এ কী!

মোর্জিনা মতিন কবিতা

আমি মাত্রই আমার ছেলে মিউকে বুকে জড়িয়ে ধরে আহ্লাদ করে গাইলাম-
‘তোমার চোখে দেখলে বন্ধু আকাশের নীল ভালো লাগে না,
তোমার মুখের হাসি দেখলে চাঁদ যে আমার ভাল্লাগে না।’
মিউ বলেছিল, ‘মা, ছাড়ো, কী বলছো এসব।’
‘আইয়ুব বাচ্চু নামে এক সঙ্গীতশিল্পী এই গান গেয়েছেন বহু বছর আগে, তোমাকে দেখলে আমার এই গান মনে আসে, বাবা।’
বাসায় টিচার পড়িয়ে গেছেন মিউকে। হোম ওয়ার্ক করানোর আগে ওকে একটু পটানোর চেষ্টার অংশ হিসেবে এই গান আর আদর।
মিউকে ছেড়ে দিয়ে চায়ের মগ নিয়ে বসে যেই মোবাইল ফোনটা হাতে নিয়ে নিউজ ফিডে গেছি, অমনি ‘সময় টিভি’র এক লিংক এ দেখি- ‘সঙ্গীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু মারা গেছেন।’
সকালে নামাজ, মেডিটেশন, নাস্তা করে কড়া কফি খেয়েও ঘুম ঘুম লাগছিল, দিবানিদ্রা অপছন্দ আমার, সময়ও নাই, তাই আরেক মগ কড়া চা নিয়ে বসেছি। আমার চোখ থেকে ঘুম ছুটে গেল, দ্বিতীয় দফা চা-কফির কারনে না, আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যু সংবাদের কারনে। চোখ ভিজে উঠলো, চোখে ভেসে এল আমাদের একুশ-বাইশ বছর বয়সের সেই সময়টা, আমরা যারা আইয়ুব বাচ্চুর লাইভ কনসার্ট দেখে উচ্ছ্বাস শিখেছি, তার শিশুর মতো সরল হাসি সরাসরি দেখেছি, তার মুগ্ধ চাউনী খুব কাছ থেকে অনুভব করেছি।
মিউকে ডাক দিলাম। অন্য ঘর থেকে সে এল। ওকে জড়িয়ে ধরে বললাম, ‘বাবা, দেখো কেমন হলো ব্যাপারটা, আমি যার গান গাইলাম, তিনি এখনই মারা গেলেন!’
মিউ কেঁপে উঠলো।
মোনাজাত ধরে বিড়বিড় করে বললো, ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’
তারপর আমাকে বললো, ‘মা, তুমি কি কান্না করো?’
‘না, বাবা।’
মিউ এবার আমার জড়িয়ে ধরা বাঁধন আলগা করে আমার মুখোমুখি দাঁড়ালো। দুই চোখ আলাদা আলাদা করে পর্যবেক্ষণ করলো। তারপর বললো, ‘মা, তুমি মিথ্যে বলছো…’