্য নানামুখী আয়োজন হাতে নিয়েছে তারা।টেষ্ট উদ্বোধনের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ২২ নভেম্বর ৬৬ সদস্যের দল নিয়ে কলকাতা যাবেন।বিসিবি বস নাজমুল হাসান পাপন প্রধানমন্ত্রীর বহরে থাকছেন না। আজ ২১ নভেম্বর তিনি কলকাতার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।গোলাপী টিকিট, ৬০ পদের খাবার তালিকার সাথে দুই দেশের বরেণ্য শিল্পিদের সাংস্কৃতিক অনুষ্টান, আয়োজনে কোন ঘাটতি থাকছে না।ইডেনের ঘন্টা বাজিয়ে টেষ্ট উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও কলকাতার মূখ্য মন্ত্রী।বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য তৈরী করা হয়েছে বিশেষ স্বর্ন মুদ্রা , শাল, শাড়ী সহ নানান উপহার।পুরো ইডেন সেজেছে গোলাপী রঙে।

এসপ্ল্যানেড থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, রবীন্দ্র সদন থেকে বিরলা তারামণ্ডলল,  মাথা উঁচু করলেই ফোরটি টু বিল্ডিং। গোলাপি বলে বাংলাদেশ-ভারতের দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচ উপলক্ষে পুরো কলকাতা  সেজেছে গোলাপি রঙে। ইডেন গার্ডেন প্রাঙ্গণ থেকে কলকাতা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় রাতকে আলোকিত করে জ্বলছে গোলাপি বাতি। মোড়ে মোড়ে ঝুলছে টেস্ট ম্যাচের কথা। বাসে, ট্রামে, ট্রেনেও গোলাপি বলের টেস্ট নিয়ে চলছে আলাপ, গোলাপী টিকেট নিয়ে আছে হাহাকার। হুগলি নদীতে চলছে এক বিশেষ লঞ্চ, গোলাপি আলোয় সাজানো লঞ্চটা টেস্ট ম্যাচ শুরু হওয়া পর্যন্ত হাওড়া ব্রিজ থেকে বিদ্যাসাগর সেতু পর্যন্ত নদীতে ভাসবে । কলকাতা শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে গিয়ে দেখা যায় গোলাপি রঙের প্রাধান্য, টাঙানো হয়েছে বিলবোর্ড। রাতের আলোয় সেসবই কিরণ দিচ্ছে গোলাপি রঙে।এক কথায় কলকাতা এখন পিংক সিটিতে রূপান্তর হয়েছে।

টেষ্ট উইকেটে থাকছে ঘাস,রাতে শিশির।নাগপুর টেষ্টের সাদা বলের কালো রঙটা বাংলাদেশের সাদা জার্সিকে করেছে মলিন।গোলাপি বলের রঙটা নিয়ে সংশয় আছে দু’দলেরই।অভিজ্ঞতার দিক থেকে ভারত এই টেষ্টেও শক্তির বিচারে এগিয়ে থাকবে সেটা বলেই বাহুল্য। দিনের আলোতে গোলাপি বল দেখতে ব্যাটারদের খুব একটা বেগ পেতে হবে না। কিন্তু ফ্লাড লাইটের আলোতে শিশির ভেজা মাঠে বলের আচরন কেমন হবে সেটা নিয়েই চলছে জল্পনা কল্পনা। শীতের মৌসুমে দিবা-রাত্রির টেস্টে স্পিনারদের উদ্বেগের কারণ হতে পারে শিশির। শিশিরের প্রভাব কমাতে এন্টিডিউ স্প্রে করা হচ্ছে ইডেনে।

বলের রঙ ভিন্ন হলেও ভারতের পেসাররা যেকোনো অবস্থাতে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে সক্ষম, বিশ্বাস দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ঋদ্ধিমান সাহার। ঋদ্ধিমানের বিশ্বাস ইন্দোর টেস্টের মতো এই ম্যাচেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন তার দলের পেসাররা।উইকেটে ঘাস আর মাটি থাকবে শক্ত, তাই উইকেট থেকে বাড়তি সুবিধা পাবে পেসার এমন তথ্যই দিলেন ইডেনের পীচ কিউরেটার সুজন মুখার্জি।

মাত্র একটা গোলাপি বলের ম্যাচ খেলা হয়েছে বাংলাদেশে। ঘরোয়া প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ (বিসিএল)-এর প্রথম আসরের ফাইনাল গোলাপি বলে খেলা হয়েছিলো। সেই ম্যাচের কোনো ক্রিকেটারই ভারতের বিপক্ষে কলকাতা টেস্টের দলে নেই। এসব কিছু বিবেচনায় এনে সর্বকালের অন্যতম সেরা আম্পায়ার টফেল বলেন, ‘জানি না বাংলাদেশ গোলাপি বলে কখনো ম্যাচ খেলেছে কি না। বাংলাদেশের জন্য কাজটা নিঃসন্দেহে বেশি কঠিন। শিশির থাকলে ফিল্ডিং করাও বড় সমস্যা। তখন একটা বড় কাজ, বল শুকনো রাখা।’

যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হুমকির কারণ হতে পারে ভারত বলে মনে করেন দেশের সাবেক ওপেনার গৌতম গম্ভীর। তাঁর মতে শুধু ব্যাটিংয়ের দিক থেকেই নয়, বরং বোলিংয়েও স্বয়ংসম্পূর্ণ।

ভারতের বিপক্ষে দিবা রাত্রির টেস্ট খেলতে মুখিয়ে আছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের তারকা পেসার আল-আমিন হোসেন। কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে কাল অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহাসিক এই টেস্টে মাঠে নামতে বেশ রোমাঞ্চিত ২৯ বছর বয়সী আল-আমিন। দিবা রাত্রির এই টেস্টটি দুই দলের জন্যই প্রথম। আল-আমিন তাই ভারতের সঙ্গে নিজেদের পার্থক্য খুব একটা দেখছেন না। দুই দলই অপরিচিত কন্ডিশনে খেলতে নামবে বলে মনে করেন তিনি। চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত এই পেসার বলেন, ‘আমরা সবাই উন্মুখ হয়ে আছি। সামনে ঐতিহাসিক টেস্ট, গোলাপি বলে। এখানে ভারতও অপরিচিত, আমরাও অপরিচিত। বলটাও নতুন। সেই হিসেবে মনে হয়, ভালো একটা চ্যালেঞ্জিং ম্যাচ হবে।’

বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ ড্যানিয়েল ভেটরি মনে করেন গোলাপি বলের এই টেস্টে সূর্যাস্তের সময় দুই দলকেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। দিনের বেলায় এই বলে খেলতে কোনো সমস্যা হবে না বলেও মনে করেন তিনি। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ভেটরি জানান, ‘সাধারণত দিনের বেলায় গোলাপি বলে কোনো সমস্যা হয় না। কৃত্রিম আলোতে সমস্যা হতে পারে। এখন খুব দ্রুতই আলো পড়ে যায়। তখনই আমরা গোলাপি বলের আসল কাজটা দেখতে পারবো। আমার অভিজ্ঞতা বলতে গেলে টিভিতে যতটুকু দেখা। একদম গোধূলিলগ্নে বল খানিকটা সুইং করতে পারে। আমার মনে হয় তখনই ম্যাচটা জমবে।’ গোলাপি বলের টেস্টে একজন বাড়তি পেসার খেলানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ভেটরি। সেই সাথে স্পিনাররাও বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বলে বিশ্বাস তাঁর। বাংলাদেশের এই স্পিন বোলিং পরামর্শকের মতে বাড়তি একজন পেসারের সাথে স্পিনারদের মূল কাজ হবে রান আটকে রাখা।বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ধৈর্য্য ধরে উইকেটে থাকতে পারলে গোলাপী বলের টেষ্ট ম্যাচটা দারুন হবে বলেই মনে করছেন ভেটরি।

ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]