কবিতা পাঁচ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

শওকত আহসান ফারুক

তোমার জন্য

১.

তোমার জন্য একটু কষ্টবোধ হয়,

আমি চাইনি অন্য হাত ধরে যাও

উপসাগরে

দক্ষিণে…?

সি বিচে দাঁড়িয়ে তুলে নাও বিষের পেয়ালা

কামরাঙা ঠোঁটে।

২.

তোমার জন্য আজ কিছু করুনা

বালিয়াড়িতে ফুল হয়ে ফুটে।

তোমার কাছে একটি প্রশ্ন,

অগ্রহায়ণের রাতে তোমার শরীর জুড়ে

জোনাকিপোকা কেন জ্বলে?

জ্যোৎস্না হয়ে…!!

 

সাবরিনা শারমিন চৌধুরী

হঠাৎ খুব কান্না পেলে

হঠাৎ খুব কান্না পেলে হবো ধবল মেঘ, খরতাপে শুকাবে ক্ষত

মরচে ধরা ইচ্ছেগুলো বিদায় দেবো তখন

হঠাৎ খুব কান্না পেলে মুক্ত বলাকা হবো, আকাশেই হবে ঠাঁই

গন্তব্য হারাবো, যাপন করবো না রাজহংসীর ক্লান্ত জীবন।

হঠাৎ খুব কান্না পেলে অন্তরে গহীনে নেমে আসে অজস্র গ্ল্যাসিয়ার

এবার তারা আসুক ধেয়ে, বাধা দেবোনা কিছুতেই

হঠাৎ খুব কান্না পেলে দু’চোখে যদি ফুঁসে ওঠে নায়াগ্রা

খুব তাকে পাত্তা দেবো, হোক জলে নিমজ্জিত আমার আঁধার

হঠাৎ খুব কান্না পেলে প্রশ্রয় পাবে না আর বুকের নিঃসঙ্গ ব্যাথাটা

প্রেসক্রিপশন আর রির্পোটগুলি জ্বালিয়ে দেবো

হঠাৎ খুব কান্না পেলে শুনবোনা কারো কোনো বিধি উপদেশ

ভীষণ চীৎকারে এবেলা প্রলয়ের ঢেউ হবো।

হঠাৎ খুব কান্না পেলে মুঠোফোনে খুঁজবোনা অপেক্ষার অবসর

নীল পোস্টবক্স হবো রাস্তার মোড়ে

হঠাৎ খুব কান্না পেলে অভিশাপ দেবো যত আছে ভুল সরোবর

প্রশান্তির নিদ্রা হবে পাড়ভাঙ্গা তীরে।

হঠাৎ খুব কান্না পেলে

মরচে ধরা ইচ্ছেগুলো বিদায় দেব তখন

গন্তব্য হারাবো, যাপন করবো না রাজহংসীর ক্লান্ত জীবন।

 

আফরিন আহমেদ

বৃষ্টিবৃদ্ধ দিনে

‘সেদিনও এমন বৃষ্টি ছিল, মনে পড়ে?’

“আমার কেবল ফুলতোলা শালের কথা মনে

আছে। তখন ইউনিসেক্স বলে কিছু ছিল

না। ফুল, লতা পাতা এসবই ছিল মেয়েদের

পরিধেয়।  এমন কিছু ছেলেরা পরলে

হাসাহাসি হত খুব।”   ‘ তুমি হেসেছিলে

বুঝি?’৷  “আমি অতটা না। অহনা হাসতে

হাসতে বলেছিল, ওরে বাবা, ভাগ্যিস প্রেম

হতে হতেও হয়নি। বাকি জীবন ফুলেল

শার্ট প্যান্ট দেখা থেকে বেঁচে গেলাম।”    ‘অহনা?’

“হ্যাঁ। ও মনে মনে তোমাকে বেশ পছন্দ

করত। পছন্দের একটু বেশিই করত।”   ‘কই

বলো নি তো আগে…’    “বলবটা কখন?  দেখা

হলেই তো ফুল লতা পাতার কাব্য নিয়ে

ব্যস্ত হয়ে পড়তে শোনাতে।”    ‘ও, ছেলেরা

তবে কাব্যচর্চা করতে পারে ফুল পাতা

নিয়ে, গায়ে চড়াতে পারে না।’    “পারে না

কে বলল?  তুমি পরেছ না?  কেউ কি কিছু

বলেছে?”    ‘সামনাসামনি বলোনি। আড়ালে

হেসেছো।’    “আমি না। অহনা।”    ‘অহনাটার

খবর জানো? কোথায় আছে এখন?’    “এখানে

আছে। বত্রিশ নম্নর রুমে। খুব একটা বের হয়

না নিজের রুম থেকে।  তাই তোমার সাথে দেখা

হয়নি হয়তো এখনো।”  বৃষ্টিভেজা ওল্ডহোম

আর এর বারান্দায় বৃষ্টির ছাঁটে অল্প ভিজে

দুজন মানুষই অহনার অপেক্ষায় থাকে।

এস আফ্রোদিতি মিলান

এক আকাশ ভালোবাসাময়

 আকাশে আমি কেবল-ই ভালোবাসার ছায়া দেখি…

দলে দলে ভেসে যাওয়া, ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছুটে চলা মেঘেদের দল,

সব ছন্নছাড়া!

তবুও

আমি কেবল-ই ভালোবাসার ছায়া দেখি!!

তুমিও আকাশ দ্যাখো জানি , ভালোওবাসো

কিছু টা ভিন্নতা অভিন্নতায়

তবুও কি ছায়া খুঁজে পাও ভালোবাসার?!

আমার শরৎ তোমার যেনো কি?!

আমার বৃষ্টি জুড়ে কৃষ্ণচূড়া

তোমার যেনো কি

তোমার গল্পগুলো বলো না ক্যানো হুউ?!

আকাশ জুড়ে মেঘের খেলা আমার বড্ড ভালোলাগে

মনে হয়

যেনো ভেসে ভেসে ঐ তোমার কাছেই যাচ্ছে ছুটে

আবার যেনো অন্য দলেরা মনে হয় বুঝি ঐ এলো তোমার বার্তাবাহী হয়ে…

কি অদ্ভুত সব ভাবনা যে মন জুড়ে..

হঠাৎ ভাবনা থমকে যায়

ভালোবাসার ছায়া

ভালোবাসিনা

আবার যেনো ভালোবাসি

ভুল ভাবনার ব্যাবচ্ছেদ…

এই তোমার গল্প গুলো বলো না ক্যানো.. ?

তোমার হেঁটে যাওয়া পথের গল্প

আকাশের মেঘের গল্প

গহীনে লুকোনো ইচ্ছে গুলো…

তোমার না বলা গল্পগুলো মেঘ হয়ে ভেসে ভেসে

তোমার ভালোবাসি না বলায় আকাশ টা মন বুঝে

ভালোবাসার ছায়া হয়ে আমার আকাশে!!

এই তুমি গল্প নিয়ে আসবে তো?!

উঁহু মেঘে ভেসে ভালোবাসার ছায়া হয়ে

কিম্বা বৃষ্টিজল নিয়ে নয়…

দু-মুঠো বিকেল নিয়ে..

তোমার গল্প জুড়ে

এক

আকাশ

ভালোবাসাময়…

ফারহানা ফিরু

তোমার আহবানে 

 কৌতূহল ভরা চোখের আকুলতায় কবে যে ডুব দিলাম!

মায়াময় সম্ভাষনে কলরববোধ্য কোমলতায়

নীলিমামাখানো স্নেহগুলো আর্দ্রতায় ভীজে কাতর।

একাকী পাখির সুর বাজে

    গুনগুনভরা হৃদয়বাক্সে

নীলাকাশে সাদা টগর ফুটে

    আনমনা করেছে বিভোলে।

বিষিত কষ্টের ছায়াচিত্র স্থীর যেন

লুকোনো কান্নার তাল্লাটে,

দুঃখের মাঝেতো শিল্প খুঁজিনি

সুখের আঁচে শিশিরবিন্দু ভোমরার মতো ছিটে।

ভয়ে তোমার গলা কাঁপেনি

     কাঁপেনি অধর কাঁপেনি হাত

প্রকাশগুলোকে তবে মুঠোভরে এনো

    বিনীতবিদ্ধ বিনাশে।

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]