কবিতা পাঁচ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

কানিজ সাপি

আমি ভালবাসতেও জানি

দোর্দণ্ডপ্রতাপ পৃথিবীতে আত্মগৌরবের

মধুস্বাদ রক্তের ভিতর নিয়ে
জন্মেছি এ ভূমিতলে।
পুরুষাধিপত্যবাদী বৈরীতার ভেতর
স্বতন্ত্র আত্মশাসিত
সার্বভৌম আমি।
কে আমি?
আমি পুরুষ —
আমি বিদ্যুৎলতা বিষাদ ফুঁড়ে জন্মেছি।
শেকলে বাঁধা সমুদ্রে আটকা চপলাদের
সাজানো প্রকোষ্ঠের চাবির রূপক
হতে পারি এক ঝটকায়।
আমি লৈঙ্গিক বৈষম্যতার সমস্ত কলকব্জার নারীর হৃদয়ঙ্গম প্রতিনিধির
প্রতিপক্ষ আমি।
আমি যদি বলেছি তোমায় ভালবাসি —
তাহলে আমার পৌরুষ চোখ দিয়ে
হৃদয়রাজ্য জিতে নিতে পারি।
এই আমি কামাতুর পৌরুষত্ব চোখ জারি করলে শতশতবার কামড়ে
খেতে পারি চোখের ধর্ষণে।
একবার যদি আমার পৌরষত্ব দেখানোর থাকে কোন ছুঁতো
সহবাসের মগ্ন নগ্ন মুহুর্ত,
একা পেয়ে কোন নির্জন নিভৃতে।
হিংস্রতা নিয়ে মগ্ন হই নগ্ন দেহটাকে
শকুনের মত ছিঁড়ে খাওয়ার
ধর্ষণের নির্মম খেলায়।
অনেক সময় একা নয় কয়েকজন মিলে
নির্দ্বিধায় মনুষত্বহীনতায়।
উত্তপ্ত আগ্নেয়গিরির দুর্নিবার লেলিহান,
আমার চিরকালের খোলস
জন্মলগ্ন থেকেই।
আমি কি শুধুই হিংস্র দানব?
আমি ভালবাসতেও জানি
আলিঙ্গনে জড়িয়ে স্বর্গীয় সুধা দিতে জানি নরম ভিজে ঠোঁট ছুঁয়ে।
তুমি শুধু আমার আমিত্ব জাহিরকে বড় করে দেখ না।
আমিত্বের কঠোর খোলসের মাঝে আছে নরম তপ্ততা।
সেই নরম বিশ্বাসের শেকলে বন্দী হয়ে
কাটাতে পারবে অনন্তকাল।

 

 

সাবরিনা শারমিন চৌধুরী

বারবনিতা পুরুষ

উৎকলিত ঠোঁটের ভাঁজে দেখেছিলাম তার
মহুয়ার নিষিদ্ধ মোহ এক।
লুকানো রইলোনা চপল চোখের গোপন বিদ্যুৎ।

দীর্ঘ ও শেষ কথোপকথনের সে রাতে
বেদনার সেতার বাজিয়ে অলকানন্দা হৃদয়ে আমার
আমি শুধুই দেখেছিলাম অপলক
একজন মোহন পুরুষের গোপন প্রেমে আত্মাহুতির আনন্দ।
দীর্ঘ ও শেষ কথোপকথনের রাতটিতে
একটি কথাই বলেছিলাম অম্লান হেসে –
“রূপবন্ত পুরুষ, তোমায় মুক্তি দিলাম”।

 

নুসরাত সুলতানা

পুরুষ

আমি নার্গিস
বয়স ১০ বছর
আমার ও আছে মাটির ঢিবির মতো নিতম্ব
লাঠির মতো উরু, মৃত খালের মতো যোনিদেশ!
আছে গোলাপ কুঁড়ির মতো স্তন,
ছুঁয়ে দিতে পারো
কোলে বসিয়ে
আদর করার ছলে,
জন্মেছি আমি তোমাদের ভোগের একটা
শরীর নিয়ে!
অতঃপর আমার মৃত্যু লোভনীয় বিক্রয় পন্য হবে;
পরিবারের কাছে,
কবিতার রসদ হবে কবিদের!
তুমি কে?!
কাপুরুষ?!
বাবা, ভাই স্বামী এসবও?!
তাহলে তোমার চেহারা কেন
পুরুষের মতো?!
এই যেমন ধর;
ক্ষুদিরাম, রুমি, নূরহোসেন!
হ্যাঁ আমি কাপুরুষ বটে
তবে পুরুষের চেহারা আর পোশাক নিয়ে
অনায়াসে মিশে যাবো
পুরুষের ভীড়ে;
অতঃপর সময়ে ও সুযোগের
ছিঁটেফোঁটা পেলেই
যখন তখন
বারংবার
হয়ে উঠবো
মাংসাশী কাপুরুষ!
ঘৃনা তোমার এই টিকটিকি জন্মকে!

 

ফারহানা হুদা নিপা

বন্য আকাঙ্ক্ষা 

আমি তোমায় ভালোবাসতে এসেছি
তোমার ছোঁয়া, প্রেমালিঙ্গন শিহরণে
আদরে আদরে বিভোর হতে চেয়েছি
মাদল মৃদঙ্গে উত্তাল ভাসাতে এসেছি।

অনেক অনেক লজ্জার বাঁধ ভেঙ্গে
রক্ষনশীলতার সেই আব্রুকে সরিয়ে
একটু একটু করে তোমাকে আমার
সমস্ত আমিকে, সবটুকু নির্যাস ঢেলে
অপার সুখে ভাসাবো বলেই এসেছি।

স্পর্শের সম্পূর্ণ অধিকার তোমায় দিতে এসেছি
ভালোবাসার বৃত্তটাকে আকাশ করতে এসেছি!

আমার নারীত্বের পরশ, জমিয়ে রাখা সব আদর
তোমার কপাল, চোখ, ঠোঁট, গাল, চিবুক
চুম্বনের নেশায় রাঙিয়ে দিয়েছি লোমশ বুক!

এতটা আদরের নেশায় আগে কখনোতো পায়নি
এতটা স্পর্শপাগল ঘোর আগে কখনো লাগেনি
আমার ভেতরের জমানো সব আদরেরা আজ
বাঁধ ভেঙেছে উপচে গেছে প্লাবন ছড়াবে বলে!

অথচ এতোটা আলিঙ্গন, উদ্দামতার ঝড় পেরিয়ে
কি তীব্র তুমি বলে উঠলে — “কিছুই হয়নি আমার!
মনিকার মতো মেহনে পারঙ্গম হও যদি শান্ত হই,
নিচেৎ অর্থহীন তোমার সকল সঙ্গম কলা।”

তাকে কি চিনি! হয়তো চিনি হয়তো না,
খবরের শিরোনাম সে তো অতি খ্যাত বিদেশিনী।
আমি যে বুকভরা ভালোবাসায় এক প্রেমি বাঙালিনী!

— না, না, এ আমি পারবোনা। এমন চাওয়ার মুখে
ভূপাতিত হবো, আগে তো কখনো ভাবিনি!
— সারা পৃথিবীর চল, আর তোমার অপারগতার ছল।
— ওসব পারবো না, সবাই সবকিছু কখনো পারে না।
— সবাই দিব্যি পারছে, অমন ভাবনা শুধু ভুল দোহাই।
— দুনিয়া বুঝিনা, আমি তোমার ভালোবাসার মানবী!
তোমার প্রেমাস্পর্শে ধন্য হবো, এটুকুই চাই!
এর বেশি অতোখানি কাম নয় ক্লিষ্টতা আমার চাইনা।
— তবে তুমি অচল হে নারী, তোমায় দিয়ে আমার চলবেনা !

— আমি যে এতখানি আদর ভালোবাসা তোমায়
অকৃপণ উজাড় করে দিলাম, তাতে তুমি তৃপ্ত নও?
— এ তো অতো বড় কিছুনা! আর আমি যা চাইছি
তা জগতের চল, নিত্য চাহিদা, সব সুন্দরীরা পারে
অথচ তুমি তা একটুও জানবেনা, তাতে হয়!
সব শ্রম চৌষট্টির সকলে শেষ তুমি তবে শূন্য।
এ পারবেনা তবে তো তুমি অসুস্থ সেকেলে রমনী!
— আমার নয় শূন্যই থাক প্রাপ্তি খাতায়, আমি নয়
সরল সিধে নারীই থাকি, যে কিছুটাও বন্য নয়।

— না। এভাবে চলবে না। একদম না। একটুও না।
— কেন তুমি আগে বলনি, তোমার বন্য নষ্ট আকাঙ্খা !
নিজের সবটা উজাড় করে দিয়ে আমি সব হারালাম,
সব ছেড়ে এসে, ভালোবাসার জমানো সব অর্ঘ্য
প্রেম আদর সোমত্ত মন্থন তোমায় শূন্য যখন আধার
আজ পেলাম আমি অক্ষমতার তিলক আটা তিরষ্কার !

এই কি প্রেম! এই কি কাম! এই কি সেই অনাঘ্রাত
আরাধ্য গন্ধম, এই বুঝি সঙ্গমের আধুনিক শহরণ!
এ তো স্রেফ ইচ্ছে আর অস্তিত্বের চিরনিমজ্জন !
শরীরের নামে ভালোবাসার নামে নারীত্বের অবমাননা।

তুমি তবে প্রেম চাওনি, ভালোবাসা চাওনি
অতটা প্রাণ উজাড় করা আদরে তুষ্ট হওনি?
কেমন পুরুষ তুমি—
শুধুই বন্য তুষ্টি চেয়েছিলে,
ভালোবাসা বুঝি সেই কলুষ নিমজ্জিত দহন
মেহনের নামে শুধুই ইচ্ছে ও অস্তিত্বের প্রহসন ?

সকল যখন ভেসে গেলো ভালোবাসার চোরা স্রোতে
আজ কী করে পাবো হারানো প্রেম, হারানো সম্মান
আমি কী করে ফিরিয়ে নেবো আমার অনুভুতিদের,
হারানো সেই আমাকে পাবো আর ফিরে কখনো !

তোমায় যে পূর্ন অধিকার দিয়েছিলাম আমাকে ভালোবাসার
এতটা তিরষ্কারে নারীত্বের অবমাননায় কেন করলে প্রেম চুরমার?

থাক তবে এইসব ভালোবাসা মনিকা মোড়কে
চলি আমি তবে নিজেকে ফিরে পাবার সাধনাতে!

 

 

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]