কবিতা পাঁচ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

শ্রাবণী জুঁই

নাগরিক জীবন

অনিরুদ্ধ,

আব্দুল্লাহপুর গেছো কখনো?

ওখানে চটপটি আর ফুচকা বিক্রি হয়।

নতুন বিবাহিত মেয়েদের ঘামে ভেজা ঝালে টকটকে লাল মুখে ইশস ইশস শব্দের খাওয়া দেখতে ওইসব বিক্রেতাদের কতটা ভালো লাগে

সেটা বোঝা যায় ওদের বাড়তি টক চাটনি দিতে এসে

একটু অকারণেই বেশি ঝুঁকে যাওয়া দেখে।

 

একদিন ষোল সতেরোর সদ্য বিবাহিতা তরুণীর কালো বোরখায় লেপ্টে থাকা রোদ দেখে চমকে গেছিলাম!

টঙ্গী ব্রীজটার মুখেই মেয়েটা জানান দিয়েছিল সে একা নয়। তার ফ্যাকাসে মুখের আতংক রাষ্ট্র করেছিল লোকাল বাসের সারি।

তুমি তার ঘামে ভেজা গরমে সিদ্ধ ত্বকে খুঁজে নাও পেতে পারো লাবণ্য,

কিন্তু এটা সত্যি জেনো ওর বয়সটা মাত্র ষোল

এবং ওর কোলে একটি পেটে একটি

আর বুকে পিঠে সমাজ সংসারের কালসিটে দাগ।

 

অনিরুদ্ধ,

তুমি আশুলিয়া যেয়ো কিংবা দিয়া বাড়ি

ষোল বছরের ফ্যাকাসে মেয়েদের এড়িয়ে যেতে পারবে অনায়াসে

সেখানে রম্ভাদের ভিড়ে ভীষণ সিগারেটের তৃষ্ণা

একই ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ফুসফুসে অবশ জীবনবোধ তোমাকে এমন উন্নাসিকতা এনে দিতে পারে যে

তুমি দায়িত্বশীল হতে অস্বীকার করে সুখি হতে পারো খুব সহজেই

আবার খুব গোপনে হতে পারো নষ্ট ভ্রুণের পিতাও।

 

অনিরুদ্ধ  কখনো ফতুল্লায় যেও না।

যেও না চন্দ্রায়

এরচেয়ে তুমি বরং গুলশানে যেও

ভোজনপ্রিয় অবিশ্বাসীদের মাঝে আনন্দে থাকা যায় কি না

না জানলেও এটা ঠিকই জানি

এই রকম আধুনিক ঢাকায় তুমি এবং তোমরা ভালোই আছো।

শুকতারা ভোর

সা’দ জগলুল আববাস

অদ্ভুত একটা নদী আছে আমার -কেউ জানেনা ;
সে নদীতে মাছেরা সব জলের উপর উল্টো হয়ে ভাসে।
জলের উপর আজব এক আলো ছড়ায় রোজ
ঐ আলোতে হাওয়ারা সব ছায়া হয়ে ফিকফিকিয়ে হাসে।
আরো আছে একটা অশ্বথ গাছ , অনেক প্রাচীন,
সেই গাছটার ঝুরিগুলো আকাশ পাণে উর্ধমুখে ধায়;
আমার একটা সবুজ প্রান্তরও আছে, সাদা মেঘে ঢাকা
মেঘ ভেদ করে সবুজগুলো নীল হয়ে যায় উর্ধবায় ।
আদ্যিকালের  গানের কল একটা আছে, ঘুণে ধরা
গভীর রাতে খসখসিয়ে বেজে উঠে আপনা থেকে ।
আমার ক’টা তারাভরা আকাশ গঙ্গাও আছে
প্রতি রাতে যাচ্ছে নিভে সব মৃত নক্ষত্রের ঝাঁকে।

বহুদিন মাছগুলো সব উল্টো হয়ে ভেসে ছিলো জলে,
আমি ছায়ায় পুরে দিয়েছি নদী ঐ পাহাড়টির কাছে,
জল বেয়ে মাছগুলো যায় উঠে এখন পাহাড়ের ঢালে
শৈল শরীরে থিরথিরিয়ে কুচলা শৈবালের স্তর নাচে।
মনে নেই আমি ক’টা গোধূলী ছুঁড়ে ফেলেছি অন্ধকারে
আমার অনেকগুলো রোদ নিভে গেছে আলোর তরাসে
অশ্বথটা কোন আশে  ঝুলে আছে আকাশের গায়ে
বুড়ো গানের কলটা রাত বিরাতে মাঝে মাঝে কাশে ।

মেঘ, প্রান্তর  রং বদলায় যেন আমার সাথে অনুবন্দী
সময়ের সাথে বহু আগে থেকেই করে রেখেছে সন্ধি;
সেলুলয়েডের রেকর্ড রাতে গেয়ে উঠে-আয়েগা  আয়েগা-
সময় বলে, আ্যয় বুরবক ,কোই আতে নেহি-সব যায়েগা!
বহুকাল গিয়েছে, আমি আর প্রশ্ন করিনা আগের মতো
অবাকও হইনা, মেনে নিয়েছি কালের লেখা যতো;
বসুধা আর জীবন মিলে গল্প রচে অনুষ্টপ ছন্দে
নিজেকে আর জড়াই না কোন অযথা সময়ের দ্বন্দে!

আমি চাতকের মতো তৃষ্ণার্ত হয়ে চেয়ে আছি সূর্যের তরে
দেখো, আলো শুঁষে নিয়ে চলে যাবো একদিন শুকতারা ভোরে !

মণিকার হাতে মেঘনীল চিঠি

সাবরিনা শারমিন চৌধুরী

আগুনাভ সূর্যটা ছুঁয়েছে তখন,

লীলাদের বাড়ির

পলেস্তারা খসে যাওয়া জানালার কার্নিশ,

বাবুদের লম্বা সুপুরি গাছের মাথায়

সোনারঙা আলো হাসছে মলমল হাসি,

মণিকার হাতে ছিলো তোমার চিঠি।

 

মণিকার প্রণয়ী কামিজের সবুজ বোতামে

হারিয়ে যাওয়া আমার বিশ্বাস,

মণিকার ডান হাতের প্লাটিনাম ঘড়িতে

থমকে যাওয়া তোমার নিশ্বাস,

মণিকার মোনালিসা আঙুলের নিপুণ বুননে সর্বগ্রাসী গল্প লেখা।

মণিকার হাতে তোমার চিঠি।

 

মণিকার মুখে চাঁপা ফুলের হাসি,

আমার বুকে মেঘনার গহীন ঢেউ।

মণিকার হাতে তোমার চিঠি, অধরে অমোঘ হাসির বিলাস,

আমার বুকে শীতের ঝড়, চোখে চমকে প্রণয়ের বিনাশ।

মণিকার হাতে তোমার চিঠি।

 

আধপোড়া রাঙতা কাগজে লেখা তোমার চিঠি,

রাঙতা কাগজে মেঘনীল কালিতে লেখা তোমার চিঠি।

মণিকার হাতে মেঘনীল চিঠি তোমার কণ্ঠস্বর,

মণিকার হাতে তোমার চিঠি মিহিন শব্দশর।

বৈরী বৃষ্টি

শওকত আহসান ফারুক

বিচ্ছিন্ন কিছু বিচ্ছেদ
ঘটে তোমার অযাচিত হস্তক্ষেপ
শ্রবণে-মননে আমি মেঘ পুষি
আকাশ সাজাই সেই মেঘে
তখন বর্ষা নামে পথঘাটে
সেঁতসেঁতে পথ মারিয়ে একসময়
হাঁটি রোদ্দুরের দিকে…

পথের পাশে ফুটে বাগান বিলাস
নতমুখে বৃষ্টিস্নাত একটি জবা
পথ আটকিয়ে বল্লো, ভালবাসি;
আজকাল কেউ আর এ’সবে বিশ্বাস করে না।
বরং ফণীমনসার ঝোপঝাড়ে প্রজাপতি হয়ে উঁড়ি…
রংচটা জীবনে উন্মূল বাসনা ছিল,
ঘর বাঁধবো পাহাড়ে।
বৈরী বৃষ্টি পথ রুখে দিল,

অকারণে…!!

 শোনো….

শায়িমা আক্তার রুমা

বোশেখের ঝড়, ঝঞ্ঝায়
রাত জেগে গল্প কবিতায়
ঘোর কুয়াশায় বা
কাঠ ফাটা রোদে
অমৃত জোছনায়
খেয়ালের মুগ্ধতায়
শ্রাবন বিকেলে
কবিতা লেখার ছলে
দস্যি সময়ে
দিকভ্রান্ত তাড়াহুড়োয়
আমার অজান্তে
চুল সরানোর ছলে
আঁচলে জড়িয়ে
হঠাৎ আলিঙ্গনে
চিবুক ছোঁয়ার ছলে
যখন তখন যেখানে সেখানে
দ্বিধায় ভয়ে সংকোচে
রেস্তোরায়, টেলিফোনে
ওভাবে বোলো না-

” মায়া, আমি তোমাকে ভালোবাসি ”

জেরীন  আফরীন

পোস্টবক্স থেকে কবিতা বিভাগে সংযোজন কবিতা আবৃত্তির ভিডিও। বিভিন্ন কবিদের কবিতার আবৃত্তি থাকছে এই বিভাগে।

এই পর্বে থাকলো নুসরাত নাহিদের লেখা ‘ একটি নামহীন কবিতা ‘ আবৃত্তি করেছেন জেরীন আফরীনর।

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]