কবিতা পাঁচ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

নূরুল কবীর সাবু

ঘুমপাড়ানি গান

দুপুর দাঁড়িয়ে আছে খাঁ খাঁ রোদ্দুর নিয়ে,
একটা দাঁড়কাক নিঃসঙ্গতা ঢেলে দিলো
কার্নিসের বুকের ভেতর।
একটা বিজন মাঠ মগজের তন্দ্রায় ডুবে যায়…
চোখের সেলুলয়েডে ভাসে স্মৃতির পাঠশালা
বিক্ষিপ্ত চলচ্চিত্র – ওরা এগারো জন।

এগারো থেকে এগারো লক্ষ, লক্ষ থেকে এগারো কোটি!
পাখির ঠোট থেকে খসেপড়া বীজ থেকে মহীরুহ
ছায়ার শীতল নদীতে জনস্রোত বয়ে যায় পশ্চিম দিকে।
নায়িকার মুখে বিন্দু বিন্দু ঘাম মুছে দেয় মেকআপম্যান!

সেট কুয়াইট…
ক্যামেরা রোলিং, ওয়ান টু থ্রি ফোর… স্টার্ট…

রোদ্দুর বাড়ে শ্রমিকের ঘামের সাগরে, ভাসমান
জীবনের কাগজের নৌকায় চড়ে প্রখর দুপুর!
রক্তাক্ত রাজপথে মৃত্যু হয় প্লাকার্ড ফেস্টুনের!
মুর্তাদের জানাজার প্রয়োজন হয় না!
রমণীরা ধর্ষিতা হয় প্রার্থনার মতো…
চেতনার ময়না তদন্ত হয় লাশ ঘরে…
কাফনেরা ফেরি করে স্বর্গের তাবিজ…
বেড়ালেরা মুখ মুছে পদাবলী পাঠ করে
কিও খিও গিও ঘিও…

কাট!

কার্নিসের কাক ডেকে যায় কা কা কা কা কা…
আমি ভীষণ ডুবতে থাকি নির্জনতার অতলে।
খুঁজতে থাকি কোটি থেকে লক্ষে, লক্ষ থেকে এগারো
ওরা এগারো জন
ওরা এগারো জন
দশ, নয়, আট, সাত, ছয়…

নুসরাত সুলতানা

নন্দিনী তোমাকেই বলছি

কতবার হারিয়ে গেছি
তোমার বাঁকা ঠোঁটের ঈষৎ হাসিতে
কে তাঁর হিসেব রেখেছে!
তোমার লিখিত পঙতিমালায়
বিমুগ্ধ হয়েছি বহুবার।
এর চেয়ে ঢেড় ভালো হতনা ;
যদি তোমার শাড়ির কুচি হতাম
কিম্বা নির্মোহ,নিপাট আঁচল হতাম!
যতবার রাজহংসীর মতন;
গুরুগম্ভীর হেঁটে চলা দেখেছি,
অনুতাপ হয়েছে নিজের জন্ম নিয়ে।
যদি আরেকটি জনম পাই;
তোমার যাপিত জীবনের পুরুষটিকে দেখিয়ে দেবো।
হব সেনাপতি,
ব্যস্ত রাখবো তোমার পুরুষটিকে!
তারপর মগ্ন থাকবো ফোনালাপে,
যাব কফিশপে!
লাল শাড়ি টা তোমার পরে এস প্রিয়তমা!
কিম্বা হব একটুকরো রোদের বরফি,
পড়ে রব তোমার আহলাদী চিবুকের বারান্দায়।
কিম্বা হব সাভান্নাহ!
তুমি গুরুগম্ভীর চরনে হেঁটে যেও
আমার বুক মাড়িয়ে।
অথবা হব একপশলা চৈত্রের বৃষ্টি
দেখ কত যত্নে;
ভিজিয়ে দেই তোমার মিহি শরীর
এ জন্মটা গেল বৃথা,
নারী জন্ম বলে,
পাওয়া হল না তোমাকে!

রাশেদুল হাসান

খুনসুটির সংসার 

তোমার ভ্রুকুটিতে খুঁজি

আমার প্রশ্নের উত্তর।
সযত্নে প্লাক করা ঐ ভুরুর মাঝের
গভীর উপত্যকায় হারিয়ে,
উওর খুঁজে খুঁজে,
রাত হল ভোর।
আমি ঠিক ঠিক জানি,
তোমার ভ্রুকুটিতেই লুকিয়ে
আমার প্রশ্নের উত্তর।

রাগ করেছো?
আমার উপর বিরক্ত?
কেনো মুখটি অমন
রেখেছো করে শক্ত?

কী মুশকিল!
“কিছু হয় নি” যদিও বলছো,
তবু কথা আর হাবেভাবে
যথেষ্ট অমিল!

বলবে কি?
কবে কখন করেছি কী ভুল?
মৌন বয়কটে দিন গড়িয়ে যে হপ্তা হল!
তুমি নির্বিকারে ভেজাও তেলে
মাথার রেশম চুল!

আচ্ছা যাও, দিচ্ছি নাক খত।
যেমনটি চাও তেমনটি হবে
করলাম শপথ।

মাসুদা আখতার

জীবনবাবুর কিসসা

 জীবনবাবু… চৈত্রের বিদীর্ণ আকাশে কী   খোঁজো তুমি?

জ্বলজ্বল সূর্য রশ্মি ভেদ করে আর কতোদূর,

কতো দূর আশা জাগানিয়া স্বপ্নখোঁজো!

ওই দেখো, শকুনী চিল ডানা মেলে…

তীক্ষ্ণ শিকারী চাহনী, বুভুক্ষিত  নজরদারি!

সূর্য রশ্মিতে  ঝিলিক দেয় ধারালো চঞ্চুতে…হিংস্রতার ভয়াবহতায় কেঁপে ওঠে অন্তরাত্মা।

মৃত্যুর প্রহর গুনে হিংস্রতার ধুসর চোখে।

চৌচির জমিন, ফ্যাকাশে দৃষ্টিতে

জীবন মৃত্যুর কাঠগড়ায় দাঁড়াও…

আসামী তুমি দু’মুঠো অন্নের অভাবী;

দুঃখ ঘুচে না যার ঋতুর বৈচিত্র্য, পালা পার্বনে।

খরা, অনাবৃষ্টির চৈত্র মাসে শূন্যমাঠের

হাহাকার;

বাড়ন্ত গোলায় ভরে আছে দীর্ঘশ্বাস !

চৈত্রের দাবদাহ যেন নিষ্ঠুর ছোবলহানে।

নিয়তির চরম বিদ্রুপ…অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে দুর্ভিক্ষ,  হামলে পড়ে হাড়গিলে নিঃশেষ প্রাণে।

 ওষ্ঠাগত প্রাণ অসাড় জিভে খুঁজে একফোঁটা জল, ধুলিমাখা ঠোঁটে বিস্বাদ

শুষ্কতা বুজে  আসা কন্ঠনালী অসাড় দেহে।

মহাজনের ফটক আজ  রুদ্ধদ্বার,

ঋনের জীবন বড্ড ভারী, লঘুবাতাসের

চাপে কাঁধ ঝুঁকে ;

নত আজ অনাহারে–

জীবন বাবু — তোমাদের গল্প লোকান্তরে হারায় — পুঁথি গল্পে কিসসায়।

মাসুদুর রহমান

 আরশোলার সঙ্গে বসবাস

১.
আমার ড্রয়ারের ফাঁকে দুজন নতুন ভাড়াটিয়া এসেছে
মাঝে মাঝেই তারা আমার টেবিলের
এপাশ ওপাশ ছুটে বেড়ায়।
মাঝে মাঝে আবার আপন মনে গল্প করে।
তাদের স্বভাবসিদ্ধ আচরণ ইঙ্গিত করে
নব মৌসুমের, আগমনী শুনি নবজাতকের।
তারা শুড় নেড়ে তীক্ষ্ণ সন্দেহ প্রকাশ করে
আমিও বেহায়ার মতো চেয়ে থাকি
লীলারসে আক্রান্ত আরশোলা দম্পত্তির পানে।
এই শীতের পর আমারও ঘর হবে।
বিছানায় লীলারত দম্পত্তির দিকে
তারাও চেয়ে রবে, অধিকার থাকে
সুখ ও সুখভোগের অংশীদারিত্বে।
এই বসন্তে আমাদেরও বসন্ত হবে
আমাদেরও গাছে ফুল আসবে।

২.
বাসরের প্রথম চন্দ্রালোকিত রাতে, তোমাকে বলেছিলাম
জানো এই ঘরে আরও দুজন থাকে।
তোমার সরু চোখে সন্দেহ দেখে মুচকি হেসে
বলেছিলাম, আরশোলা দম্পত্তি ।
তুমি হেসেছিলে, যেন জোছনা বর্ষেছিল
হাসির প্রতিটি দমকে স্পন্দিত হয়েছিল ভালবাসি
অবাক চোখে চেয়ে জেনেছি ভালবাসি।
বলা হয়নি, হয়তো সব কথা বলার জন্য নয়।

৩.
বিগত ঠাট্টা, বিগত সঙ্গম, বিগত কথাগুলোর মতো
বিগত তুমিও এখন ভাবাও অসময়ে, অকারণে।
আরশোলা দম্পত্তি একসময় আমার স্বপ্নের উঠোনে
রংধনু রং ছড়িয়ে দিত, এখন ভস্ম ছড়ায়।

অলঙ্করণ: গুগল

 

 

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]