কবিতা পাঁচ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

ঘাস ফড়িঙের গান

হুমায়ুন বাদশাহ্

অধরা, মনে আছে?

সেই যে একদিন-

ঘাস ফড়িংয়ের গান নিয়ে কথা।

তুমি প্রশ্ন করেছিলে-

ঘাস ফড়িংয়েরা কি গান করে?

আমি বলেছিলাম- কখনো শুনিনি।

হয়তো ডানা কাঁপানোর শব্দ,

নয়তো বাতাসের গুঞ্জন।

তোমার মনে আছে কি?

হয়তো মনে আছে, কিংবা নেই;

আমার কিন্তু মনে আছে।

সেই যে মোশন ক্যামেরা,

পোলারাইজিং ফিল্টার,

সী বীচে ছবি তোলা।

ফেড আউট!

প্যানিং, আমার শৈশব,

পুরোনো বাই সাইকেল,

ধাবমান তোমার দূয়ারে।

ফেড ইন! কাঁচের আড়ালে তুমি,

স্যুটিং থ্রু দ্যা সারফেস।

আমার বালক বেলার গান-

ঘাস ফড়িংয়ের চপল নৃত্য,

আবাল্য প্রেম,

মথিত হৃদয়,

ধূলোয় ধুসর পথ,

বাঁশের সাঁকো,

থর থর জল.

ডানকিনে মাছ,

জলজ শৈবাল।

মনে আছে!

তোমার শৈশব,

আমার ছেলেবেলা,

রাতের জোনাকি,

ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক,

চকিত কৌতুহল,

তোমার অবাক প্রশ্ন-

ঘাস ফড়িংয়েরা গান করে কি?

 

প্রাক্তন নাগরিক শেষ দেবদূত

নূর হোসেন আল কাদেরী 

নূর হোসেন আল কাদেরী

জাগ্রত নগরে আজ মানুষের উল্লাস

ক্ষন গননা শেষে জাগে নির্লিপ্ত আকাঙ্ক্ষা।

অবাক ঘুম নামে অধিকৃত রাস্তায়;

প্রেরিত মাংস পিন্ডের লোভে হুমড়ি খেয়ে পড়ে মহাকাল।

অযাচিত জীবনের ক্ষয়ে মু্ক্ত হয় প্রেম, শরীর ও বিধাতা।

পারষ্পরিক বোঝাপড়া শেষে নামে অন্তিম বৃষ্টি;

ঝরে পড়ে, গলে পড়ে আমাদের সব নি:শ্বাস।

তবু কী রয়ে যায় কিছুটা অস্তিত্ব?

গড়িয়ে পড়ে জলের মতো জানালার শিক বেয়ে

শেষ প্রান্তে খানিকটা মরিচার মতো ক্ষত?

তারপর,

সন্ধ্যা নামলে গভীর জলের মাছেদের সাথে চলে

রাষ্ট্রের বেচা কেনা।

যুদ্ধবাজ সাবমেরিনে দেখা মেলে প্রাক্তন নাগরিকের;

আর রক্তাক্ত নদীতে ভাসে মৃত গাংচিল ও শেষ দেবদূত।

 নট গিল্টি

সা’দ জগলুল আববাস

কতোদিন হয়ে গেলো পৃথিবীর হাত ধরে ঘুরতে যাইনি
কেন যেন ছুটে যায় স্মৃতি-ফিকে নীলের ধার ঘেঁষা সমুদ্রের হিল্লোল বহুদিন মনে পড়েনি;
ঐ সমুদ্রে আজো কি গাংচিলেরা উড়াউড়ি শেষে হুল্লোড় তুলে
নাইতে আসে জোড় বেঁধে-আদিমতার খাড়ি আর কূলে;
গত গ্রীষ্মে পুড়ে যাওয়া জঙ্গলটার বয়স কতো হলো
তার কাছাকাছিই হবে কালশিটে পড়া মৌন পাহাড়গুলো ;
লাল নীল সুখ মাখা হারানো কাঁচের মার্বেল যতো
তার ছোট ছোট শরীরে কারাবন্দীর ডোরাকাটা পোষাক লেগে গেছে আমারই মতো,
বছরি মেলায় মাতোয়ারা হয়ে বাঁশীতে এলোমেলো ফুঁ দেয়া ভালো লাগার ভাগ,
গিল্টি অর নট গিল্টি-আসামী আমি ,কব্জিতে ট্যাটু হয়ে গেছে পূর্ণ গ্রহন বলয়ের মতো হাতকড়ার দাগ;
খোকার হাতের ছুটে যাওয়া রঙ্গিন বেলুনগুলো যতো
হারিয়ে গেছে, হয়েছে হত সেগুলো আমারই নাগালে –
আমি প্রতারনার দন্ডে দন্ডিত;

বহুরাত্রি ফকফকা দোল পূর্ণিমায় ইচ্ছার অনুপ্রাসে
পাওয়া না পাওয়ার মাঝামাঝি ফেলিনি কোন দীর্ঘশ্বাস- পুড়ে যাওয়া পাথরের দীর্ঘশ্বাসে!
সময়ের কারাগারের আমি আজ ডেথ সেলের আসামী,
কতো বর্ষা শরত গেলো আকাশের গায়ে বুলাই না হাত-কতকাল হলো বলতো জীবন , শুধু একবার থামি।।

 

 দেবী

রুবাইয়াত নেওয়াজ

 
দেবী তোমার চোখে কাজলের
শেষটানটায় প্রাণ আছে জানো?
আগেও বলেছি তুমি যখন হাস,
সেখানটায় সুখেরা এসে ভর করে।
তারপর সেই সুখগুলো ছড়িয়ে পরে,
তোমার চোখের পাতায়, কপালে
চুলে, গালে, ও ঠোটে।
এভাবে একটু একটু করে সমস্ত শরীরে।
শুধু বলিনি ঐ সুখগুলো,
কখন কীভাবে যেন –
আমাকেও স্পর্শ করে।
আমি তার ছুটে চলা অনুভব করি,
আমার প্রতিটি রক্ত কণিকায়।
হৃদপিন্ড, ফুসফুস, মস্তিষ্ক সহ,
আমার প্রতিটি ধমনী ও শিরায়।
এই সুখটাই আমার হৃদয়ে,
বাম ডান অলিন্দে,
ঝড়ো হাওয়া হয়ে বয়ে যায়।
মহানন্দে ছন্দে নৃত্য করে বেড়ায়,
শরীরের প্রতিটি কোষ কলায়।
আমার সমস্ত স্নায়বিক চেতনায়
আমি অনুভব করি,
নিদারুণ নেশার প্রবল ঘোর।
তোমাকে নিঃশব্দ গগণ বিদারী চিৎকারে,
বারবার বলি, ভালোবাসি, ভালোবাসি।।

 

   বৈরী বৃষ্টি

শওকত আহসান ফারুক

বিচ্ছিন্ন কিছু বিচ্ছেদ
ঘটে তোমার অযাচিত হস্তক্ষেপে,
শ্রবণে-মননে আমি মেঘ পুষি
আকাশ সাজাই সেই মেঘে
তখন বর্ষা নামে পথঘাটে
স্যাঁতসেঁতে পথ মাড়িয়ে একসময়
হাঁটি রোদ্দুরের দিকে…

পথের পাশে ফোটে বাগান বিলাস
নতমুখে বৃষ্টিস্নাত একটি জবা
পথ আটকিয়ে বল্লো, ভালবাসি!
আজকাল কেউ আর এসবে বিশ্বাস করে না।
বরং ফণীমনসার ঝোপঝাড়ে প্রজাপতি হয়ে উড়ি।
রংচটা জীবনে উন্মূল বাসনা ছিল,
ঘর বাঁধবো পাহাড়ে।
বৈরী বৃষ্টি পথ রুখে দিল,

অকারণে…!!

পোস্টবক্স থেকে কবিতা বিভাগে সংযোজন কবিতা আবৃত্তির ভিডিও। বিভিন্ন কবিদের কবিতার আবৃত্তি থাকছে এই বিভাগে।

এই পর্বে থাকলো শাহ্‌রিয়ার খালেদ এবং সুবর্না তাসনিমের কবিতা ও গানের যুগলবন্দি ।

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]