কবিতা পাঁচ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

আবুল হাসনাৎ মিল্টন

সম্পর্ক

– তোমার শহরে এখন বুঝি মধ্যরাত? নাকি মুগ্ধ সন্ধ্যা?

– আমার শহরে এখন সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই

– প্রাকসন্ধ্যায়
হঠাৎ জানতে ইচ্ছে করলো
কেমন আছিস তুই?

– বাহ! চমৎকার বললেন তো
একেবারে কবিতার ঢঙ্গে
– কখনো কখনো কবিতাই মূখ্য হয়ে ওঠে
বিশেষ করে যখন ডুবে থাকি
প্রণয়ের রঙে।

– কী করছেন? আমি চা পান করছি
– আমি চা পান করি না, চায়ের পরিবর্তে
আমার ইচ্ছে হয়
শীতের কুয়াশা ভেদ করে
কারো ঠোঁট পান করি।

– চা ঠোঁট শীত কুয়াশা ওম এগুলো জড়ো করে খুব সুন্দর কবিতা হবে
আমি সেই কবিতাটি পড়বার জন্য
অপেক্ষায় রইলাম।

– আমার কবিতা পড়বার মত সময়
আপনার আছে?

– তাই মনে হয়? কবি কি জানে না
তার কবিতার জন্য
তরুণী কতটা উদগ্রীব হয়ে থাকে?

– আচ্ছা, কবিতার পরিবর্তে আজ তোমাকে
একটা গল্প বলি। একবার এক তরুণী
সমুদ্র সৈকতে ইচ্ছে করে তার
চুলের ক্লিপ ফেলে রেখে এসেছিল।

– তারপর?
– তার আর পর নাই। এটা একটা ছোট গল্প।
– মানুষের জীবন তো ছোট ছোট অসংখ্য গল্পের সমাহার।

– আজ কী হয়েছে আপনার? কখনো
তুই, কখনো আপনি, কখনো তুমি!
– আজ নয়, কদিন ধরেই ভাবছি।
আপনার সাথে আমার সম্পর্কটা আজো
অনির্ণীত রয়ে গেছে।

 অচলতার কাব্য

পারিসা ইসলাম খান

কখনো সরেজমিনে, যেয়ে দেখা হয়নি
কি চাষ হয় মনের জমিনে l
অপেক্ষায় উপেক্ষায় কিভাবে ক্রমশ –
ম্লান হয় চকচকে আদমসুরত l
কখনো ভেবে দেখার অবকাশ হয়নি,
শব্দের গতি, আলোর চেয়ে বেশি হলে
মেঘের গর্জন শুনেই, সাবধান হওয়া যেত,
চোখ পুড়তোনা বজ্রঝলকে l
হৃদ-সমতল উজাড় করে,
না বুঝেই, নামহীন শস্যের বীজ বুনে গেছি,
শ্রমে-ঘামে বিলীন হতে হতে,
ভাগ্যিস ফসলের হিসাব কষিনি l
বাতাসের উস্কানি, মেঘেদের কলরব
ঝড়ের তান্ডব আর বৃষ্টির অপার স্নিগ্ধতা,
পুষে রাখা পোষায়নি যখন,
কোথাও কোনো সুর কেটে গেলে,
জড়তার নাম দিয়ে ভাগ্যিস এড়িয়ে গিয়েছি l
বিপণনের ব্যস্ত বাজারে, অচল হওয়ার দাম
বড় বেশী বাজলে হৃদয়ে,
কবিতার পাতায় গিয়ে মুখ লুকিয়েছি l
দাবি-দাওয়ার নথি ঘেটে,
জানা উত্তরের খোঁজে, ভাগ্যিস প্রশ্ন করিনি l
ভাগ্যিস সরেজমিনে, যেয়ে দেখিনি
কি চাষ হয় মনের জমিনে l

 ঝরাপাতা

ওয়াহিদা মিশা

মনে পড়েনি তা না
রাখবনা মনে তাও না
এ পথেই তো ঝরাপাতা…
মনে পড়া না পড়া নিয়ে
অযথা ভাববনা তাও না…

ঝরাপাতা পথ ধরে
কোন এক আদিম শান্ত নদীর
পার দিয়ে হেটে যাব…
ঝরে গেছে সবুজের দিন
বুকে তার জীর্ণ কারুকাজ…

‘সেইসব শুকনো পাতা পায়ে সরিয়ে
চলে যাব নিজ গন্তব্যে
মনেও রাখবনা আর’
হবে না এমন…বুকে তার ধরে রাখব সব
একদিন চলতি পথে হয়েছিল দেখা…

  শামুক মানবী

নূর নাহার তৃপ্তি

আর আমি কবিতায় মুখ গুঁজে দিয়ে

খুঁজি রোমাঞ্চ,
ভেতরে বইতে থাকা সমস্ত শব্দকে উপেক্ষা করে
আমি খুঁজে ফিরি কিছু বিলাসী দুঃখ!
আমি তোমাদের উপস্থিতি অগ্রাহ্য করে
ভুলে যেতে যাই অতীত, বর্তমান আর অনাহূত ভবিষ্যৎ।
আমি খুব সহজ সমাধান বের করে প্রবোধ দিই নিজের ভেতর বইতে থাকা পক্ষপাত পূর্ণ আসক্তিকে,
হয় চারপাশে এরা মুখোশ আর আমি একাই মানবী পৃথিবীর মাঝে,
নয়তো চারপাশে মানুষ আর আমি একাই ইডিয়ট!
সহজ সমাধান বটে!
তবুও ব্যালেন্স সিট মিলে যাওয়ার শিহরণ বয়ে যায় না কেন?
কেন শব্দরা গলায় কাঁটার মতো বিঁধতে বিঁধতে ঘা করে দেয়।
সব অনুভূতি গিলতে গিয়ে গলার ক্ষতে আটকে গিয়ে আরও অন্তর দহন হয়!
চারপাশে প্রতিটা মুখে, প্রতিটি চোখে উদ্দেশ্য নামের ভীষণ স্বার্থবাজ এক অবয়ব,
ঠিক যতখানি বলে,শুনে, করে হাসিল হয় আমিত্ব!
আমি! আমি! আমি!
ভীষণ রকম এক ভাইরাসে সংক্রামিত পৃথিবী!
অসংখ্য বিভাজনের মধ্যে দিয়ে খুঁজে ফেরী করে নিজস্ব আগ্রহ!
ন্যায় শব্দটা ভীষণ রকম প্রহসন!
আস্তিক, নাস্তিক, ধর্ম অধর্ম,সাদা কালো, অর্থ বিও বৈভব, ক্ষমতা নানাভাবে শুধু আমিটাকে তুলে ধরা,
যার যতোটুকু প্রয়োজনে আবদ্ধ।
তোমরা খুনির জঠরকে প্রশ্ন বিদধ করে সহজ সমীকরন করো,
কিন্তু পৃথিবীর কোন জঠরে জন্ম হয়না খুনীর, ধর্ষকের কোন নিপীড়কের।
তোমাদের তৈরি ধর্ম, সমাজ, রাস্ট্র থেকেই তৈরি হয় খুনীর,ধর্ষকের, নিপীড়কের।
জঠর শুধু সম্ভাবনার,হন্তারকের নয়।
আর এসব বলার জন্য আমি ছিটকে পড়ি পৃথিবী নামক গ্রহ থেকে,
তোমাদের পরিবেস্টিত চারপাশে ভীষণ রকম অর্বাচীন মনে হয় নিজেকে!
আত্ম পরিচয় দিতে গিয়ে একাকিত্ব বোধ
নিজেকে ঠেসে ধরে কবিতায়,
প্রবোধ দিতে একের পর এক শব্দ সাজিয়ে
তৈরি করতে চাই এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ।
সমস্ত সঙ্গ বিষাক্ত কদর্য রূপ নিয়ে
অবিশ্বাসের কষ্টে নীলাভ হয়।
সব পাশ কাটিয়ে এক শামুক মানবী হয়ে
জঠর ছিঁড়া নিজস্ব ভ্রুণ শুধু আগলে রাখতে চাই।।

  বিবশ পেলিক্যান ও তার ছেড়ে যাওয়া শীতার্ত হাত

নুসরাত নাহিদ

কী চেয়েছিলে তুমি, অনিমেষ?

কারো কবিতার শীর্ণ খাতায় নেমে আসুক
তুন্দ্রা অঞ্চলের শীত?
ঝরে ঝরে পড়ে হারিয়ে যাক প্রতিটি পাতা?
বিশ্বাসের মখমল মোড়ানো ছুরিতে সন্তর্পণে
কেটে যাক আস্তিনের ধমনী?
নাকি ডানা কেটে নেবার যন্ত্রণায়
বিবশ হয়ে যাক তার পোষা পেলিক্যান,
শীত আসবার ভয়ে উড়ে গিয়েছিলো যে,
কিছু উষ্ণতার খোঁজে?

কী পেলে তুমি, অনিমেষ?
সাময়িক খ্যাতি?
অজস্র ভক্তকূল?
তার ছেড়ে যাওয়া শীতার্ত হাত?
সূর্য ডুবে যাওয়া কবিতার খাতা?
নাকি তার মরে যাওয়া অথচ,
তখনও কী তুমুল, বেসামাল হৃৎপিণ্ড?

 

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]