কবিতা পাঁচ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

 

নুসরাত সুলতানা

নোনাজল হৃদয় 

কাকে তুমি ভালোবাসো?

আমার কবিতা?

আমার রঙ মাখানো ঠোঁট?

নাকি সমুন্নত স্তন?

আর সুডৌল নিতম্বকে?

নাকি আমার সেবা?

আমার প্রেম?

আমার শরীরে আছে গর্ভদাগ!

আত্মায় আছে গর্ভপাতের ক্ষত!

মনে আছে বিদ্রোহ, বিপ্লব!

আর আছে ফোঁকলা দাঁতের শিশুর

স্পর্শের লোভ,

সদ্য জন্ম নেয়া ছাগল ছানাকে জড়িয়ে ধরার মোহ!

আছে মানুষ ভজার দুর্বিনীত আকাঙ্ক্ষা।

কূল ভাঙা স্রোতের মতো

নোনাজল হৃদয়!

যদি পারো প্রেমের সাধনা করতে;

ভালোবেসো নোনাজল হৃদয়টাকে!

অমিতা মজুমদার

এ যুগের খুকী ও কাবুলিওয়ালা

খুকী এদিকে এসো তো ,

কেন কাকু ?

আরে আগে এসো তো দেখি,

কি বলবে তাড়াতাড়ি বলো- মা আমায় ডাকছে।

এই দেখো তোমার জন্য কি সুন্দর লালাফিতা আর চুড়ি এনেছি,

তোমার প্রিয় চকলেটও আছে।

না কাকু, মা বলে দিয়েছে কারো কাছ থেকে কিছু না নিতে,

আজকাল নাকি কাকুরাও সব কেমন হয়ে গেছে !

একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিঁনি,

নিজের শ্বেতশুভ্র শশ্রুতে হাত বুলাতে বুলাতে একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন !

তারপর নিজের মনে নিজেই বললেন,

বিধাতা আমাকে দয়া করেছেন।

আজ যদি আমি জন্মাতাম ,

তাহলে “কাবুলিওয়ালা” কি করে লিখতাম !

পূর্ণনারী রূপে  কনে সাজের মিনুর সাথে কাবুলিওয়ালার দেখা হবার আগেই ,

শিশুকন্যা মিনুর যে বিসর্জন হয়ে যেত অকালেই।।

কতো আশা করে লিখেছিলাম “ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ “!

আজ তো লিখতে ইচ্ছে করছে ,মানুষকে বিশ্বাস করাটাই অপরাধ ।

শওকত আহসান ফারুক

আমি ঈশ্বর দেখিনি

একবার ইচ্ছে হয়েছিল পাহাড়ে বসবাস করে
অমন একটি মেয়ের সাথে ভাব করবো,
মিষ্টি ঝর্ণার মতো উচ্ছল একটি মেয়ে, তাকে নিয়ে কবিতা লিখবো
হাতে হাত রেখে পাহাড়-চূড়ায় বসে থাকবো,
শীর্ণ তন্বী, সেই মেয়েটি আমাকে হয়তো ভালোবাসবে
পাহাড়ের গল্প শোনাবে।

অতঃপর, একদিন আমি পাহাড়ে ভ্রমনে গেলাম।

এই পাহাড়ে সেই পাহাড়ে…
উচ্ছ্বসিত সেই ঝর্ণাকে আমি তন্ন তন্ন করে খু্ঁজছি…।
তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা ছুঁইছুঁই, এলোচুল মেঘে মেঘে।
ঠিক তখনি দূরে, অদূরে আমি তার দেখা পাই
আনমনে আকাশের গায়ে কাশফুল হয়ে ফুটে আছে।

মেয়েটি পাহাড় থেকে ইশারায় ডেকে নিল,
‘–কি খুঁজছো তুমি এই দুর্গম চরাচরে, এক্ষণি রাত আসবে জোনাকি আলোয়,

আজ আকাশে চাঁদ নামবে কি?’

তোমার নূপুরধ্বনি হৃদয়ে তোলপাড়
একটি কবিতা লেখা হয়েছিল সেই রাতে, বর্ণে গন্ধে ছন্দে,
একটি কবিতা লেখা হয়েছিল, জোনাকি পাখা আবছায়া।
এই হাতটি ধরে দু’জনে হারিয়ে গিয়েছিলাম,
দূরে, আরো দূরে ওই পাহাড়ে, ছোট্ট একটি স্রোতস্বিনী নদীতে।
নদীর নামটি শঙ্খ, সন্ধ্যা কিংবা ঘুঙুর।

তখনই প্রস্ফুটিত ঠোঁটে, ঠোঁট রেখে, বলেছি, তুমি সুন্দর!
ভালোবাসা নামে, সেখানে একটি রাত্রি যাপন করি।

তুমি খুলে দিলে সব বসন, হতবাক হয়ে তাকিয়ে রই, নিরাভরণ শরীর জুড়ে তখনই অপরূপা জোছনা নামে।

আমি ঈশ্বর দেখিনি, আমি তোমাকে দেখেছি।

শায়িমা আক্তার রুমা

মুঠো অনুভূতি

ধরো, রাতের ঐশ্বর্যে গর্জে উঠা সমুদ্র,

অসংখ্য তারা আর নক্ষত্রের নিস্তব্দতায় ঢেউয়ের উচ্ছাস।

রুপালীতে কি দারুন মোহ !!

মাঝে মাঝে গাংচিল উড়ে যাওয়া

নোনা জলে ভেজা শাড়ি

অজানা শিহরন।

এমনই কোনো সুন্দরী রাতে দুঃসাহসে যদি বলি-

“চলো, আজ সারারাত বন্দী হই রুপালি আলোর কারাগারে ” তুমি কি রাগ করবে ??

নাকি কপালে আলতো চুমু এঁকে বলবে-

“চলো, তাই হোক, ছুঁয়ে যাক নীল আকাশ ”

 

ধরো, অষ্টাদশী নদীর তীরে ছোট্ট কোনো গ্রাম

সেথায় তোমার আমার ছোট্ট মাটির ঘর।

খুব নির্জন কোনো সন্ধ্যা

সিঁদুর মাখা আকাশ,

আর কেবলই উঁকি দেয়া অষ্টপ্রহর পূর্ণিমার চাঁদ।

এমনই কোনো জোছনায় মাখামাখি সময়ে যদি বলি-

“চলো, দুজন মিলে পুকুর জলে পা ডুবিয়ে

মায়াবতী চাঁদ দেখি” তুমি কি বিরক্ত হবে ??

নাকি শক্ত করে হাত ধরে আদর মেখে বলবে-

“চলো, আলোর জোয়ারে ভেসে যাই, স্পর্শে নামুক নীরবতা”

 

ধরো, কোনো এক শ্রাবন মেঘের দিন

ছন্নছাড়া বিকেল।

আমি নীল পেড়ে শাড়িতে, রিমঝিম কাঁচের চুড়ি আর কপালে সিঁদুর টিপ।

হুডখোলা রিক্সায় তুমি আমি,

সিগারেটের ধোয়া উড়ানো তোমার ক্লান্ত মুখ।

এমনই কোনো ঝড়ো হওয়ায় কাপন দেয়া বৃষ্টিতে যদি বলি-

“চলো ভিজি, আকাশ ভাঙা জলে” তুমি কি বকা দিবে ??

নাকি কোমর জড়িয়ে আর একটু কাছে টেনে বলবে-

“চলো, মাতাল বাতাসে উড়িয়ে অধর ছুঁয়ে নিক বৃষ্টি”

 

ধরো, সোনাঝুরি আলো ছড়ানো কোনো রাত

সোনারঙ পাহাড়

চারিদিকে বুনো ভাঁটফুলের গন্ধ।

প্রজাপতির রঙ্গীন ডানায় স্বপ্ন ছড়ানো উড়াউড়ি

আর একধারে পাথুরে ইচ্ছেপূরণ ঝর্না।

এমনই কোনো স্বপ্নময় ঘোরলাগা সময়ে খুব আবেগে যদি বলি-

“চলো, চাঁদের শরীর চুইয়ে রুপালি আলোয় মাখামাখি কোন এক নিবিড় প্রকোষ্ঠে তোমার বুকে মাথা রেখে রাতের চাদরে জড়াবো” তুমি কি অবাক হবে ??

নাকি উষ্ণতায় জড়িয়ে ধরে বলবে-

“চলো, আজ সময় শুধু নেশাতুর, মাতাল হওয়ার”

নূর হোসেন আল কাদেরী 

নূর হোসেন আল কাদেরী

বাষ্পীভূত ইকোনমিক্স

ক্ষুধার্ত কবিতা যেনো এক টিকেটে দুই ছবি।

শব্দ গুলো সব প্রেমিকার ঠোঁট-

পান করে যাই আমি কফিশপে গোপন আঁতাত।

স্তনের ভাঁজে লুকানো চিঠি আর

জমানো কিছু টাকায় চলে হেলেনের সংসার।

হেলেন! প্রিয় হেলেন!

তোমার চর্বি যুক্ত নরম ত্বকে বাষ্পীভূত ইকোনমিক্স

হুমড়ি খেয়ে উল্টে পড়ে রাষ্ট্র, কবি ও কবিতা;

বিমূর্ত চিত্রকলা খুঁজে পায় অমরত্ব আবার।

নিলামে ওঠানো হয় তোমার স্তনের মাপ

ছুড়ে ফেলে দিয়ে লুকানো চিঠি আর জমানো টাকা।

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]