কবিতা পাঁচ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

মাহমুদ খুরশিদ

এক চুমুক প্রেম

অবিচ্ছিন্ন ভালোবাসায় মূর্ত,
আচ্ছন্ন নোনা লাবণ্যে আচ্ছাদিত চুম্বনের রেশ।
উদ্দীপ্ত, উচ্ছল, উত্তাপ ছড়ানো –
উদ্বেল স্পর্শে দাপিয়ে ওঠা,
অকুতোভয় নিরেট হৃদয়।
সান্নিধ্যকাতর, দগ্ধ, বিদগ্ধ দহনে
দীপান্বিত, অনাবিল তাগিদের –
স্বস্ফুর্ত প্রবাহন,
অস্তিত্বখনন –
উষ্ণ, সিক্ত, অনুভূতির অবগাহনে,
এক চুমুক প্রেম!

শওকত আহসান ফারুক

কিছু বলবে কি

মধ্যে রাতে ডাক দিলো, সেই পুরানো চাঁদ
চলো একটু বাইরে যাই।
সেই পুরানো চাঁদ আকাশ জুড়ে তোমার কথাই বল্লো।
মিষ্টি মেয়ে, মিষ্টি মেয়ে, জলের মেয়ে মেঘবতী।

এই নব আশ্বিনে তোমার রূপেরঘটা
বিমোহিত উচ্ছাসে ভাসিয়ে দিলো যাবতীয় প্রান্তর।
এ’কোন অচেনা মুখ?
চিরচেনা প্রেমিকার অধরে অঝোর প্রেম
অব্যাহত বিশ্বাসে প্ররোচিত, ‘তুমি সুন্দর, আমি ভালোবাসি।’

গভীরতম রাতে, একটি কবিতার অন্বেষণে
যূথচারী ভালোবেসে নষ্ট হলো,

তুমি কিছু বলবে কি?

শমীক ব্যানার্জী

 বুদ্ধিজীবী

বুদ্ধিজীবী,
উন্নত শ্রেণীর গুণীজন আমাদের সমাজে;
কিন্তু ভাসমান জঞ্জাল,
ভেসে চলে শুধুই স্রোতের অভিমুখে !

আপন বাক্য আর লেখনীর তান্ডবে
তোলপাড় করে তোলে পত্রিকার পাতা,
কিন্তু বাস্তবে অস্তিত্ব বজায় রাখার অছিলায়
কূটনীতির পরাকাষ্ঠা !

মঞ্চের স্লোগান আর ভাষণ শুনলে
মনে হয় কোনো গগনভেদী বিপ্লব,
সামাজিকতার আড়ালে পরিচয়টা ভীষণ ই অবাস্তব!

নীতিকথা না মেনে বোঝে শুধু নিজেরই স্বার্থ,
তার জন্য সব কিছুই তখন যথার্থ;
হড়কা বানে যখন স্রোত পাল্টায়
মুখোশ খুলে বেরিয়ে পড়ে ব্যক্তিত্বের মর্মার্থ !

সোনার চামচ মুখে নিয়ে বাস্তবিক বাচাল,
শেষে আবার সেই ব্যাকরণ
এক ভাসমান জঞ্জাল !

সা’দ জগলুল আববাস

 চোলাই জীবন

প্রাণের চোলাই পান করে বেসামাল বোধ
বের হয়ে আসে কালের পকেট থেকে সুখী সুখী চেহারা নিয়ে,
যুগল মুখোশ –
একখানা ফিটফাট ড্রাইক্লিনিং হয়ে আসা,
অন্যটি বহু পঠিত প্যাপারব্যাকের দোমড়ানো আবেগী মলাট –
ওদের হাতে রাখা হাত,পাশাপাশি কাছাকাছি,
প্রগাঢ়-প্রণয়-চুম্বনরত, যেন তারা মৃত্যুন্জয়ী।

অথচ এরা কি জানেনা
সময় জুড়ে দেয় প্রেম এবং মৃত্যু- এরা অনুবন্ধী।
দিনরাত শলাকায় ঘুর্ণয়মান পরিশ্রান্ত,দিকভ্রান্ত বাতপতাকার মতো।

প্রেম টেনে নিয়ে আসে মৃত্যু , অভিসম্ভাবী সময় টোকা দেয় দ্বারে ;
বিচ্ছিন্নতার শোকে তখন কেন কাঁদো, দূরবীনে চোখ রেখে দেখো নাবিক
মৃত্যুর জরা ছাপিয়ে থাকে সমান্তরাল-সহগামী সৌন্দর্য অপার !

নুসরাত সুলতানা

৩৪ বছর

৩৪ টি বছর কত কথা বুকের সোকেসে বন্দী রেখে
চলে গেলে অসীমের ওপারে!
আমি কোথায় পাবো সে অমৃত বানী?
হতে পারে কবিতা, গল্প,অথবা গান।
জলধির কাছে শুধাই যেয়ে,
বলে কি গেছে তোমাকে কিছু?
জলধি জানায়;
না তবে অই না বলা কথা পরিমাণ বিদ্রোহ
জমা আছে মোর বুকে।
অদ্রি কে শুধাই জানো কি কিছু;
আমার দুখুর না বলা কথাগুলোর?
অদ্রি বলে,না ঐ পরিমাণ মৌনতা নিয়ে
আছি দাঁড়িয়ে ঠায়।
ইথার কে জিজ্ঞাসি
আছে কি তোমার কাছে
দুখুর না বলা কোন কথা জমা?
ইথার জানায় আমায়,
নেই কিছু,তবে অতখানি শুন্যতা ই আমার পূর্ণতা।
অতঃপর ব্যার্থ মনোরথে ফিরি
নিজ মনের কাছে।
মন রে শুধাই;
কি করে আমি জানবো
৩৪ টি বছরের না বলা কথা।
মন বলে,এই ধুলো ঝড়ের পৃথিবী ছেড়ে
যেদিন নক্ষত্রের দেশে তোমাদের দেখা হবে।
যুগ যুগান্তর চোখে চোখ রেখে শুনে নিও সব!

 

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]