কবিতা পাঁচ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

জেরীন  আফরীন

যত টুকু থেকে গেছে 

যখন অন্ধকার নেমে গেছে

রাত্রির বুকে হারিয়ে

গেছি তুমি ,আমি আর

একটা বিস্তৃত জনপদ।

নিঃশূন্যতায় ডানা ঝাপটায়

কিছু অন্ধ বাঁদুর।

ঘুমন্ত নগরে সন্তর্পনে

চলে ভারী নিঃশ্বাসের

ওঠা নামা , স্ফীত হয়

আবার নেমে যায়

অগন্তি ঘুমন্ত ফুসফুস।

অথচ অন্ধকারে তারাদের ভীড়ে

প্রতি মুহূর্তে নিঃসঙ্গ চাঁদের মতো

একেবারে একলা থাকে কত শত

আলোকিত প্রাণ ,আমাদের মতো !

ঝিঁঝিঁর একটানা বিষন্ন গানে

জেগে রয় যেই বৃদ্ধ প্যাঁচা ,

তার মতো সহস্র অন্ধকার

মুহূর্ত জেগে জেগে কেউ কেউ

করে ,ফেলে আসা সময়ের

অহেতুক উৎযাপন ।

খসে পড়া তারাদের মতো ,

ঝরে ঝরে যায়  সঞ্চিত প্রিয় মুহূর্ত ,

দেখা যায়  তবু তারে যায়না ধরা।

সব চলে যাওয়ার মাঝে রয়ে যায়,

অপলক তাকিয়ে থাকা এক জোড়া

বিস্মিত চোখের অপলক চাহনি !

কোন এক ফেলে আসা মুহূর্তে যে

হঠাৎ আবিষ্কার করেছিল মানবী কোন ,

কোটি মানুষের ভিড়ে ,তারকা খচিত

অন্ধকার আকাশের নিচে এক দিন।

 

আফরিন আহমেদ

কী থাকে সেই গল্পটার শেষে! 

ভরসন্ধ্যারা ভর করে বুকের রেলিঙে।

রেলিঙ দিয়ে মাথাটা বের করে একটু

ঝুঁকলেই রেললাইন দেখা যায়। শুরুটা

খুব চেনা পদ্যের মত ‘কু ঝিক ঝিক’ তালে

দেখা যায়। শেষটা কুয়াশায় হারিয়ে যায়।

কুয়াশা, নাকি আবছায়া, তা বুঝতেই

একটা পদ্মপাতার পানির জীবন ছলকে

সীমানার বাইরে গিয়ে পড়ে। ওম শান্তিহ।

শান্তিহ। মোমে, ধূপে, আর আগরবাতিতে

কোন পার্থক্য থাকে না। সবই গন্ধে

পুড়ে। আতরের গন্ধ আর ধূপের গন্ধ

কানাকানি করে রাতভর। দীর্ঘ একটা

রাতের হাঁপিয়ে ওঠা গদ্যের পর শুরু

হয় আবার মোম বানানো। আজ অনেকগুলি

মোমবাতি বানাতে হবে। রাতের দৈর্ঘ্য

দীর্ঘ না হলেও, রজনীর খামভর্তি

অথৈ গভীরতা। অত নিচে মোমের

আলো পৌঁছাতে হলে সারি বেঁধে তিন

হাজার একটা আলো জ্বালাতে হবেই।

অতল মনের মত অচিন রাতও ছায়া

মেলে পাশে শুয়ে থাকে। চিতার গন্ধে

ডুবসাঁতার কাটে মনপক্ষীরা।

ধরা গেলেও ছোঁয়া যায় না।

 

 

শওকত আহসান ফারুক

ক্রসিং

 মধ্যরাতে প্ল্যাটফর্মে ঢাকা মেইল ক্রসিং
একা নামে মাধবীলতা, সাথে ঘরমুখো কিছু সুখ!
হুটহাট বনরুটি চুবিয়ে চায়ের কাপে,
কেউ একজন উঠে পড়ে দক্ষিণ মুখি বগিতে,
মুঠোবন্দি ট্র্যাভেল ব্যাগ, সে সাগর দর্শনে যাবে।
পাড়াগাঁয়ে তুষের আগুন পোহায় থুত্থুরে শীত।

ভেঙেচুরে কাঁচের চুড়ি; ফিরে এসেছে
পুকুর পাড়ের নাজনীন, কোন গন্তব্য জানা নেই
অযত্নে চিড় ধরেছে আলতা মাখা পায়ে।
পেট্রলিয়াম জেলীর কৌটা খুলে ঠোঁটে মাখে গৃহিনী,
সিগ্রেট ফুঁকে খুক খুক কাশে হেডক্লার্ক।
শীত রাতে মেয়েটির ঘর ভেঙেছে,
ক্লিভেজ জুড়ে নখের আঁচড়ে রাত নামে।

মাধবীলতা কোনদিকে যাবে?

 

সুসান সোনিয়া

অন্ধকারে চলতে শিখে গেছি আমি

বাইরে টুপটাপ বৃষ্টি হচ্ছে,

মস্তিষ্কের কোষে কোষে বোমারু বিমান,

শরীরের কোষে কোষে ভালোবাসার বিষাক্ত চুম্বন,

বুকের ভিতর অন্ধ ভালোবাসার দাহ,

সব নিয়ে উদ্ভ্রান্ত কবি!!!

মন-বৃষ্টি বিলাস সপ্তাহান্তে,

“আমি সেই বিলাসী বকুল,

অন্ধকারে ভয়ে জড়োসড়ো থাকতাম, ঝড়ে পড়তাম বৈরী বাতাসে আপন নিয়মে।”

একটু ঝড় একটু বাতাস আমাকে নত করেছে সত্যি

বেশ কয়েকবার, অসহ্য কাপুনীতে সহ্য করেছি সে ব্যাথা, বাহ্যিক আদলে।

মনে, হেলিনি একটি ফোঁটাও, ঝড়িনী পদপৃষ্ঠ হতে,

 

আজ, প্রচন্ড বেগে বাতাসে বিভ্রান্ত আমি, আর এটাই শেষ বার,

হয়তো প্রকৃতিও সহ্য করেনি আমার শেষ ব্যাথা আর কম্পন, বিষাক্ত চুম্বনে।

তাই তো আজ” আমি বিলাসী বকুল নই, নই সুগন্ধভরা ভীতপ্রান।

আমি আজ, ক্ষনিকের তরে হলেও, হলেম সন্ধ্যা মালতী,

শিখে গেছি অন্ধকারে একা পথ চলতে।”

এভাবেই চলবে, পরিবর্তন নিশ্চিত আমাতে সময়ের প্রয়োজনে,

পাশাপাশি যদিও চলবে মন-বৃষ্টি বিলাস একই তালে-ছন্দে আগেরই মতন।

 

রুহেনা চৌধুরী

প্রতিমার ক্রন্দন

 জীবনে আরও একবার এভাবে দেখা হবে ভাবিনি আমি !!!

জানি , তোমারও ছিলো কল্পনাতীত …

কখনও বুঝিনি আগের চেয়ে আরও বেশী সাবলীল হবে

আমাদের কথোপকথন । তুমি ভেবেছিলে কি ?

কভু বুঝিনি দুই যুগ পর তোমাকে দেখেও মনে হবে

—এইতো সেদিন দেখেছি !

এতটুকু নড়চড় হয়নি পরিচিত অবয়ব ।

পরিবেশ বা লোকসমাজ তা মানবেনা , কারণ তারা বাস্তব তোমাতে

রোজ দেখে —আমুল পরিবর্তন

আর আমি দেখি ফেলে আসা তারুণ্য , সবিনয় শাসন

তুমিও হয়ত আর সবার মতো আমাকে দেখেছো আজ

পরিপূর্ণ এক নারী , কাঁচাপাকা চুল , লাবণ্য মলিন

তবু তোমার আড় চোখের চাহনি সেদিনের মতই ছিলো প্রশ্নবোধক !

 

মনে পড়ে !! চলে আসার আগে শেষ দেখা হয়নি আমাদের !

তুমি চাওনি । আমি বাস্তবতার তাগিদে ছেড়ে এসেছি

—তোমার শহর ,

যেতে যেতে শহরের শেষপ্রান্তের আকাশটা যেন ছেয়ে গিয়েছিলো

তোমার বিষন্ন সিগারেটের কালো নিকোটিনের ধোঁয়ায়..

তারপর আমার ট্রেনের ইঞ্জিনের ধোঁয়ার সাথে পাল্লা দিতে দিতে

মিশে গিয়েছিলো তোমার ছড়ানো কষ্টের ধূসরতা…

তুমি কখনও কোনও প্রশ্নে আমায় বিব্রত করওনি

তবে এক প্রহরের আলোর মতো তীর্যক রশ্মি ছড়িয়েছো আমাতে

আজও তেমনটাই হয় তোমার বুকের পাঁজরে…

তুমি শক্ত করে চেপে রাখো বুকের ভেতরের মানবী কে

কিন্তু তোমার অলক্ষ্যেই তা ধরা দেয় আমায়..

জগতে তা কখনই দৃষ্টিগোচর নয় যা তোমার নয়ন কোটরে দৃশ্যমান

তোমার ভেতর রক্ষিত প্রতীমা অলক্ষ্যে তোমাকে দেখে হাসে

তুমি পাছে ক্ষিপ্ত হয়ে যাও ফেলে আসা নির্বোধ সময়ের সাথে

তাই নীরবে তোমার পূজার থালায় শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে…

তুমি মাতাল হও , একাকিত্ব ঘোষণা করও আর ওপারে

পাষাণী প্রতিমা ধীরে ধীরে ক্ষত বিক্ষত হয়…

নীল পদ্মের বিষে রক্তাত্ব হয়…হয়ত পুরনো দিন অথবা

অজান্তে ফেলে আসা পিছুটানের রেশে…

 

 

 

 

 

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]