কবিতা চার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

রূপা ফারজানা

 এই শহরের মৃত পাখিরা

এই শহরের মৃত পাখিরা ফিরে ফিরে আসে
আমাদের উড়তে শেখাবে বলে
প্রতি বোশেখের খররোদে তেঁতে ওঠে
আমাদের চটকদার ডানাজোড়
আমরা উড়তে শিখিনি আজও।
আমরা জুড়ে গেছি মিনারের নকশায়,
স্মৃতি জাদুঘরের কাঁচ-বন্দীশালায়
আমাদের উড্ডীন অনুকৃতি।
আমরা উড়তে শিখিনি তবু
এই শহরের মৃত পাখিরা ফিরে ফিরে আসে
আকাশে প্রদোষকালে নীড়হারা
যৌবনের গল্পগাঁথা ছাপিয়ে।
ঝড়ের শেষে মাটির অম্লতায়
মুড়িয়ে যাওয়া বটপাতার গহীন বুনটে
আমাদেরও প্রয়াণের পালাগান।
এই শহরের শত শত মৃত পাখিরা ওড়ে
আমাদের পক্ষাঘাতের গ্লানি আর
গুরুভার শবদেহ মৃত পাখিদের ডানায় লুকায়।

নুসরাত সুলতানা

  ব্যবচ্ছেদ 

কি জানতে চাও?
ব্যবচ্ছেদ কর আমার শরীর,
ব্যবচ্ছেদ কর যাপিত জীবনের ইতিহাস,
দলিল দস্তাবেজ যা আছে সব ব্যবচ্ছেদ কর।
কিন্তু আমার মনকে ব্যবচ্ছেদ করতে যেও না!
না তুমি তার কূলকিনারা পাবে,
না তার তুমি তার রঙ বুঝবে।
সে সকালে সবুজ তো বিকেলে বেগুনী!
রাতে গাঢ় নীল!
কখনো তো চাওনি তাকে ছুঁয়ে দেখতে,
তাকে নিয়ে ভেবে আর কি লাভ!
তুমিতো জাননা আমার মন সমুদ্রে ;
কোন মাঝি সাম্পান চালায়!!
তুমি আমার জীবন,শরীর  আর যাবতীয় দলিলের মালিক।
মনের মালিকতো নও,
সুতরাং তাকে তুমি ব্যবচ্ছেদ করো না!

শওকত আহসান ফারুক

বস্তুতঃ

শীতকাল চলে গেছে শেষ রাতের ট্রেনে
প্যাটফর্মে কলার খোসা ছুঁড়ে ফেলে নব্য বালিকা,
পরনে তার স্কুলের ইউনিফর্ম
সে জানে,
পিচ্ছিল কিছু ফেলতে নেই পাবলিক প্লেসে
এক ডজন ভেড়ার বসবাস এই স্টেশনে।

বালিকা বড় হয় বুকে বসন্তের বুকলেট।

গত শীতে চোলাই মদের পাত্রে,
জমিয়ে রেখেছি অভিমান, শেষ ট্রেনে যাচ্ছি…
ওড়নায় বেঁধে রেখেছো অাশ্বিন, নতুন পয়সা ও বৃষ্টির ঠিকানা।

গিট খুলে বৃষ্টি দেখে
তারপর স্তনের বোঁটায় শিউলি ফুলের রঙ মেখে কাঁচুলি ছুঁড়ে ফেলে,
অভিমান ভাঙবে!

বস্তুতঃ এ’দেশের মানুষ এখনো নাগরিক হয়নি।

এস আফ্রোদিতি মিলান

আবার যদি ফিরে আসি 

মানুষ এর মন বড্ড অদ্ভুত তাই না বলো
এই তো কিছুদিন আগেও ট্রেনের সাড়াশব্দ পেতাম না ট্রেনে উঠার
আগেও ! আজকাল অনেক রাতেও ট্রেনের কু ঝিকঝিক শব্দে মন ছুটে নিরুদ্দেশপুরের ঠিকানায়!! আকাশের পর আকাশ মেঘের পর মেঘ ছেড়ে , সামনের পথ পিছনে ফেলে নাম না জানা অদ্ভুত সব স্টেশন রক্তধারা বাড়ই সিংহলা
দীর্ঘতম হুইসেল আর কু ঝিকঝিক শব্দে ছুটে ছুটে চলা !
কতটা পথ আমার জানা নেই; কতটা পথ পেরিয়ে তোমার ঠি কা না তাও জানিনা!
রুদ্রমন আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখলেও ,
তোমায়  আমি মন ঠি কা না য় লিখি
যে ঠিকানা তুমি আমায় দিয়েছিলে…!!!
দেখো একদিন সমস্ত পাগলামীতে  দীর্ঘ আকাশ পেরিয়ে মেঘে ভেসে ঠি ক চলে আসবো ঠি কা না না জেনেও…! তোমার পদধূলি মাখা রাঙা পথটা ঠি ক চিনে নেবো ; শত ভিড়ে ঠি ক চিনে নেবো মায়াবী তোমার মুখ!!

মায়া জিনিস টাও অদ্ভুত একবার আটকে গেলে কোনো পিঁছুটানে মন আর ফিরেনা….

রাজর্ষি আমি কোন মায়ায় জড়িয়েছি জানিনা
তোমার সাথে দেখা হবে না এ জীবনে এটা বলেছো তুমি,
যদি হাজার বছর পর আবার ফিরে আসি
জীবনানন্দ বাবুর বনলতার গল্প
কিম্বা চই চই ডাকা সেই হাসের গল্প থাকবে কি সেদিনও

একই রকম পাগলামী নিয়ে যদি ফিরেই আসি
শ্যাওলার প্রলেপে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কিছুও কি রবে আজকের স্মৃতি নিয়ে
আমার গল্প বলা দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে
তোমার গল্প শোনা মিটিমিটি হাসিতে
তোমার বকে দেয়া শাষণে বারণে রবো কি আমি সেদিনও

অশান্ত ঝড়ো হাওয়া মন
নেশাতুর সময় দিন শেষে….!!
ফেরা কি হবে একই পথে

 

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]