এ ভ্রমণ আর কিছু নয়…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

হাঁটতে ভালোবাসতেন সিম দ্য বোভায়ার। মাইলের পর মাইল পথ হাঁতেন একা একা। উঠে যেতেন অচেনা পাহাড়ের চূড়ায়, হারিয়ে যেতেন কোনো জঙ্গলে। প্রখ্যাত ফরাসী সাহিত্যিক এবং দার্শনিক জাঁ পল সার্ত্রের প্রেমিকা সিমনের সেই পদযাত্রায় কখনো সঙ্গী হতো কাঁধে ঝোলানো ছোট্ট ব্যাগ আবার কখনো হাতে থাকতো শুধুই একটা বাস্কেট।

হাঁটতে হাঁটতে হারিয়ে যাওয়ার ভেতরে সিমন দ্য বোভায়ার নিজেকে খুঁজে পেতেন। শারীরিক উত্তেজনা, অস্থির ঘোর আর ভাবনার জটাজাল থেকে মুক্তি পেতেই হাঁটতেন সিমন। তিনি নিজের দিনলিপিতে লিখেছেন,‘ এই অনির্দিষ্ট হেঁটে বেড়ানো তাকে অনেক কিছু থেকে মুক্তি দেয়।

হোঁটতে বের হয়ে একেক দিন বহুদূর চলে যেতেন সিমন। জঙ্গলে, পাহাড়ে থেকে যেতেন। তখন তাঁর ব্যাগে কী কী থাকতো? থাকতো একটা অ্যালার্ম ঘড়ি, মোমবাতি, স্থানীয় এলাকার পথ-নির্দেশিকা আর রেড ওয়াইনে পূর্ণ একটি ফ্লাস্ক। অনির্দিষ্ট হাঁটতে বের হয়ে খুব ঝামেলা নিতে পছন্দ করতেন না সিমন। পাহাড়ে চড়ার বিশেষ জুতা, বা বিশেষ ধরণের পোশাকের ধার ধারতেন না তিনি। কখনো কাঁধের ব্যাগ ফেলে একটা বাস্কেট হাতে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতেন। ফ্রান্সের মার্সেইলাস শহরে যখন শিক্ষক হিসেবে পড়াতে আসেন সিমন তখন তাঁর বয়স তেইশ। তখনও তাকে দেখা যেতো বহুদূরে কোনো পাহাড়ের পথে বা জঙ্গল মতো জায়গায় হেঁটে যেতে। হাতের বাস্কেটে থাকতো কলা, রুটি। সিমন দ্য বোভায়ারের কাছে সেই ভ্রমণ ছিলো প্রকৃতির সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা। হয়তো প্যারিস শহরে লং কোট শরীরে চাপিয়ে মাথার চারপাশে সিল্কের স্কার্ফ জড়িয়ে কোনো কফিখানায় জাঁ পল সার্ত্রের পাশে বসে থাকা সিমনের সঙ্গে এই মানুষটিকে মেলানো যেতো না। কিন্তু নিজের কাছে ফিরে আসতে এই একাকী ভ্রমণ তাঁর কাছে ছিলো প্রয়োজনীয় অভ্যাস। সিমন দ্য বোভায়ার একবার ইতালীতে আল্পস পর্বতমালার অংশে উঠেছিলেন। সেখানে কয়েকটা দিন একা একা কাটিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে সার্ত্রেকে লেখা চিঠিতে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘এখানে এসে কোনো গভীর দার্শনিক ভাবনায় আমি নিমজ্জিত হইনি। ‍আমি শুধু ভেবেছি পাহাড়ের পাথুরে দেয়ালের কথা, বুনো ফুলের কথা। ভেবেছি আমার দুই পা, পাকস্থলী আর ফুসফুসের কথা’।

তবে সিমন দ্য বোভায়ারের ভ্রমণ যাত্রা শুধুই দেখার জন্য ছিলো না। ছিলো নিজের মনের সঙ্গে বোঝাপড়া করার জন্যও। ছিলো জাঁ পল সার্ত্রের প্রভাব বলয় থেকে বের হয়ে এসে লেখার জগতে আরও বেশি সিমন দ্য বোভায়ার হয়ে ওঠা। মার্সেইলাস

শহরে থাকার সময় প্রতি বৃহস্পতি অথবা রোববার খুব ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতেন সিমন। ওই সময়ে আশপাশের বিভিন্ন পাহাড় তাঁর পরিচিত হয়ে উঠেছিলো। পরিচিত হয়ে উঠেছিলো বৃষ্টি, ঘাস, অরণ্যে পাতা ঝরা আর সব অচেনা বাতাস।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ উইন্ডসুইপ্টঃ ওয়াবকং দ্য পাথস অফ ট্রেইলব্লেইজিং ওম্যান, অ্যানাবেল অ্যাবস
ছবিঃ গুগল  


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box