কনভারসেশন উইথ কাফকা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গুস্তাভ জানুখ

‘কনভারসেশন উইথ কাফকা’ নামে তার প্রথম এবং শেষ বইটি প্রকাশিত হয় ১৯৫১ সালে। লেখকের নাম গুস্তাভ জানুখ। এখনকার চেক রিপাবলিকের বাসিন্দা এই মানুষটি যতদূর জানা যায় জীবনে আর কোনো বই লেখেননি।

ফ্রানৎস কাফকার সঙ্গে কিশোর গুস্তাভের প্রথম দেখা ১৯২০ সালে। তিনি তার বইতে লিখে রেখেছেন এভাবে, ‘তখন ১৯২০ সাল। কাফকার সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ হলো।’ বাবার হাত ধরে কাফকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন গুস্তাভ। সে দিনের কথা পরে জানিয়েছেন, ‘মানুষটা রোগা আর লম্বা, কালো চুল ব্যাকব্রাশ করে আঁচড়ানো।’

কৈশোরে কবিতা লিখতেন গুস্তাভ। বাবার ভয়ে সেগুলো লুকানোই থাকতো। একদিন হঠাৎ করে বাবার হাতে পড়ে গেলো ছেলের কবিতাগুলো। ছেলে ভেবেছিলো বাবা এগুলো দেখে রেগে যাবেন। কিন্তু তার ধারণা ভুল হলো। বাবা একদিন তাকে ডেকে জানালেন, তার লেখা কবিতা ভালো লেগেছে।আর তিনি লেখাগুলো পড়তে দিয়েছেন ডক্টর কাফকাকে।কাফকার নাম শুনে গুস্তাভ বেশ অবাক হয়ে প্রশ্ন করেছিলো সেদিন,

‘ডক্টর কাফকা কে বাবা?’

‘ম্যাক্স ব্রডের বন্ধু।’ বাবার উত্তর ছিলো এরকম।

গুস্তাভ উত্তর শুনেই চিনে ফেলেছিলেন সেদিন কাফকাকে।

‘বলো কী! উনি তো ‘মেটামরফোসিস’ লিখেছেন। আমি পড়েছি, দারুণ গল্পটা। তুমি তাকে চেনো?’

ছেলের বিষ্ময় দেখে বাবা তাকে জানিয়েছিলেন, কাফকা তাদের অফিসে আইন বিভাগে কাজ করেন।

কাফকা লেখাগুলো উল্টেপাল্টে দেখে গুস্তাভকে নিয়ে যেতে বলেছিলেন তার কাছে। প্রথম দেখায় খুব অদ্ভুত ভাবে গুস্তাভের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিলো কাফকার। বয়সের দূরত্ব সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। এরপর গুস্তাভের সঙ্গে প্রায়শই দেখা হতো কাফকার। আর সেইসব সাক্ষাতের বিবরণ গুস্তাভ ছোট ছোট করে লিখে রাখতেন।

গুস্তাভ তার বইতে লিখেছেন, ‘বাইরে থেকে গম্ভীর দেখালেও রসিক মানুষ ছিলেন কাফকা। মজা করতেন প্রায়ই এবং সেই মজাগুলো ছিলো শ্লেষাত্নক ও মেধাবী ধরণের।’ গুস্তাভ জানুখ তার নোটে লিখেছেন, ‘চমৎকার কথা বলতেন কাফকা এবং গুছিয়ে বলতেন।’

কাফকা ১৯১৭ সাল থেকেই ভুগছিলেন যক্ষায়। আর তখন থেকেই অফিসের কাজকর্ম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছিলেন। গুস্তাভ লিখছেন, ‘আমাদের দেখা হতো প্রায়ই। কিন্তু নিজের লেখা নিয়ে খুব একটা কথা বলতেন না কাফকা।আর যদি হতো তা ছিলো খুব সংক্ষিপ্ত।

‘আপনার ‘ভারডিক্ট’ গল্পটা পড়ছিলাম।’

‘ও। ভালো লেগেছে?’ জানতে চান কাফকা।

‘লাগবে না! কী যে বলেন। দারুণ গল্প!’

‘হু। ঠিকই বলেছো।’ কাফকার সংক্ষিপ্ত উত্তর।

সেদিন গুস্তাভ কাফকার কাছে গল্পটার বিষয়ে দু’এক কথা শুনতে চেয়েছিলেন। উত্তরে অন্যমনষ্ক লেখক বলেছিলেন, ‘ওটা হচ্ছে একটা রাতের ভূত। রাতের বেলা এলো। দেখলাম ওর ঝাঁড়ফুক দরকার। তাই আর কী, লিখতে হলো।’

গুস্তাভ বুঝেছিলেন সেদিন কাফকা নিজের লেখা নিয়ে খুব বেশি কিছু বলতে চান না। কিন্তু সেদিন কাফকার পেছন ছাড়েননি কিশোর গুস্তাভ। জানিয়েছিলেন গল্পটা পড়ে তার কাছে এক ধরণের দুঃস্বপ্ন বলে মনে হয়েছে। কাফকা উত্তরে খুব অদ্ভুত কথা বলেছিলেন তাঁর কিশোর বন্ধুকে।

‘ওই যে স্বপ্ন, যার কথা তুমি বলছো, এতেই বাস্তবকে বোঝা যায়।এই জিনিসটাই হচ্ছে জীবনের ভয়, শিল্পের আতঙ্ক।’

বাবা মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ গুস্তাভের জীবনে দুঃস্প্ন হয়ে নেমে এসেছিলো। কোথাও কোনো শান্তি নেই। গুস্তাভ গেলেন কাফকার সঙ্গে দেখা করতে। তাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে ঠাণ্ডা করেছিলেন বয়স্ক বন্ধু। কাফকার সেদিনের কথাগুলো লিখে রেখেছিলেন গুস্তাভ।

‘এসব ঝামেলা এড়াতে যেও না। এড়াতে পারবে না। বরং খুব নজর করে দেখো, খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ যখন পেয়েছ। যত খারাপ-ই হোক, তোমার ওপর দিয়ে চলে যেতে দাও। জীবনে বড় হতে পারবে।’

১৯২৪ সালে স্যানেটরিয়ামের বিছানায় রক্তবমি করতে করতে মারা গেলেন ফ্রানৎস কাফকা। দেয়ালে ঝোলানো ক্যালেন্ডার জানাচ্ছিল তারিখটা ৩ জুন। গুস্তাভ তার বইতে লিখেছেন,‘খবরটা আমি পাই কুড়ি তারিখ নাগাদ। এক চিত্রকর বন্ধুর চিঠিতে।’ আর পারিবারিক দুঃসময় বইতে না পেরে গুস্তাভের বাবা আত্মহত্যা করেন ১৯২৪ সালের মে মাসের ২৪ তারিখ। এই ঘটনার ঠিক একুশ দিন পর চোখ বন্ধ করেন কাফকা।

গুস্তাভ লিখছেন,

‘একুশ দিন পর…

একুশ দিন…

তখন আমার ঠিক একুশ বছর বয়স। আমার যৌবনের দুটো দিগন্ত ছিলো, আবেগ আর মননের। সে বছর দুটোই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়লো।’

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ ফিচার
ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]