ওয়েলশ ভাষার কথা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডঃ মাতলুবা খান
প্রভাষক, কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়

১.

(কার্ডিফ থেকে): ওয়েলস আসা অব্দি এই জাতি আর ওদের ভাষা সম্পর্কে যত জানছি, ততোই যেন ওদের সঙ্গে একাত্ম বোধ করছি।

ওয়েলশ ভাষার প্রতি ইংরেজদের আগ্রাসনের ইতিহাস, আর ভাষার প্রতি ওয়েলসবাসীর মমত্ববোধই হয়তো সেই একাত্মবোধের কারণ। স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ড, ওয়েলস আর উত্তর আয়ারল্যান্ড, এই চার জাতিকে এক নামে ‘ব্রিটিশ’ আর তাদের ভূখন্ডকে একসঙ্গে যোগ করে বৃটেন বললেও জাতিগতভাবে যে তারা ভীষণ আলাদা, তা বিশ্বায়নের এই যুগে আমাদের অজানা নয়! তবুও স্বীকার করতেই হয় ওয়েলসে নতুন ডেরা বেঁধে, ওয়েলশদের সম্পর্কে নতুন করে জানছি অনেক কিছুই। ওদের ভাষার সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে আমাদের সংগ্রামের সাদৃশ্য আছে, আবার ওয়েলশ ভাষার প্রতিষ্ঠা, প্রবৃদ্ধি আর সমৃদ্ধির জন্য সর্বস্তরের যে নিষ্ঠা ওদের মধ্যে দেখছি তা আমাকে ভীষণভাবে উদ্দীপ্ত করছে।

কার্ডিফ আসার পর ‘ওয়েলশ ল্যাংগুয়েজ এওয়ারনেস’ কোর্স করার পর থেকে ভেবেছি ওয়েলশ নিয়ে লিখবো। অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে হাঁটতে হাঁটতে নিজের মনে নিজের ভাষায় যে ভাবনাগুলো দানা বাঁধে, ঘরে ফিরে রান্না-খাওয়া করতে করতে তারা হারিয়ে যায়। আজ ক্ষণে ক্ষণেই মনে হচ্ছে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ওয়েলশদের মায়ের ভাষা নিয়ে ভাবনাগুলো না লিখলেই নয়! ব্যাকরণ অনুযায়ী যদিও বিদেশী শব্দের বাংলারূপে শ বা ষ এর ব্যবহার নিষিদ্ধ, নিজের সুবিধার্থেই এই লেখায় আমি স্থান আর ভাষা/জাতি বোঝাতে যথাক্রমে ওয়েলস আর ওয়েলশ ব্যবহার করবো।

২.

ওয়েলশ ইউরোপের সবচেয়ে পুরনো ভাষার একটি। ৪০০ থেকে ৭০০ খ্রীষ্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে ওয়েলশ ভাষা স্বাতন্ত্র্য পায় এবং পরবর্তী শতাব্দীতে আরো সমৃদ্ধ হয়। মধ্যযুগে এংলো-নরম্যান শাসনের সময়েও ওয়েলশ দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৫৩৬ সালে ওয়েলস ইংল্যান্ডের অধীনে আসে, আর ইংরেজি হয় এর একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা। তারপরেও আঠারশ শতকে ইউরোপের অন্যতম সাক্ষর দেশের নাম ছিলো ওয়েলস যেখানে অধিকাংশ লোক ওয়েলশে লিখতে পড়তে পারঙ্গম ছিলো। কিন্তু ১৮৪৭ সালে ওয়েলসের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ইংরেজ সরকার  প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয় “ওয়েলশ জাতি অশিক্ষিত, অলস এবং চোর আর তার মূল কারণ ‘শয়তান’ ওয়েলশ ভাষা।“

সেই সময়ে ওয়েলসে শিক্ষার জন্য ছিলো শুধু ইংরেজী স্কুল যাতে পড়াতেন ইংরেজীভাষী শিক্ষক, অথচ ছাত্রদের সবার ভাষা ছিলো ওয়েলশ। ইংরেজী ভাষাতেই একমাত্র জাতিগত উত্তরণ সম্ভব আর তাই স্কুল থেকে অশুভ ওয়েলশ ভাষার ব্যবহার চিরতরে বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, চালু হয় অভিনব শাস্তি ‘ওয়েলশ নট’ বা ওয়েলশ গেরো।

আপনারা কেউ সেই ওয়েলশ গেরোর কথা শুনেছেন?

ওয়েলশ গেরো আসলে এক টুকরো কাঠ বা গেরোর মতো একটা জিনিস যার গায়ে খোদাই করা থাকতো ডব্লিউ আর এন। দিনের শুরুতে কোন বাচ্চা স্কুলে ওয়েলশ ভাষায় কথা বললেই তাকে গলায় পরিয়ে দেয়া হতো সেই গেরো। এর পরে অন্য কোন শিশু ওয়েলশে কথা বললে গেরো চলে যেতো সেই শিশুর গলায়, এমনি করে সারাদিন শেষে যে শিশুর গলায় গেরোটা পাওয়া যেত, তাকে দেওয়া হতো চরম শাস্তি। শোনা যায়, ১৯৩০-৪০ এর দশকেও অনেক স্কুলে ওয়েলশ গেরো বা বেত্রাঘাত করে শাস্তির প্রচলন ছিলো। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ধীরে ধীরে অবস্থার পরিবর্তন হয়। ১৯৩৯ সালে প্রথম ওয়েলশ ভাষার প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পায় আর ১৯৫৬ সালে শুরু হয় ওয়েলশ ভাষার মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

৩.

১৯১১ এর শুমারি অনুযায়ী, সাড়ে তেতাল্লিশ শতাংশ লোকের ভাষা ছিলো ওয়েলশ, যদিও দুই হাজার বছরের মধ্যে সেইসময়ে ওয়েলশ প্রথম সংখ্যালঘু জনগণের ভাষা হয়। ১৯২১ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় সাইঁত্রিশ শতাংশে। ১৯৬২ সালে নাট্যকার সন্ডার্স লিউয়িস ‘ভাষার ভবিষ্যৎ’ শিরোনামের ভাষণে ওয়েলশ ভাষার বিলুপ্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। সেই ভাষণ সরাসরি ভূমিকা রাখে ‘ওয়েলশ ল্যাংগুয়েজ সোসাইটি’ বা ওয়েলশ ভাষা সংস্থা তৈরীতে, এই সংস্থা ওয়েলশ ভাষা রক্ষায় পরিবর্তন আনার জন্য প্রচারণা করে। ১৯৬৭ সালে চালু হয় ‘ওয়েলশ ল্যাঙ্গুয়েজ এক্ট’ বা `ওয়েলশ ভাষা আইন` যার মাধ্যমে ওয়েলসবাসী আদালতে সাক্ষ্যপ্রদান এবং দাপ্তরিক কাজে ওয়েলশ ভাষা ব্যবহারের অধিকার অর্জন করে।  ১৯৭৭ সালে প্রথম ওয়েলশ ভাষার বেতার চালু হয় আর ১৯৮২ তে সম্প্রচারে যায় ওয়েলশ ভাষার টিভি, ওয়েলশ হয় গণযোগাযোগ এবং বিনোদনের ভাষা। ২০১১ এর শুমারি অনুযায়ী ১৯ শতাংশ লোক এখন ওয়েলশ ভাষায় কথা বলতে পারে, যদিও জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের বার্ষিক গণশুমারির হিসেব বলছে, ২০১৯ এ প্রায় ত্রিশ শতাংশ তিন বা ততোধিক বয়সের মানুষের ওয়েলশ ভাষা বলতে পারছে।

ওয়েলশ ভাষা আইন ১৯৯৩ এবং ওয়েলস সরকার আইন ১৯৯৮ অনুযায়ী দাপ্তরিক কাজে ওয়েলশ এবং ইংরেজীর সমান ব্যবহার প্রত্যাশিত। ওয়েলস দ্বিভাষী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়, আর তার অংশীদার হচ্ছে ওয়েলসের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও। কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ছাত্র যদি ওয়েলশে ইমেইল করে তাহলে স্টাফকে অবশ্যই তার পরবর্তী যোগাযোগ ওয়েলশ ভাষায় চালিয়ে যেতে হবে, ওয়েলশকে এখানে কোনভাবেই ইংরেজী থেকে কম গুরুত্ব দেয়া যাবে না! ওয়েলশ ভাষার প্রচার আর প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে ওয়েলশ ভাষা বোর্ড।  বিভিন্ন বিষয়ের ওয়েলশ ভাষার মডিউল তৈরীতে কাজ চলছে ব্যাংগোর বিশ্ববিদ্যালয়ে, তার একটা বড় কাজ বিষয়ভিত্তিক শব্দগুলোর ওয়েলশ ভাষার প্রতিশব্দ তৈরী করা।

৪.

ভাষা শুধু ভাবপ্রকাশের মাধ্যম নয়, ভাষা চিন্তারও মাধ্যম। আর চিন্তার প্রসারতার সঙ্গে ভাষায় পারদর্শিতার যোগ আছে।

মানুষ স্বাভাবিকভাবেই নিজের মায়ের ভাষায় চিন্তা করে। বলাই বাহুল্য, মায়ের ভাষায় সেটা প্রকাশ সহজ আর চিন্তার কাছাকাছি থাকে। আমরা যখন মাতৃভাষা ভিন্ন অন্য মাধ্যমে পড়াশোনা করি তখন অনেকেই নিজের ভাষার চিন্তাটাকে অনুবাদ করি সেই ভাষায়, তাতে চিন্তার গভীরতায় ছেদ পড়ে না, শুধু প্রকাশের সাফল্য নির্ভর করে সেই ভিন্ন ভাষার পারদর্শিতায়। তবে চিন্তার মাধ্যমটা যদি হয় মাতৃভাষা ভিন্ন অন্য ভাষায়, প্রথমেই চিন্তার গন্ডীটা সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। বঙ্গদেশে জন্মে বাংলার মাটিতে বড় হতে হতে একটা শিশুকে যখন প্রথমে বাংলার পরিবর্তে ইংরেজী শিখতে উৎসাহিত করি তখন আমরা টেরই পাই না যে তার চিন্তার প্রসারতায় বাধা দিচ্ছি।

আমার বাজান সব সময় বলতেন, অন্যের ভাষা জানার প্রথম ধাপ হলো নিজের ভাষাটা ভালো করে জানা, উপলব্ধি করা, ভালোবাসা।

৫.

পিএইচডি লিখতে লিখতে আমি আবিষ্কার করলাম আমার আর আমার ইউরোপীয় বন্ধুদের চিন্তা আর লেখালেখির পদ্ধতিটা একটু আলাদা। আমার পর্তুগীজ বন্ধুর মূল চিন্তাভাবনা পর্তুগীজে, অনেক সময় পর্তুগীজে সে তার গবেষণার লেখালেখিও করে, যুক্তিসহ ব্যাখ্যা সাজায়, আর পরে ইংরেজীতে অনুবাদ করে। একই পদ্ধতি অনুসরণ করে আমার মোটামুটি সব ভিনভাষী বন্ধু, যাদের পড়াশোনা হয়েছে তাদের মাতৃভাষায়। আমি বুঝতে পারছিলাম, পিএইচডি গবেষণার ক্ষেত্রে আমার চিন্তা আর লেখার ভাষা একই, ইংরেজী। ইংরেজীতে স্থাপত্য পড়াশোনার কোন এক পর্যায়ে চিন্তাভাবনাটাও ইংরেজীতে শুরু হয়ে গেল, আমি বুঝতেই পারি নি! সত্যি বলছি তাতে আমার ইংরেজি সমৃদ্ধ হয় নি, কিন্তু গবেষণা লেখার পরতে পরতে মনে হয়েছে যুক্তি সাজাতে, চিন্তার ডালপালা ছড়াতে আমি শব্দসন্ধান করছি, বাক্য খুঁজছি ইংরেজী ভাষায়, কিন্তু পাচ্ছি না আর মায়ের ভাষায় আমি তার সন্ধান করি নি কখনো।

আমার মাঝে মাঝেই মনে হয়, স্থাপত্য বিষয়টা বাংলা ভাষায় পড়লে আমার স্থাপত্যবিষয়ক চিন্তাভাবনা আরো প্রসারিত হতো। বাংলার স্থাপত্য আর স্থাপত্যের ইতিহাসের বোধ আমার সমাজ-সংস্কৃতি-জলবায়ুর আরো কাছাকাছি হতো, চিন্তাভাবনার প্রকাশ আরো সহজতর হতো, সহজ হতো বাংলার মাটিতে বাংলার মানুষ আর শিশুদের নিয়ে একসাথে ডিজাইন করার প্রচেষ্টা। গবেষণার ফলকে নিজভাষার জনমানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারটাও হতো আরও আনন্দময়।

৬.

ওয়েলশের উপর ইংরেজীর আধিপত্য বুঝি, বাংলাকে দমিয়ে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার অপপ্রচেষ্টা বুঝি, কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে শিশুরা বাংলাকে প্রায় দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে শিখছে এই ব্যাপারটা আমি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারি না, মেনে নিতে ভয়ংকর কষ্ট হয়। ‘বাংলায় শিখে কী হবে?’ ঠিক এই উক্তিটা আমি শুনেছি অনেকের মুখে। যে জাতি মহাসমারোহে একুশ উদযাপন করে, সেই জাতি বিশ্বাস করে ‘ইংরেজী’ই উত্তোরণের একমাত্র পথ!

 আমরা কি নিজের ভাষাকে নিষ্পেষণের এক অনন্য ইতিহাস রচনা করতে যাচ্ছি না?

আজকাল অনেকেই ভাবেন ইংরেজী মাধ্যমে পড়াশোনা করলে ইংরেজী ভালো শেখা যায়। অথচ আমার অভিজ্ঞতা বলে, যাদের মায়ের ভাষা ইংরেজী অথচ স্কুলে ইংরেজী ব্যাকরণ শিখেনি, সঠিক ইংরেজী লিখতে তাদের কষ্ট হয়, এমন ইংরেজীভাষীর সংখ্যা ইংল্যান্ডে কম নয়। দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে  স্কুলবয়েসে বাবার কাছে যে ইংরেজী ভাষা আর ব্যাকরণ জ্ঞান পেয়েছি সেটুকুই আমাকে সাহায্য করছে। আর বিদেশে এই সময়ের অনেক বাঙ্গালী একাডেমিকের পড়াশোনা হয়েছে বাংলায়, তারা ইংরেজী লেখায় ইংরেজেদের চাইতে কম যান না।

ঠিক কখন থেকে আমরা ভাবতে শুরু করলাম ইংরেজী মাধ্যমই আমাদের উদ্ধার করবে!

৭.

অনেক বছর ধরে অনেক বারই আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে, বাংলায় কি পারিভাষিক শব্দ তৈরী হওয়া থেমে গেছে? অনেক ক্ষেত্রেই আমরা আজকাল সরাসরি ইংরেজী শব্দটাকেই বাংলায় লিখছি, সেটাকে সহজ মনে হচ্ছে আর ভাষার সহজিয়াভাবই সবার কাম্য। কিন্তু আবার অনেক সময়ই আমি আবিষ্কার করেছি নিতান্তই ব্যবহার না করার কারণে আমি কথা বলা বা লেখার সময় অনেক বাংলা শব্দ আজকাল খুঁজেই পাই না, অথচ বাংলাশব্দের ভাগাড় নিতান্ত ছোট নয়। ‘পরের ভাষায় পোদ্দারি’ করা বাংলা ভাষা রক্ষণশীল নয় আর তাই তার গ্রহণ করার ক্ষমতা অসাধারণ, নতুন বাংলাশব্দ তৈরী সহজই হওয়ার কথা।

বিভিন্ন বিষয়ের তাত্ত্বিক শব্দগুলোর বাংলা পরিভাষা তৈরী করার দায়িত্ব কার উপরে বর্তায়? এই কাজটা কি বাংলা একাডেমীর? আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের? বাংলা ভাষা বিভাগের? নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ নিজ বিষয়ভিত্তিক বিভাগের? আমাদের কি ভাষাবিষয়ক মন্ত্রণালয় আছে? সকল বিষয়ের বাংলা বই তৈরী করার জন্য আমরা কী করতে পারি?

সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহারের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন সালাম-রফিক-বরকত। ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমেছিলেন ছাত্ররা! ঘর থেকে শুরু করে দপ্তর, পাঠশালা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়, দেশ থেকে শুরু করে বিদেশ, সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ব্যবহারে সকল বাঙ্গালির অভিযানে আমিও শামিল হতে চাই।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]