কবিতা পাঁচ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

মিরাজুল ইসলাম

মিরাজুল ইসলামের দুইটি কবিতা

বিম্ববতী 

 

ফর্সা কপালে ভাঁজ এঁকে তুমি কাঁদলে,

গোলাপী অধরে কম্পন ঠেকানোর কোন চেষ্টা তুমি করলে না।

অনর্গল বলতে থাকলে ফেলে আসা

দীর্ঘশ্বাসের দিন রাত্রি।

আমি চোখের সামনে

চুপসে যাওয়া এক লাল আঙ্গুর ফল দেখি।

যার গোপনে ছড়াচ্ছে মিষ্টি লোবানের ঘ্রাণ।

 

বনদেবী

 

ঝুম বৃষ্টিতে

কোন বৃক্ষের নীচে

আশ্রয় খুঁজবে?

 

তুমি বললে, বটবৃক্ষ।

আমি বললাম, অর্জুন।

 

পাঁচ পাতায় ঢেকে যাবে।

দুই পাতা দুই বুকে

দুই পাতা দুই নিতম্বে

এবং

এক পাতা জঙ্ঘা’য়।

 

চুল বেয়ে

ঝরে পড়ুক

রিমঝিম বরষা।

 

রোকসানা শাহ্‌নাজ

অশ্রুত অশ্রু 

রুদ্র আর্তনাদে অপেক্ষায় থেকেছি —

গড়েছি চন্দনকাঠের প্রেমাশ্রম।

একটি লাল-সবুজ ডুরেশাড়ির আশায়,

কাটিয়ে দিয়েছি কত বর্ষণ মন্দ্রিত রাত।

চারিদিকে অনন্ত হাহাকার—

মায়ের অশ্রু,শিশুর চিৎকার,

পিতার আর্তনাদ;

বিশাখা নক্ষত্রের কাছে আলো নিয়েছি ধার।

 

একটি শুভ্র জলজ ফুলের জন্য

কত জল-জংগল, পর্বত-কন্দর দিয়েছি পাড়ি।

নয়টি গ্রহের কাছে বেচে দিয়েছি

নয়টি অনিন্দ্য সুন্দর পুর্ণিমা আমার—

আরণ্যক আঁধার স্বাক্ষী, স্বাক্ষী বাম হাতে বেয়োনেটের গুলি,

স্বাক্ষী কৃষ্ণাচতুর্দশী।

 

 

প্রাচীন নগরীর এগারোটি দরজায়

করাঘাত করে গেছি অবিরাম।

অবিশ্রান্ত বর্ষণে, মাটি ফাটা রোদ্দুরে—

করেছি স্বেচ্ছা স্নান।

আমি রাজনীতি বুঝিনি, বুঝিনি সমাজনীতি ;

বুঝিনি লাল মলাটে বাঁধা লেনিন কিংবা মার্ক্স!

তবু্ও আমার রক্তে ভেজা শাড়ি —–

শুকোয়না কেন আজ?

 

সাবরিনা শারমিন চৌধুরী

বেহেশতী কামোদ্যানে রজঃস্বলা বালিকা

নির্নিমেষ চেয়ে দেখে জীবনের অতলান্তিক অন্ধকার
অন্ধকারে ফুঁপিয়ে ওঠে ক্ষত বিক্ষত বিদ্ধস্ত শরীর
সঙ্গোপনে লুকানো লাল জবার শিহরণ ক্ষয়ে গেলে
রেণু ঝরে যায় বেগুনি রঙের প্রজাপতি মনের।

ঘাসফুল ও ফড়িং এর কানে কানে একটা গল্প হয়েছিল সেদিন
ঘননীল হায়াসিন্থেরা হাসিমুখে স্বপ্নগুলো ধরে রেখেছিল
দু’মুঠো নিঃশ্বাস আজও জমা আছে আষাঢ় শৈশবে
শুধু নেই কোথাও অবাক চোখের বালিকারা, নেই
সেদিনের সেই গল্পে, হায়াসিন্থ স্বপ্নে, অথবা আষাঢ় শৈশবে।

কংকর বিছানো পথে বালিকাদের নগ্ন মৃতদেহ হেঁটে চলে
ঈশ্বরের পুষ্পজিত শয্যার খোঁজে।

বালিকাদের মৃতদেহে ইরানী গোলাপের যৌবন হাসে
আর্তনাদের ছিন্ন যোনী সুগন্ধা বেলী হয়ে ঝরে পড়ে টুপটাপ
সার্জিক্যাল সুচীশিল্পে মেরামত হয়ে আসা বেলীফুল যোনীরা
সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে রয় ঈশ্বরের বেহেশতী কামোদ্যানে।

ছিন্ন যোনী সুগন্ধাদের আত্মহননের অগ্নিতাপে ঈশ্বর সংজ্ঞা হারান।
বেহেশতী কামোদ্যান ভেসে যায় সদ্য রজঃস্বলা বালিকাদের রজঃশ্রাবে।

 

শ্রাবণী জুঁই

মহামান্য 

খাম বদলে ফেলুন মহামান্য

এবার নীল নয় লাল খামে পাঠান বার্তা

সাইরেন বাজাতে বাজাতে সে বার্তা বলুক

আপনিও হারিয়ে গেছেন গুপ্ত অভিযানে।

 

খাম বদলে ফেলুন মহামান্য

যেমন করে প্রেমিকারা বদলে ফেলে বাড়ির ঠিকানা

অযোধ্যা লেন থেকে কৈবর্ত লেনে আপনার বার্তাটি হারিয়ে গেলে ব্যস্ত নগরে নামে না কোন পাগল।

 

খাম বদলে ফেলুন মহামান্য

দীর্ঘ শীত নিদ্রায় চলে যান অতল গহ্বরে

বিভাজন নীতিতে ছড়িয়ে যান ছড়িয়ে যান সর্বত্র

ঘুমোতে ঘুমোতে চলে যান মধ্যাহ্ন দ্বীপে।

 

খাম বদলে ফেলুন মহামান্য

এবার হলুদ খামে আসুক বার্তা

যে বার্তায় আপনি লিখেছেন

মন হারাবার অপরিবর্তিত খবর।

 

ফারহানা নীলা

জলের উৎস 

ফারহানা নীলা

বেদনার পায়ে বেঁধেছি ঘুঙুর

এখনো আমার সাঁঝবাতির আলোয়

সলতে পোড়া ঘ্রাণ,

মন খারাপের কথা বলতেই

উড়ে আসে নীরবতার বরফ।

নীরবতায় রেখেছি অনেক অভিমান,

নিশ্চল পাহাড়ের গায়ে লিখে এসেছি

ঝর্ণার মিহিদানা ধারার নীরব অভিধান।

জলের বুকে দুখের ক্ষত ; পাহাড়ের অনিঃশেষ ক্রন্দন,

পাথরের উপর জলের সচলায়তন।

 

আমি জল খুঁজিনি!

স্বাদে নোনা কিনা তা জানিনি!

শুধু উৎস থেকে দূরে সরে এসে আবার

খুঁজেছি জলের দুখ ; বারবারই আমি উৎস খুঁজে

ফিরে পেয়েছি লেপ্টে থাকা চোখ কাজল!

আওসাফ রাহমান

পোস্টবক্স থেকে কবিতা বিভাগে সংযোজন কবিতা আবৃত্তির ভিডিও। বিভিন্ন কবিদের কবিতার আবৃত্তি থাকছে এই বিভাগে।

এই পর্বে থাকলো সা’দ জগলুল আববাসের লেখা  ‘তুমি’ কবিতাটি। আবৃত্তি করেছেন আওসাফ রহমান।

কাভার ছবি ও অলংকরণ: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]