কবিতা পাঁচ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

রূপা ফারজানা

 অরিত্র আমায় দেখে রাখিস 

    অরিত্র মেঘ করেছে ঘনঘোর

দেখা যায়?

জলের তোড়ে ভেসে যাবে তোর

এক জোড়া পিঞ্জরাস্থি।

অরিত্র এই যে আমি

আটকে আছি চতুর্থ মাত্রায়

দেখা যায়?

তুই আমাকে বিষ্যুদের নবম ঘণ্টায়

ঝুলিয়ে রেখে চলে গেছিস গত পরশু।

‌অরিত্র আমার গায়ে বুটিদার সাদা জামা

দেখা যায়?

পান্না সবুজ ওড়নাটা এখনও তোর

সাইকেলের পেছন সিটে পড়ে আছে!

অরিত্র আমি একটুখানি আলো জ্বেলেছি

এবার দেখা যায়?

শরবিদ্ধ গ্রাফিতির কপালে একটা টিপচিহ্ন আছে।

অরিত্র এখানে বাতাস নেই এক ফোঁটা

আমি তোকে ডাকছি খুব জোরে

শোনা যায়?

অরিত্র একটা মৃদু গন্ধ আছে,

আঁশটে কিংবা সোঁদা

পাচ্ছিস?

অরিত্র আমার সাদা জামায় একগুচ্ছ রক্তজবা

দেখবি?

অরিত্র একটা আধমরা বকুল গাছ,

মনার্কের ডানায় চোখ আঁকা রয়েছে

ভালো করে চেয়ে দেখ না একটু!

চোখের স্লেটে একটা কিছু লেখা আছে

পড়া যায়?

অরিত্র এখানে কুঁচোনো বরফ

ঠাণ্ডা তীক্ষ্ণধার একটা কিছু,

দেখেছিস?

অরিত্র ওটা কি জলের দাগ?

চারপেয়ে কি বিড়াল নাকি মানুষ ওটা?

অরিত্র তুই কি কাঁদছিস?

অরিত্র তুই হাসছিস?

অরিত্র তুই কি দেখে রাখবি আমায়?

হোসনা মুরাদ কেয়া

দূরত্ব 

   আঙুলের সাথে আঙুলের কাটাকাটি খেলায়

করতলের কাছে হেরে যাওয়া বিষাদের গন্ধ এখনো লেগে আছে —-

প্রেমানন্দ উৎসব বাড়ি আজ

মৌনতার মৌতাতে মগ্ন বিরহী স্থায়ী নিবাস

 

তোমার পাঠানো হাতের লেখারা–

পৃথিবীর চূড়ায় কাঁটা তারের বেড়ায় অবরুদ্ধ,

কোন এক কোজাগরী পূর্ণিমায় হয়তো এসে পৌঁছাবে;হয়তোবা ফসিল হবে হাহাকারের

অতল গহ্বরে–

 

স্বপ্ন মন্দিরের বেদিতে তুলে রেখেছি

তোমার দ্বিধা, ঠোঁটের আড়ষ্টতা এবং দীর্ঘশ্বাস-

শব্দাতীত শব্দরা  কড়া নেড়ে যাবে মনের দুয়ারে,

অনুভূতির একক অনুরণনে

অনাদিকাল তুমি থাকবে

নিশ্বাস ও নোলকের দূরত্বে

ফারহানা নীলা

মৃত্যুর মত আঁধার

    

ইছামতি নদীর তীরে কিছু মায়ার তরী আটকে আছে অনন্ত চরাচরে
কিছু বিয়োগান্ত অধ্যায় ডুবে আছে মরা নদীর চিলতে বুকে
সব হয়তো ভুলে গেছি জীবনের গতিপথে ক্রমাগতভাবে খুব অনায়াসে।

কাগজের নৌকায় ভাসিয়েছিলাম যে চিঠি ক্ষণিক আবেশে
ভাবনার ভিন্নতা হয়তো সেদিন ভাবিয়েছিল অক্লেশে
সব হয়তো মিছে চাওয়ার ভুলের কারণে নিজেকে বোঝাই খুব নিবিড় অনুভবে।

আজও ইছামতীর আঁকাবাঁকা রেখার বাঁকে
খুঁজি জীবনের অলিগলি ঘোলাটে চোখের পলকে
মৃত্যুর মত রাত ঘনিয়ে আসে বিপন্ন কোনো বোধে খুব আলগোছে।

রুহেনা চৌধুরী

 স্বার্থপর মন

তোমার সাথে সম্পর্কের  আগে আমি একটুও স্বার্থপর ছিলামনা

তোমার সাথে সম্পর্কের পরও আমি এতটুকু স্বার্থপর হইনি

কিন্তু যেদিন থেকে তোমার অস্তিত্বে আমি বিলীন হলাম

তোমাকে ভালোবাসার অপরাধে মলিন হলাম

ঠিক সেইদিন…সেদিন হতেই আমি স্বার্থপর হতে শুরু করলাম..

তুমি খুব অবাক হচ্ছ আমার মনের কার্পন্য দেখে

আজকাল আমাকে খুব আবোলতাবোল মনে হয় তোমার তাইনা !

তুমি প্রায়শ: আতংকিত হও ভবিষ্যত ভেবে…

আমিও অবাক হই । তোমার আচরণ , কাটানো মূহুর্ত দেখে

বলতে পারো ! ঠিক কতটা পেয়ে গেলে বা হারালে মানুষ অকৃতজ্ঞ হয়…

কতটা অপমান, অভিমানে স্বার্থরা দানা বাঁধে !

আমি কাঙালিনী ..শুধুই তুমিই কারণ

আমি বিবস্ত্র কলংকিনী..তুমিই কারণ

আমি এককোণে পরে থাকা বিবর্ণ কাঠামো মাত্র

সেওতো…তোমারই কারণ

তবে তুমি অতলে ভাবনা মগ্ন হও কেন ?

 

তুমি যখন জানতে চাও ঠিক কোন পোশাকটায়

তোমাকে পার্টিতে লাগবে ভীষণ স্মার্ট ..আমি অবাক হই

তুমি যখন খু..উ..ব উচ্ছাসে নিজের আনন্দটুকু বলে যাও অকপট

….আমি অবাক হই

আমাকে অবাক করে তোমার সাজসজ্জা , দর্প

কারণ…তোমার জন্য আমার দর্পচূর্ণ হয়েছে বলে

আমি তখনই স্বার্থপর হই ,যখন বন্দীত্বে আমার মৃত্যু নেমে আসে

আমি ছায়াহীন পরছায়া , উপরে খোলস ভেতরে যমের কায়া

কখনও কখনও যমদূতকেই তোমার চেয়ে আপন ভাবি

বলবো কেন ???

অন্তত: ধুকে ধুকে মারার চেয়ে এক নিমিষেই সে সব কষ্টের

অবসান দিতে পারবে বলে….

একমুঠো ঘৃণার অন্তরালে , তোমার “আশ্চর্য “রা আজ গুমরে মরে..

শমীক ব্যানার্জী

 অন্তস্বার 

কখনো বন্ধুর, কখনো সমতল,  সেই জীবনের অর্ধেক কিংবা একটু বেশি পথ পেরিয়ে

আমরা প্রায় সবাই

পূর্ব আর উত্তর পুরুষের

মাঝখানে বর্তমান,

এক সেতুবন্ধ হয়ে !

 

কারোর  বাবা, কারোর  মা,

কারোর বাবা ও মা দুজনেই

বৈতরণী পেরিয়ে সেই পরলোকের খেয়ায়,

কেউ বা শেষ খেয়ার প্রতীক্ষায়,

নীরবতাকে সাথে নিয়ে!

 

কেউ বা জীবনের আহ্লাদে

সঙ্গমের বৃন্তে,

স্পর্ধিত ইচ্ছে এই যে অনন্তকাল রয়ে যাক সেই সূরার নেশার

রঙিন রক্তে!

কিন্তু মহাকাল কি

সেই মর্জি মানে ?

সময়ের সাথে আমরা উল্লাসে ভেসে যাওয়া কিশোর-কিশোরী বা

তরুণ-তরুণী নয়,

আবার হতাশায় নুয়ে পড়া

বৃদ্ধ – বৃদ্ধাও নয় বর্ণনার পাতায় ;

 

মনের ঝাঁপিতে সম্ব্রিদ্ধ

স্মৃতি ও  অভিজ্ঞতা

আমাদের স্থিতধী করেছে,

দুঃখ্যের সুনামি আজকাল আর

আমাদের পারে না ভাঙতে;

বাঁধভাঙা উচ্ছাসও

ভাসিয়ে নিয়ে যায় না মোহনাতে,

আমরা জ্ঞাত যে

সকল মেঘই সিঁদুরে নয়,

সব পলাশেই

প্রেমের রঙ থাকে না,

বাস্তবে সব চকচকে সোনালী

বস্তুই সোনা হয় না !

 

জানি সব শুরুরই কোনো একটা শেষ থাকে,

আবার সব শেষেরই শেষে থাকে

একটা শুরু;

আমরা মধ্যে হিংসে নেই এখন,

কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝড় নেই গুরুগুরু!

অভিমানী মনটা শুধু

ঝলকে ওঠে সহনে গহনে,

আবার বান্ধবের  আবাহনে

সব অভিমান মিলে যায়

শরতের পেঁজা তুলোতে!

 

আমরা এক হৈ শুধু মেলার আনন্দে,

ভেসে যাই স্মৃতির স্মৃতিলেখা বেয়ে,

ঠাট্টা, হাসি আর গল্পের সাথে  আবার হেঁটে যাই আগামীর দিকে,

বুকভরা সেই জ্বালানি নিয়ে!

 

আমাদের উত্তরসূরিরা

কেউ পড়ুয়া, কেউ চাকুরে,

কেউ বিবাহযোগ্য বা যোগ্যা,

কেউ বা বিবাহিত আজ,

নাতি-নাতনির মুখও

আছে কারোর লাজ!

এখনও আমরা সন্তানকে

আগামীর পথ চেনাই

অভিজ্ঞতার আলো দিয়ে,

যা একদিন আমরাও পেয়েছিলাম

মা-বাবার স্পর্শ নিয়ে!

 

এই সকল জীবনতত্বের মাঝেও

মনের ভেতরে নেচে চলে

ছন্দময় এক ইচ্ছেনদী,

সে কি অপূর্ণ কোনও স্বপ্ন,

অপরিণত প্রেম, নাকি লিখতে না পারা কবিতার পংক্তি?

 

জানা নেই, জানা নেই, সত্যি জানা নেই,

জীবনের জ্যামিতি টা কারোরই জানা নেই………

শ্রাবণী জুঁই

 বিষণ্ণতার জবানবন্দি

জামানত বিহীন অভিমান দাঁড়িয়ে থাকে মধ্যম জীবনে

যেন একটা বিরাম চিহ্ন

যেন পথের মধ্যিখানে একটা মস্ত দেয়াল

যে দেয়াল জুড়ে ফুটে থাকা কাঁটা গুল্মের উজ্জ্বলতায় চোখ অন্ধ হতে চায়,

যেন বলতে চায় একা হও, একা হও

একা হয়ে যাও….!

 

লিখিত জবানবন্দিতে বিষণ্ণতা বলেছিল

প্রতিবার মানব জন্ম অস্বীকার করেছি

প্রতিবার উপেক্ষা করেছি যাপিত জীবনের ভার

তবুও কি পরিহাস দেখো

বার বার মানুষ হয়ে জন্মাতে হয়

অথচ আমি অনন্ত যৌবনা নদী হতে চেয়েছিলাম

স্রোতস্বিনী তন্বী তরুণী এক নদী হতে চেয়েছিলাম

তবুও কি পরিহাস দেখো

বার বার মানুষ হয়ে জন্মাতে হয়

বার বারই করতে হয় বৃত্তাকার ভ্রমণ।

 

জামানত বিহীন অভিমানে বিষণ্ণতা নদী হলেও হতে পারতো

যেমন হতে পারত সীমানা হারাবার প্রবল উল্লাস!

তবুও কি পরিহাস দেখো

বার বার মানুষ হয়ে জন্মাতে হয়

বার বারই দেয়াল ভাঙতে হয়….

 

 

 

 

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]