ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি প্রথম টেস্টে

আহসান শামীম

ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রতিশোধের মিশনে কাল শুরু প্রথম টেস্ট চট্রগ্রাম জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে। ইন্জুরী থেকে ফিরে আবারও ইন্জুরিতে পড়ায় তামিম দলে অনুপস্থিত। সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরছেন অধিনায়ক সাকিব, ওপেন করবেন ইমরুলের সাথে নতুন করে দলে ফেরা সৌম্য বা মুমিনুলের যে কোন একজন।ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের হয়ে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেছিলেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে প্রথমবারের মত টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন সাদমান। ধৈর্য্য  নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে খেলে আসছেন ঘরোয়া প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে। অভিষেক হতে পারে নাইমুরেরও।অধিনায়ক সাকিব ইঙ্গিত দিলেন দলে থাকবে একমাত্র পেসার মুস্তাফিজ।স্পিনেই ভরসা সাকিবের।উইকেটের ব্যাপারে অধিনায়ক  সাকিব মনে করেন দুই দলই উইকেট থেকে ভাল সুবিধা আদায় করতে পারবে।

বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানদের অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে বরাবরই সমস্যায় পড়তে হয়। অফ স্ট্যাম্পের বাইরে পিচ করা বলগুলোতে ড্রাইভ কিংবা খোঁচা দিতে গিয়ে দলের প্রায় সব ব্যাটসম্যানই উইকেট বিলিয়েছে।সাকিব, সৌম্য, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ, মুমিনুলদের নিয়ে অনুশীলন আর সর্তক করা হয়েছে ওসব বল না খেলার জন্য।২০১৮ সালের পরিসংখ্যান ঘাটলে অনেকটাই স্পষ্ট এমন বলে সবচেয়ে বেশি আটবার আউট হয়েছেন , অন্যতম অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। পাশাপাশি ২০১৮ সালে অফ স্ট্যাম্পের বাইরের সবচেয়ে বেশি ১৮৭ বল মোকাবেলাও করেছেন মুশফিক, এসব বলে রানও নিয়েছেন ৯৬। এছাড়া অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল আর সাকিব আল হাসান ২০১৮ সালে অফ স্ট্যাম্পের বাইরে পিচ করা বলে আউট হয়েছেন চারবার।লিটন দাস, নুরুল হাসান সোহান , মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও এসব বলে তাঁদের উইকেট বিলিয়েছেন চারবার করে। বাংলাদেশের টেস্টের অন্যতম অভিজ্ঞ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মমিনুল হক এই বলগুলোতে আউট হয়েছেন তিনবার। ২০১৮ সালে এই বলগুলোতে সবচেয়ে সফল ইমরুল কায়েস আর মোহাম্মদ মিঠুন।ভালভাবেই মোকাবিলা করেছেন এই সব বল, একবারও অফ স্ট্যাম্পের বাইরে পিচ করা বলে আউট হননি এই দুই  ব্যাটসম্যান।

বাংলাদেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দুই দলের বোলিং বিভাগের শক্তি দুই জায়গায়। সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম এবং মেহেদী মিরাজদের নিয়ে বাংলাদেশের রয়েছে বিশ্বমানের স্পিনার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রয়েছে কিমার রোচ, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল এবং কিমো পোলদের মতো গতিদানবরা।ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট বাংলাদেশের মাটিতেও তার পেসারদের উপর ভরসা রাখছেন। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের বোলার সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিয়েই মাঠে নামতে চান তাঁরা।

কিমার রোচ, যিনি বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছেন ৬ টেস্ট। বোলিং করেছিলেন ১১ ইনিংসে। যখনই  বল হাতে আক্রমণে এসেছেন তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের মূল্যবান সব উইকেট।বাংলাদেশের বিপক্ষে তাঁর সংগ্রহ ৩০ উইকেট।উইন্ডিজ গতিময় বোলার গ্যাব্রিয়েলও বাংলাদেশের বিপক্ষে দুর্দান্ত, আট ইনিংস বোলিং করে ২২.০৭ গড়ে তুলে নিয়েছেন ১৩ উইকেট।ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ,গতিতে গুড়িয়ে দিতে চায় বাংলাদেশ দলকে।যদিও উপমহাদেশের উইকেটে ক্যারাবিয়ানদের অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর নয়।

ওয়েষ্ট উইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয় করতে পারলেই বাংলাদেশ টেষ্টে পয়েন্ট তালিকায় এক ধাপ এগিয়ে আটে উঠে যাবে।ওয়েষ্ট উইন্ডিজ নেমে যাবে নবম স্থানে।

ছবিঃ গুগল