এক বাঁও মেলেনা দো বাঁও মেলেনা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শিল্পী কনকনকচাঁপা কচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখছেন তার জীবনের কথা। কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো।

জীবন চলার পথে কিছু জায়গায় গিঁট লেগে জট পেকে থাকে আবার সেই গিঁট খুলে এমন অবস্থা হয় যে রশি খুলতেই থাকে খুলতেই থাকে।এতোদিন জীবন চলেছে গান শিখিয়ে, হারানো দিনের গান গেয়ে, এখন আমি পুরোদস্তুর প্লেব্যাক সিঙ্গার। মঞ্চানুষ্ঠান বরাবরের মতোই করে যাচ্ছি।কিন্তু আশায় আশায় দিন কাটে কবে নিজের গান গাইবো!

 মঞ্চে আমি বরাবরই জুবুথুবু। সবসময় ভাবি আমার আবার গান, সে গান আবার কেউ শোনে? আমি সাজতে জানিনা, ভালো শাড়ি নাই, নাই দেহভঙ্গিমা! আমার জীবনসঙ্গী বিরক্ত হন।বলেন এগুলো বাজে চিন্তা বাদ দাও।লতাজীকে সাজতে দেখেছো? আমি ভাবি কিসের সঙ্গে কি পান্তাভাত এ ঘি।মঞ্চে তখনও আমি পুরনো দিনের গান গাই।নজরুল সংগীত, লালনের গান, গজল ইত্যাদি গাই।কখনও হাততালি পাই কখনো দর্শক নিরব হয়ে যান।বুঝিনা যে বিরক্ত হয়ে নিরব হচ্ছেন নাকি বুঁদ!

তারপরও এভাবেই গাইতে থাকি।কারণ নিজের গান নিজে তৈরি করা যায়না। গান গাওয়ার পর নানা মাধ্যমে ইথারে ভাসতে ভাসতে মানুষের মনের গহীন কোনে বাসা বাঁধলে গান জনপ্রিয় হয়।সেই গান অনুষ্ঠানে গাইলে দর্শক বিমোহিত হয়ে অটোমেটিক হাততালি দেয়, পৃথিবীর মধুর শব্দ ‘ওয়ান মোর’ শুনতে পাওয়া যায়। গান শিখতে যেমন সাধনা লাগে, সুরে সুর লাগাতে সাধনা লাগে, কিন্তু গান জনপ্রিয় হতে শুধু সাধনা নয় কপাল ও লাগে।আর ওয়ান মোর শব্দটি শুনতে কপালের সঙ্গে লাগে একাগ্রতা অধ্যাবসায় সাধনার সমন্বয়। আমি সব কিছুই করে যাচ্ছিলাম কিন্তু নিজের গান তৈরি হচ্ছিলো না।আমাদের শ্রেষ্ঠতম গিটার বাদক রিচার্ড কিশোর ভাই অসম্ভব মজার মানুষ। উনি হেসে-খেলে অনেক কথা বলেন। তো উনি একদিন এক অনুষ্ঠানে ব্যাকস্টেজে দুষ্টুমি করে বলছিলেন গনি মিঞা একজন কৃষক। তার নিজের জমি নাই।সে অন্যের জমি চাষ করে।বুঝলাম উনি আমাকে বলছেন। আমি খুব লজ্জা পাচ্ছি দেখে উনি বললেন আপা, আমি দুষ্টুমি করলাম। নিজের গান আর কয়জনেরই আছে আপনাদের সমসাময়িক শিল্পীদের বলেন, কিন্তু একদিন আপনার অনেক গান হবে।আপনি গেয়ে শেষ করতে পারবেন না।আমি অবাক, উনি বলেই চলেছেন, হাতি কখনও দেখতে পায় সে কতো বড়ো? আপনি ও কিছু বুঝতে পারছেননা।অনেক দিন আপনার জন্য পড়ে আছে!

 আমার কান্না পেয়ে যাচ্ছিলো। আশায় বুক বাঁধছিলাম।আমার নিজের গান হবে, সে গানের জন্য মঞ্চে অনুরোধ আসবে।দর্শক জোরে জোরে বলবে ওয়ান মোর ওয়ান মোর। খইভাজার ক্ষিপ্রতায় অথবা বৃষ্টির ছন্দে হাততালি পড়তে থাকবে। এই টুকু আনন্দ পাওয়া যে একজন শিল্পীর জন্য কতবড় পাওয়া তা কি অন্য কেউ বুঝবে।

পাওয়ার কি সুখ কাঙ্গাল জানে, পাওয়া তো নয় পাওয়া!

না পেয়ে পেয়ে অনেক ধৈর্য ধরে সাধনা করে পথ চলছিলাম আর জীবন নদীর জোয়ারভাটার তোড় উপেক্ষা করেই অতল জলের গভীরতা মাপছিলাম, এক বাঁও? মেলেনা দো বাঁও মেলেনা! তিন বাঁও? নিশ্চয়ই মিলবে।ইনশাআল্লাহ।

ছবি: লেখকের ফেইসবুক থেকে

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]