কফিখানার টেবিলে…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সামনে ধুমায়িত কফির পেয়ালা রাখা। কফিখানার একটা টেবিল ঘিরে বসে চলছে তুমুল আড্ডা। গল্পের সেই ফুলঝুড়ির মাঝেই কাউকে দেখা যাচ্ছে লিখছেন বা লেখা সম্পাদনার কাজ করছেন।

জাঁ পল সার্ত্রে

কখনো কফিখানার কোনো নির্জন কোণ বেছে নিয়ে কেউ লিখে চলেছেন নিবিষ্ট হয়ে। এরা সবাই সাহিত্যিক, বিশ্বসাহিত্যের তারকা। এভাবেই তারা একদা সৃষ্টি করেছেন তাদের অসাধারণ সব লেখা। ক্যাফেতে বসে লিখেছেন জাঁ পল সার্ত্রে, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, টি.এস এলিয়ট, সিমন দ্য বোভায়্যার থেকে হালের জে.কে রাউলিংস পর্যন্ত।

ফরাসী দার্শনিক, সাহিত্যিক জাঁ পল সার্ত্রেকে সবসময় পাওয়া যেত প্যারিস শহরের বিখ্যাত ‘কাফে দ্য ফ্লোরা’ নামের কফিখানায়। ভাবা যায় সার্ত্রে এক মনে বসে লিখছেন আর তার উল্টোদিকের টেবিলে বসে সিমন দ্য বুভায়ার তখন লিখছেন তাঁর আলোচিত উপন্যাস ‘শি কেম টু স্টে’। এখানে বসেই সার্ত্রে বিখ্যাত ‘বিয়িং অ্যান্ড নাথিংনেস’ বইয়ের খসড়া তৈরি করেছিলেন।

হেমিংওয়ে

হেমিংওয়ের প্রিয় শহর ছিলো প্যারিস। তাঁর মৃত্যুর কয়েক বছর পর প্রকাশিত হয় আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘এ মুভেবল ফিস্ট’। ১৯২০ সালে তিনি প্যারিসে বসবাস করছেন। ক্লোজারি দ্য লেইলা নামের এক ক্যাফেতে বসেই এই উপন্যাসটি শেষ করেন তিনি। শোনা যায়, এই কফিখানায় ফিটজেরাল্ড স্কট তাঁকে পাঠ করতে দিয়েছিলেন তাঁর উপন্যাস ‘গ্রেট গ্যাটসবি’ উপন্যাসের খসড়া।এখানে শার্ল বোদলেয়ার থেকে শুরু করে জাঁ পল সার্ত্রে ছিলেন নিয়মিত আড্ডাধারী। হেমিংয়ে ‘দ্য সান অলসো রাইজ’ উপন্যাসে প্যারিস শহরের আরেক বিখ্যাত ক্যাফে রোতন্দে‘র কথাও লিখেছেন। এই শহরের ম্যাগট ক্যাফের কথাও বারবার এসেছে হেমিংওয়ের লেখায়।

জে.কে রাউলিংস

ইতালির অ্যান্টিকো কাফে গ্রাকো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো ১৭৬০ সালে। রোম শহরের সবচাইতে পুরনো এই কফিখানায় নিয়মিত আসতেন ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ উপন্যাসের রচয়িতা মেরী শেলি আর তাঁর স্বামী কবি পার্সি বিশি শেলি। এখানে বসে লেখা সম্পাদনা করতেন হান্স ক্রিশ্চিয়ান এন্দারসেন।

স্কটল্যান্ডের একটি ছোট ক্যাফে এবং পাব। নাম তার এলিফেন্ট হাউজ। এই ক্যাফের পেছন দিকে ছোট একটি নির্জন ঘরে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটিয়েছেন হ্যারি পটার সিরিজের লেখক জে. কে রাউলিংস। এখানে বসেই তিনি লিখেছেন হ্যারি পটার সিরিজের প্রথম উপন্যাসের সবগুলো চরিত্রের কাঠামো।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ ইউনিভার্সড কালচার, বুকস টেল ইউ হোয়াই
ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments Box