কবিতা পাঁচ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

নূর হোসেন আল কাদেরী 

নূর হোসেন আল কাদেরী

নজরবন্দী শহর

নজরবন্দী শহরের ইতিহাস জানো তুমি?

তুমি কি শুনেছিলে সেই গল্পটি?

যে গল্পের শেষে, প্রথমে ও মধ্যখানে

মৃত্যুবরণ করেছিলেন লেখক নিজেই।

তিন তিনটি মৃত্যুর অভিশাপ ভুলতে

তিনি নজরবন্দী করেছিলেন

কিছু শহর, নারী, শিশু ও কিছু পশুদের।

তার পুরো গল্পে ‘জীবন’ শব্দটি একবারও ছিলো না।

অথচ, তিনি বাঁচতে চেয়েছিলেন নজরবন্দী শহরে;

যেখানে-

পানশালাগুলোর হাত, পা, চোখ ও মুখ ছিলো

পতিতালয়গুলো ছিলো মানুষের মতো চিন্তাশীল;

আর, সেই শহরের নগর পিতা ছিলেন

মৃত্যুপথে অভিযানকারী এক দূর্ধর্ষ ফাঁসির আসামী।

তুমি কি বলতে পারো-

নজরবন্দী সেই শহরে, আকাশের রঙ কী ছিলো?

নীল, নাকি আসমানী?

 যুদ্ধ

হুমায়ুন বাদশাহ্

ভাঙ্গছে কি হৃদয়?

শুনিনি আজও সেই ভাঙ্গনের শব্দ।

কতটুকু ব্যথিত হলে ভাঙ্গে হৃদয়,

লিখে যায়নিতো আজও কোন শাস্ত্র।

তবুও জানি, তুমি আমি খেলছি-

এমনই এক খেলা, বলতেই পারো-

এ এক ভালবাসা নামের যুদ্ধ।

দুজনের কারও হাতেই মারণাস্ত্র নেই,

অথচ, প্রতিনিয়ত ঘায়েল হচ্ছি দুজনেই;

তারপরও চাই, হ্যা অনেক কিছুই চাই।

আদর নামের ফার্স্ট এইড চাই,

মমতা নামের ব্যান্ডেজ চাই,

চুমু নামের তূলোভেজা টিংচার আয়োডিন চাই।

আহা! বলছিনা তুমি নার্স হয়ে সেবা করো-

একবার প্রেমিকা হয়েই দেখো,

এই হৃদয় কেমন মরতে মরতে বেঁচে ওঠে,

এক প্রেমময় যুদ্ধে।

কেমন করে তোমার কাছে হার মানে,

কেমন করে শুধরে দেয়-

তোমার এক জনমের ভালবাসার ঋণ।

 ঠিকানা

এরশাদ খান

দেখো…

ঠিক একদিন ফিরে যাবো
পুরোনো সেই গলিটার শেষ প্রান্তে,
হলদে দেয়াল থেকে
পলেস্তারা খসে পড়া বাড়িটায়…

যার উঠোনে রয়েছে

চেনা বড়ই গাছ
অযত্নে বেড়ে ওঠাকে
যে ভেবেছিলো জীবনের স্বাভাবিকতা

ঠিক যেমন আমিও ভেবেছিলাম

তোমার শীতল, নির্লিপ্ত চাহনিকে!

একদিন আবার খুঁজে নেবো

কংক্রিটের জঙ্গলে ফুরিয়ে যাওয়া
শৈশবের আদিগন্ত খেলার মাঠ

যে সযত্নে আগলে রেখেছিলো

তার অযুত, নিযুত ধূলিকণায়
নিখাদ বন্ধুদের নির্মল স্মৃতি
লৌকিকতার শিকলমুক্ত ছেলেবেলা

একদিন শেষ বিকেলে

চির চেনা সেই নদীর ঘাটে
ভুল করে ঘুরে এসো,

হয়তো শুনতে পাবে

হেঁয়ালি বাতাস আর
চাপা কান্নার মিশেল

জলের আর্শিতে

ভেসে ওঠা সেই মুখ
তোমাকে পাওয়ার স্বপ্নকে ভালোবেসে
যে নিস্তেজ হয়েছে সুদীর্ঘ প্রতীক্ষায়…

গড়েছে স্থায়ী ঠিকানা আজ
একমুখী না ফেরার দেশে !

 দৈনিক বরাদ্দ

দেবযানী দাশ

ভালোবাসাও ধীরে ধীরে দৈনিক বরাদ্দের হয়
কোটা মেপে নেয়া চাল,
চামচ মেপে নিরাপদ তেল
মুঠো মাপা ডালের মতই
দৈনিক বরাদ্দের ফোন
“কি খেলে, হুম, হ্যাঁ, আচ্ছা”
দৈনিক বরাদ্দের ভালবাসা,
সপ্তাহান্তের ঘন্টাখানেকের একান্ত প্রেম।

অদ্ভুত লাগে জানো নিজেকে
আবেগের অস্থিরতা ছাড়িয়ে
জীবনের সব সম্পর্কে এই দৈনিক হিসেব
হাসি হাসি মুখে তোলা ছবির পরের মুহুর্তের দীর্ঘশ্বাসের ছবিটা উঠে না কখনো স্থিরচিত্রে
স্বাভাবিকতা আমাদের চিনিয়েছে হাসিমুখের মুখোশ
মুখোশের মুখোমুখি ক্লান্ত চোখেরা দৈনিন্দনতার হিসাব মিলায়
আজকে কি বাদ পড়লো কিছু,
কোন বরাদ্দের দায়?

অদ্ভুত লাগে স্মৃতিগুলো
এমন মাতাল হাসি কি আমাদের ছিল, এমন উচ্ছলিত মুখগুলো কি এই আমাদেরই স্মৃতি

দৈনিক বরাদ্দের তোমাকে অচেনা লাগে,
দৈনিক বরাদ্দে সুখে থাকা নিজেকেও অচেনা লাগে;
সব সম্পর্কেই কি এইটাই চলমান রীতি
সব সম্পর্কই কি দৈনিক বরাদ্দের……..

 দ্বিধাগ্রস্ত

রুহেনা চৌধুরী

কি পরিচয় দেবো আমি ?

ঠিক কোন পরিচয়টা পেলে তোমরা তুষ্ট হবে ?

কতটা উপনাম জুড়লে আমি তোমাদের কাছে খ্যাতি পাবো ?

কোনও কোনও আসরে নিজেকে বেমানান লাগে

ফাউন্ডেশন , ব্লাসন , কনসিলর এসবের ভীড়ে

চেনামুখ গুলো খুঁজে পাইনা বলে ….

আর তোমরা অপদস্ত আমার রঙ বিহীন মালিন্য দেখে…

তোমাদের অস্পষ্ট দামী শব্দের উচ্চারণের কাছে

আমার সাবলীল বাংলা চুপসে থাকে …

তখন তোমরা হও গর্জিয়াস —আমি ! আনকালচারড….

আমি ঠিক ! দরকষাকষির মাঠে নির্লজ্জ হতে পারিনা ..

দু’একটা তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতেই আমি অপ্রস্তুত হই

তোমারা ভাবো —আমি ভীতু …

আসলে ততক্ষণে আমি নিজের পাশে দাঁড়াই ,

অগণিত বেহায়া মুখ ও মুখোশের অভ্যন্তরে ,

আমি নিরাপদ দূরত্ব সন্ধান করি ,

আমি পরিচয় হাতরাই…!

আমি কি ? অহমিকা ? করুণা ?

নাকি মানুষ ?

আওসাফ রাহমান

পোস্টবক্স থেকে কবিতা বিভাগে সংযোজন কবিতা আবৃত্তির ভিডিও। বিভিন্ন কবিদের কবিতার আবৃত্তি থাকছে এই বিভাগে।

এই পর্বে থাকলো আবুল হাসনাৎ মিল্টনের লেখা ‘শর্তহীন ভ্রমন’ কবিতাটি আবৃত্তি করেছেন আওসাফ রাহমান

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]