এলোমেলো বৃষ্টির ফোটারা…

শ্বেতা চট্টোপাধ্যায়

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

বৃষ্টির রাত গুলোর গায়ে লুকোনো একটা গন্ধ আছে..। চাইলেই সহজে খুঁজে পাওয়ার মতো নয়, অথচ কেমন যেন একদম নিজের ভেতরে ডুকরে ওঠা অভিমানের মতো সেই অনুভূতি..। হাজার কাজের ভিড়ে চাপা দিয়ে রাখতে চাওয়া একখানা করুণ সুর যেন অজান্তেই স্থায়ী থেকে অন্তরা আর সঞ্চারী তে পৌঁছে যায় তার নিজস্ব ছন্দে..। তারপর বুকের ভেতর একটানা নিজস্ব লয়ে চলতে থাকে তান, অদ্ভুত সে অনুরণন, যা কারোর কাছে ব্যাখ্যা করা যায় না, অনুচ্চারিত নীরব ভালোবাসার মতো, শুধু নিজস্ব অভিমান আছে, অভিমুখ আছে, আর আছে অভিঘাত..।

জানা নেই আর কোনো ঠিকানা, কোনো কারণ..। অনেকটা সময় পার করে আসার পর সেসব কেবলই অভিজ্ঞতা হয়ে থেকে যায় জীবনের ঝুলিতে..। আমি শুধু বুঝি সেসব খুব বেশি হয়ে গেলে সঙ্গ দেয় আরেকজন..। নিঃশব্দে চোখ থেকে গড়িয়ে পড়তে থাকে মুক্তদানা রা..। কত কত ফেলে আসা স্মৃতিরা ভিড় করে ডাউন মেমরি লেন এ, আজকের পোড় খাওয়া ‘আমি’ তাদের যত্ন করে ঘরে বসাই..। আদর আর প্রশ্রয় দিয়ে নিজেও খানিক আবেগ মথিত হই, কিন্তু, সে সবই আমার একান্ত নিজস্ব, বাইরের ‘আমি’ তখন নিষেধের পাহারাতে রেখে ঢেকে..।

আর এই সব কিছুর মধ্যে যে অনধিকারী হয়েও সবচেয়ে দ্রুতগামী হয়ে সঙ্গত করতে পারে, খুঁজে পেতে পারে আমার মনের তল, সে হল ‘গান’..। বৃষ্টিরাতে একান্ত অবসরে কিছু কিছু গান আর সিনেমা তাই বড্ড বেশি করে অনুষঙ্গী হয়ে কাছের হয়ে ওঠে..। আসলে গানের কথা আর সুরেরা যে বড্ড বেশি করে মন ছুঁয়ে মনের কথা বলতে পারে..। ব্যথা’র জায়গায় সময়ের পলি পড়ে যাওয়ার সমভূমি তো একমাত্র সুরই খুঁজে দু’ফোটা জল বের করে আনতে পারে..। যেমন টা আর কেউ পারে না..।

এই বৃষ্টি রাতে গান শুনছি..। আমার বড় মনের মতো কিছু ফেলে আসা আর জুড়ে যাওয়া গান..। এই যেমন একটু আগেই বাজছিল ‘মাসুম’ সিনেমার গান…

“দো নয়না, অউর এক কাহানি…..
থোডা সা বাদল, থোডা সা পানিইইইই, অউর এক কাহানিইইইইইই….”

ছবি: মানজারে হাসিন মুরাদ