কবিতা পাঁচ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

রুবাইয়াত নেওয়াজ খান (শুভ্র )

আমার অসম্ভবের কথামালা

আমি যদি মানুষ হতাম?
সত্যি একটা মানুষ হতাম!
তবে বুকটা জুড়ে থাকতো মায়া
ভালোবাসার কাঙাল হতাম।

মুখ থাকতো, বুক থাকতো
সেই বুকে কী তুই থাকতি?
বুকের কোণে আমার মনে-
আনমনে কী আমায় আঁকতি?

সত্যি যদি মানুষ হতাম?
রক্ত মাংসের সত্যি যদি,
আমি যদি আজ মানুষ হতাম?

তুই কী আমার কাছে আসতি?

সত্যি যদি মানুষ হতাম?
আমায় সত্যি ভালোবাসতি?
আমাদের কী ঘর হতো?
একসাথে রাত ভোর হতো?
তুই সকালের চা হতিস?
গায়ে নরম রোদ হতিস?
অথবা শীতের রাতের ওম? হতিস?

নাকি, এভাবেই চুপ করে থাকতিস?
আমি হাজার কাঁদলেও,
হাজার সাধলেও চুপ।
পাহাড়ের মতো, কিংবা বোবা নদী।

মিথ্যে মানুষ হয়ে আছি।
ভালোবাসিস না তাই – তাই তো?
সত্যি মানুষ হবো?
ভালোবাসবি?

নূর নাহার তৃপ্তি

আমার আমি

প্রতিদিনকার বেচাকেনা আর আমি-তুমির বাজারে
আমি আমাকে হারিয়ে ফেলি!
আমি ভুলে যাই বর্ষা যায়,
আমার আর বৃষ্টি হয়ে ওঠা হয়না,
আমি হিসেবের চাপে পিষ্ট হতে হতে এক্সেল সিট মেলাই
আর জানালার ওপাশে শরৎ যায়,
তুলোর মতো মেঘ হয়ে ভেসে যাওয়া হয় না আমার।
আমি রোজকার আমি-তুমির ফর্দ মেলাতে গিয়ে,
কুয়াশা হয়ে ভেজাইনা হৃদয়!
আমি অসমাপ্ত সম্পর্কগুলো
গিলে ফেলতে গিয়ে গলায় চোরকাঁটা বানাই!
নতুন কাপড়, রঙ আর ছাপার গন্ধে
আমি ভুলে থাকি কামিনীর কামনা জড়ানো গন্ধ!
শুধু কাগজের সংখ্যা গুনতে গুনতে
ভীষণ রকম শব্দ খরা মাইগ্রেন নামক মোড়কে ফিরে আসে,
সকাল বিকালের চা’য়ের কাপে চুমুকে চুমুকে
জমা পড়ে অভিমানে জমানো কথার স্তুপ!
এতো হিসাব নিকাশের মাঝেও
কী করে বোকা কিশোরী বুকের ভেতর থেকে
বেরিয়ে এসে বারবার বোঝাতে চায়
কেউ একজন আসবে রুপকথার গল্পের মতো,
বুঝবে না-বলা সব মান অভিমান!
সোনার কাঠি রুপার কাঠি ছুঁয়ে কেউ
একদিন ঠিক মুক্ত করে নিয়ে যাবে
আমার আমিকে
যার একদিন বৃষ্টি হবার কথা ছিলো!

সাঈদা শাপলা

অপায় অমিয়

 অমিয়, তোমার নেশাগ্রস্ত হতে ক্রিস্টাল গ্লাসের মদিরাতে ডুবে থাকতে হয় হয়ত একটি পুরো রাত ।

আমারতো বর্ষা দিনে সোঁদা মাটির গন্ধে

মুহূর্তেই নেশা হয় !

শ্রাবন সন্ধ্যায় ভেজা কদমের ঘ্রাণে

আমার পুরো ঘর যখন ম ম করে

আমি একা বসে তখন তোমায় ভাবি,

খুব করে ভালবেসে কদমের গন্ধের মাদকতা তোমার শরীর আর চেতনায় মেখে দিতে ইচ্ছা করে তখন !

বর্ষা আর কদমে কি প্রখর উন্মাদন থাকে

তুমি কখনো জানলে না অমিয় !

যাযাবর মন নিয়ে কত ঘাটেই তো নোঙর করেছো

হয়ত খানিক প্রশান্তির জলে তুমিও ভিজেছো ,

পরক্ষণেই তমসায় ডুবে গেছো নিঃস্ব হয়ে!

তারপর দুদন্ড স্বস্তির প্রয়াসে সংসৃষ্ট হয়েছো

সাপেদের আড্ডায়,

সাপের ফোঁসফোঁস শব্দের মাঝে বৃথা ছন্দ খুঁজে

আবারো নষ্ট করেছো‌ বহু কাল।

অথচ এই বর্ষণমুখর রাতে

প্রিয়ার কাজল আঁকা চোখ শুধু তোমার হতে পারতো,

প্রিয়ার চুলে গোঁজা কামিনীর গন্ধে মাতাল হয়ে

জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে চুমু খাওয়ার অখন্ড অধিকার

একান্ত তোমারই হতো,

কিন্তু বারবার তোমার সৃষ্ট অশুভ ছায়া

লক্ষণরেখা টেনে দিয়েছে দুজনার মাঝে ।

অমিয়, কেউ অনেক যত্নে বুকে

প্রেম সঞ্চিত করেছিল তোমার জন্য ।

অথচ, তুমি বুঝলেনা কখনো!

জিনাত রহমান

আমাকে একটু কাঁদতে দিও

অনেক দিন পার হয়ে গেল, অনেক গুলো দিন

বুকের মাঝে কষ্ট গুলো জমে জমে হয়েছে পাথর

কিন্তু এখনো সুযোগ পাইনি কাঁদার ,

একটি দিন তোমারা আমায় সুযোগ দিও প্রাণ ভরে কাঁদার !

দিন শুরু হয় ভোরের সূর্য কিরণ গায়ে মেখে,

একটি আয়েশী বিছানা ছেড়ে সুখ ভাব নিয়ে দিনের শুরু,

ভুলে যাই হাজারও বন্যা কবলিত মানুষের কথা

যাদের পায়ের নিচে দাঁড়াবার শুঁকনো মাটি নেই !

আমার সন্তানের হাসি মাখা মুখ দেখে চোখ তৃপ্ত হয়,

সাজিয়ে  গুছিয়ে তাকে স্কুলে পাঠাই, ভুলে যাই

গতকাল প্রাণহীন ছোট্ট সায়মাকে পাওয়া গিয়েছিল একটি পরিত্যক্ত ঘরে,

ভুলে যাই এক ফোঁটা শুষ্ক অশ্রু এখনো জমে আছে বুকে, 

কাজ শেষে খুশি মনে ফিরে আসি ঘরে,

মনে পড়ে না তাসলিমার আর ফেরা হয়নি আপন ঘরে,

সংসারের দৈনন্দিন কাজে কোন পড়ে না ভাটা,

শুধু দু- ফোঁটা শুষ্ক অশ্রু জমে বুকে,

আমি কাঁদতে ভুলে যাই !

আমি পেট পুরে খেয়ে ভুলে যাই

চলতি পথে দেখা অভুক্ত শিশুর মুখ,

মনোরম সাজে অনুষ্ঠানের চাকচিক্যে মজে যাই

ভুলে যাই নুসরাতের কথা ,

অকারণে অনলে যে হয়েছিল দগ্ধ,

শুধু হঠাৎ  হঠাৎ বুকের ভেতর পাথর গুলো নড়ে ওঠে

কিন্তু চোখ ভেঁজে না ,

রিফাতের জন্য চোখ ভেঁজে না, তনুর জন্য চোখ ভেঁজে না

চোখ ভেঁজে না প্রতিদিনের পত্রিকার পাতায় শোকবার্তা দেখে,

তোমার আমায় একটু কাঁদতে দিও, একটু কাঁদতে দিও

শুধু একটি দিন তোমারা আমায় সুযোগ দিও প্রাণ ভরে কাঁদার !

 

আকতার নাফিন খান

দূরে গেলে দূরত্ব হয় না

অবলাকান্ত! ও অবলাকান্ত…কবে  শুনবে আমার দিনলিপি?

কতো কথা জমে গেছে মনের কোনে,

এতো জানতে চাওয়া মন নিয়ে দিন কাটে কেমন করে গো?

আমার তোতা কথা শিখেছে

খাইয়ে দেই সকাল রাতে!

সে দৃশ্য দেখে দুলে দুলে আবার কবে হাসবে শুনি!

গাছের বড় অবহেলা যায়

পুঁই লতারা হেলে পরেছে

কামরাঙ্গা গাছে ফুল এসেছে অনেক,এই এতো!

লাল..ভীষণ লাল ফুল!

মেহদী ফুলের নাকফুল গড়তে দিয়েই হারিয়ে গেলে,

তুমি নদীর পাড়ে দাড়িয়ে ওপারে আর দেখোনা।

আমি কোত্থাও নেই।

একূলে ওকূলে…কোথাও পাবেনা।

তেপান্তরের স্বপ্ন এলো কালও..কতো করে মনে করে রেখেছি পুরোটা,

ছেলেটা শুকিয়ে গেছে…মা ‘ বলে ডাকতেই..

থাক,থাক সে কথা!

শরীরটা বড্ড বেহিসাবী না কি মনটা?

শুয়ে শুয়ে তোতা কে বলি এ কথা, সে কথা..

দিনশেষে তোতা ভীষণ চুপ।

আজ তার সাথে কথাদের আলাপনে খিল দিয়েছি।

সে এমুখে চায়..ও মুখে চায়..আঁচল ধরে টানে..

উহু! নেই রে তোতা..কিছুই বলার নাই।

গ্রিল ছুঁয়ে আকাশে ঝুলে থাকা মেঘে ঝুলিয়ে দিয়েছি কষ্ট।

বাজারে বেঁচে দিয়েছি তার দেয়া নকুল দানা,বাতাসা,

কিনে এনেছি..বিষাদের স্মৃতি!

চলে গেছে তোতা..একথা ভাবতেই, সে লাল ঠোঁট বাড়িয়ে বললো..’অবলাকান্ত!’

আমি চমকে বলি,আবার বল!

সে বলে,..”অবলাকান্ত!’

 

অবলাকান্ত!দূরে গেলে দূরত্ব হয় না গো।

ছলনায় বাস করে যে ভালোবাসা..সে ভালোবাসাও..একেবারে মিথ্যে নয়!

আমি জানি গো!আমি জানি!

 

জেরীন আফরীন

পোস্টবক্স থেকে কবিতা বিভাগে সংযোজন কবিতা আবৃত্তির ভিডিও। বিভিন্ন কবিদের কবিতার আবৃত্তি থাকছে এই বিভাগে।

এই পর্বে থাকলো আনিসুল হকের কবিতার আবৃত্তি জেরীন আফরীনর কন্ঠে।

 

 

 

ছবিঃ গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]