কবিতা পাঁচ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

আবুল হাসনাৎ মিল্টন

প্রতিদিন তোমাকে লিখি

প্রার্থনার মত করে প্রতিদিন তোমাকে লিখি
হে আমার মায়াবতী প্রেম
এই যে উচ্ছন্নে চলে গেলো
একটা জীবন ভিন্নতার রোদ্দুরে জ্বলেপুড়ে
কে তার রেখেছে খোঁজ কবে?

উপাসনালয়ের পবিত্রতায় ডুবে থেকে
শোবার ঘরের জানালাতে প্রতিদিন
নেমেছে যে পরিপাটি জোছনার ঢল
লেখার টেবিল জুড়ে সবুজ উচ্ছাস
তুমিই বা তার কতটুকু জেনেছিলে?

প্রতিদিন আমি তোমাকে কতবার যে
ভেঙেছি গড়েছি ও পুনর্নির্মান করেছি
কতবার যে লতাগুল্ম থেকে লতিয়ে
কতিপয় শোকার্ত শ্রাবন উড়ে গেছে
উত্তরের পাহাড়টিলার অভিমুখে।

এইসব নিত্য ভাংচুর, পরিপাটি নির্মান আর
সমূহ স্বপ্নের এলোমেলো সমীকরণের বিন্যাসে
প্রার্থনার মত করে প্রতিদিন তোমাকে লিখি
হে আমার মায়াবতী প্রেম
তুমি তার কতটুকুই বা জেনেছিলে?

 

আফরিন আহমেদ

 শেষতক…

নদীটা যেখানে শেষ হয়েছিল,  সেখান থেকেই

শুরু হয়েছিল ঝড়টা। নদীটা আসলে নদী

ছিল না। মহাসমুদ্রের মত বিশাল ছিল। পাড়ি

দিতে লেগে যেত চৌদ্দ ঘণ্টা।  তাও জাহাজে নয়,

উড়োজাহাজে করে। তাই তাকে রূপকথাই ডাকি।

 

নদীটা যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই

ধু ধু মরুভূমি।  আর নদীর ওই পাড়েই বসন্ত।

নদী না বলে তাকে অশ্রু বলাই চলে, তা ঠিক।

নদীটা যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই

সোনার কাঠি রূপোর কাঠির অদলবদল।  সেখান থেকে

নিদ্রা ওড়ানো ইনসমনিয়া। নদী না বলে তাকে

বরং স্বপ্নই বলা যায়। জেগে জেগে দুঃস্বপ্নদের

আত্মাহুতি দিতে কেই বা কবে দেখেছে, বলো!

 

নদীটা যেখানে শেষ, সেখান থেকেই বদলে যাওয়া

সময়, বদলে যাওয়া মানুষ আর ঘড়ির কাঁটার উলটোপথ

ধরা। সেখান থেকেই যোগ বিয়োগ এর যুদ্ধ, গুণ ভাগের কোন্দল। নদী না বলে তাই কুরুক্ষেত্র, গোলকধাঁধা

বলা যায় তাকে। সেখানে বিয়োগ আর ভাগের জয়জয়কার।

 

নদীটা যেখানে শেষ, সেখান থেকেই ‘আমি’র মৃত্যু।

কেই বা কবে কাউকে নিয়ে আটপৌরে ভেবেছে! তাই

নদী না বলে তাকে বরং শ্মশান নামে ডাকা যায়।

রূপা ফারজানা

 পুষ্প দেহ প্রাণ

আটপৌরে বিকেলগুলোয় কিছু

নাবিকের আনাগোনা ছিল,

যৌবনের যেই ক’টা ফাল্গুনী মহড়ায়

নিজেকে লেগেছিল স্রোতস্বীনি নদীর মতো

আমি তার সবগুলো ইজেলে নির্নিমেষ

সমুদ্র এঁকে গেছি।

আটপৌরে বিকেলগুলোয় শরীরে

হেঁটে বেড়াতো শঙ্কাহর সুদর্শন পোকা,

বন্দরে ভীড় করতো রসিক বেণিয়া,

আর আমি নাইওর বন্ধুর উপহারগুলো সব

তাদের ফর্দে তুলে দিতাম।

আটপৌরে বিকেলগুলো কেটেছিল কেবল

একটা তিথি অষ্টমীর অপেক্ষায়,

যখন তার মাস্তুলে খাটানো আমার আঁচল

তেজ কটালের বান ডাকবে,

একবারই সাঁই বিকচ করবে পুষ্প, দেহ, প্রাণ।

 

এন এ চৌধুরী হৃদি

 আমার খবর 

এতোদিন পর খবর নিচ্ছ ?

বুকের ব্যথাটা আগের মতোই আছে!

ঘড়ির ট্রাডিশনাল ক্রউনটা রাউন্ড থেকে ফ্লাট হয়ে গেছে শুধু!
না, বয়স বাড়েনি!
তুমি না বলেছিলে
আমাদের সময়গুলো
ইটারনাল?
পিছিয়ে কি কখনো যাবো? না’তো!
মনে আছে? একদিন বলেছিলে
আমি প্যারাডাইস এর মতো ..
এভারগ্রীন!

শুধু প্রথম নয়,
তুমি আমার প্রথম
এবং শেষ প্রেম;
এরি মাঝে আর কেউ কোনোদিন
আসেওনি, আসবেও না!
যদি কোনদিন আমাদের দেখাও না হয়,
অদৃষ্টের বিড়ম্বনায়!
আমি ট্রেজার করে রাখবো আজীবন তোমার সাথে থাকার স্বর্ণালি সময় গুলোকে !
তুমি আমার অতীত বর্তমান আর ভবিষৎতের সঙ্গী!
হা, এখনো ভালোবাসি!

 

সুনয়ন দাশ

 যদি প্রেম চাও তবে খুন হও

  সুনয়ন দাশ

নির্জনতায় , মৌনব্রত দুপুরের কার্ণিশে তুলে রাখো
তোমার ‘আমি’-কে ।
আমাকে খুঁজো না , পাবে না !
আমি নিঁখোজ হয়েছি জেনো যীশু ক্রশবিদ্ধ হবার আগে ,
বেথেলহামের আস্তাকুঁড়ে ঘুমিয়েছি এক অনন্তকাল
তুমি ভালোবাসবে বলে ।

যদি প্রেম চাও তবে গ্রহণ করো
নিঃশব্দে, ডুবে যাও অতল গভীরে চুপিচুপি
ধ্যানমগ্ন -তোমার ‘তুমি’।
আমাকে খুঁজো না , পাবে না
আমি খুন হয়েছি জেনো আ্যন্টোনির যুদ্ধের ময়দানে
ক্লিওপেট্রার আত্মহননের আগে ।

আফরোজা বেগম লতা

পোস্টবক্স থেকে কবিতা বিভাগে সংযোজন কবিতা আবৃত্তির ভিডিও। বিভিন্ন কবিদের কবিতার আবৃত্তি থাকছে এই বিভাগে।

এই পর্বে থাকলো লেডী এন এ চৌধুরী হৃদির লেখা ” উত্তর ” কবিতাটি আবৃত্তি করেছেন আফরোজা বেগম লতা।

অলংকরণ: গুগল

 

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]