এ কেমন শিক্ষা ব্যবস্থা…

রুখসানা আক্তার

(লন্ডন থেকে): অরিত্রির মৃত্যু আমাদের সমাজ , শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম এবং অযোগ্য , বিবেকহীন, মনুষত্বহীন শিক্ষক এবং বাণিজ্যিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বরূপ উন্মোচন করে দিয়ে গেল। অভিবাবকরা এখন মুখ খুলেছেন ।তাদের ক্ষোভের কথা জানাচ্ছেন। একে একে থলের বিড়াল বের হয়ে পড়ছে। একটি রাষ্ট্রের প্রতিটি বাচ্চার একাডেমিক শিক্ষা অর্জন তার মৌলিক অধিকার এবং এই অর্জনটা শুরু হবে সহজ , ভয়হীন এবং আনন্দময় অনুকূল পরিবেশের মধ্যে দিয়ে। কারণ শেখার মধ্যে আনন্দ না থাকলে সেই শেখার প্রতি উৎসাহ উদ্দীপনা থাকে না। ভেতরে ভয় নিয়ে কোন কিছু শিখতে গেলে সেখানে জ্ঞান অর্জন হয় না ,যা অর্জিত হয় সেটা হলো মস্তিষ্কের কোষে কতগুলো ইনফরমেশন জমা হয়ে যাওয়া। বাল্যকাল থেকে বাচ্চারা বিদ্যালয়ে যায় জ্ঞান অর্জনের জন্য। আর এই জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় জরুরি।।প্রথম হলো ভয়হীন সুন্দর এবং স্বাভাবিক পরিবেশ । শেখা ,দেখা এবং শুনার মধ্যে কোন ধরণের সীমাবদ্ধতা থাকা উচিত নয় । বাচ্চারা অনুকূল পরিবেশ পেলে তাদের সহজাত স্বভাবের কারণেই একটু কৌতূহলী হয়ে উঠে। তাই কিছু শুনলে বা দেখলে প্রশ্ন করে যদি সুন্দরভাবে সঠিক উত্তর দেয়া হয় তবে শেখে এবং ফলে তাদের শেখার আগ্রহটাও বাড়ে । এই শেখা থেকেই আস্তে আস্তে তাদের জানার উৎসাহ বাড়ে ,ফলে শেখার পরিধিটাও দেশ ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এর মধ্যে দিয়ে বাচ্চারা বড় হতে হতে কখনও এক বিষয়ে কখনো বা ততোধিক বিষয়ে জ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গে কাজের দক্ষতা লাভ করে। । তারপর কর্ম জীবনে প্রবেশ করে । এদের মধ্যেই যাদের উৎসাহ এবং অদম্য উদ্দীপনা থাকে তারা তাদের শেখার ইচ্ছাটাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যায়। এই শেখার আগ্রহ থেকেই তাদের কর্ম দক্ষতা এদিকে যেমন শানিত হয় তেমনি আহরিত জ্ঞান থেকে তাদের মধ্যে প্রজ্ঞার বিস্তার ঘটে।আর এই থেকে একটা মানুষের মস্তিষ্কে জাগতিক জীবন, মানুষ এবং তার পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে বিভিন্ন ধরণের চিন্তা ভাবনার উদ্ভব এবং তার সমাধান এবং কোন কিছু সৃষ্টির তাড়না বোধ করে। সে স্বপ্ন দেখে নিজেকে নিয়ে , মানুষ সমাজ এবং দেশকে নিয়ে। সে হয় একজন স্বপ্ন দ্রষ্টা। একদিন তার স্বপ্নকে সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে বাস্তবায়ন করে যা মানুষ এবং সমাজ তার সেই সৃষ্টি বা কাজের মধ্যে দিয়ে উপকৃত হয় এবং সে একজন সফল মানুষে পরিণত হয়। এক সময় সে অনেকের অনুপ্রেরণার মানুষে পরিণত হয়। এই মানুষটি হতে পারে একজন দক্ষ ব্যুরোক্রেট ,একজন দক্ষ শিল্পপতি , হতে পারে দেশের একজন জ্ঞানী ডাক্তার ,ইঞ্জিনিয়ার,বা স্বনামধন্য বুদ্বিজীবী ,নেতা বা শিক্ষক যিনি তার ক্ষেত্রে জ্ঞান বিতরণের মাধ্যমে দেশের ,সমাজের মানুষে উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দিক নির্দেশনা দিবেন। এভাবেই উন্নত বিশ্বে রাষ্টের সিস্টেম একেকটা প্রজন্ম তৈরি করে সঠিক শিক্ষা প্রদানের মধ্যে দিয়ে। আমাদের দেশের প্রয়াত মেয়ার আনিসুল হকের কথা এখানে একটা অন্যতম উদাহরণ যদিও তিনি নিজ গুনে চেষ্টায় ,তার সৃষ্টি এবং কর্মে রেখে গেছেন অনুকরণীয় এক দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ। কিন্তু যে শিক্ষা ব্যবস্থা , বিদ্যাপীঠ , সেই বিদ্যাপীঠের গুরুরা বাণিজ্যিক জ্বরে আক্রান্ত এবং যে অভিবাবকরা নিজেই এসবের কাছে নতজানু সেখানে একটা বাচ্চার কি করার থাকতে পারে ? একদিকে স্কুলের চাপ ,অন্য দিকে তাদের পরীক্ষার খাতার নম্বর নিয়ে অভিবাবকদের মান সম্মানের কম্পিটিশন । বেচারারা যাবে কোথায় আর! হয়তো আত্মঘাতী হবে আর না হলে এই স্রোতের একজন হয়ে ইনফরমেশন সম্বলিত বোধ মনুষত্বহীন এক একজন পূর্ণবয়স্ক স্বার্থপর মানুষ এ পরিণত হবে যে শুধু নিজেরটা বুঝে। ইদানিং কালে পরিবারে ,সমাজে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো কি তা প্রমান করে না?

ছবি: গুগল