কবিতা পাঁচ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

মাহমুদ খুরশিদ

তালাস

জীবনের ঘুড়ি উড়ে, হৃদয়ের চাকা ঘোরে
কাছে এসে মিছে কেন পালাস ?
নতুন স্বপ্ন করি তালাস!
প্রেম যদি ফিরে আসে, সময়ের ফিকে ঘাসে
নিভে যাওয়া দ্বীপ কেন জ্বালাস
নতুন স্বপ্ন করি তালাস।
ধোঁয়াশা ধোঁয়াশা সবই, দেয়ালে টাঙানো ছবি
বিবেকের তাড়নায় পালাস
করি নতুন স্বপ্ন আজও তালাস।।
নিয়তির অনুক্ষন, অমোঘ সমর্পণ
সময়ের বাঁক; করে বিলাস
তবু নতুন স্বপ্ন করি তালাস।
অজানা বিচ্ছেদে, সময়ের বলিরেখা
হৃদয় মুঁচড়ে কেন জ্বালাস
আজও নতুন স্বপ্ন করি তালাস।
নতুনের আহবানে, হাজার প্রদীপ জ্বলে
আধাঁর করে দেব খালাস।
নতুন স্বপ্ন করি তালাস।

খোন্দকার সোহেল রানা

রাতপ্রহরের কাব্য

মিনিট, ঘন্টা, প্রহর গুনে আমার রাত্রি হলো সারা।
তুমি দ্বিপ্রহরের শেষভাগে বাতি নিভিয়ে শুইলে,
আমি একটুখানি দূরে, হাত বাড়ালেই পারবে ছুঁতে।
কিছুক্ষণ মুঠোফোনে করলে বিচরণ, তারপর –
শাসন সমেত নিরব করে রাখলে পাশে,
প্রস্তুত ঘুমের দেশে যাবার।

পাশের দালানে সমস্তরের ঘরটিতে তখনো আলো জ্বলছে
তুমি এপাশ থেকে ওপাশ করছো
আর কি যে সব আকাশ পাতাল ভাবছিলে
তার আদি-অন্ত্য কিছুই জানিনা।
হয়তো ভাবছিলে –
কিভাবে এই মায়ার বাঁধন ছিঁড়বে, কবে মুক্তি!
তবে একটি বারও আমার কথাটি ভাবোনি
কেমন করে কাটবে আমার দিন,… সে নিশ্চিত!

ধীরে ধীরে তোমার নাসারন্ধ্রের সুর –
তাল-লয় ঠিক রেখে বেজে উঠল
বুঝলাম নিদ্রা দেবী আসন করেছেন ঐ মায়ার চোখে
এবার হয়তো লাল-নীল ভাবনারা স্বপ্নের চালচিত্র হবে
আর আমি জেগে আঁধারের স্বাক্ষী!

মাঝে মাঝে আমি একবার বসছি, তো আবার শুয়ে
এরই ফাঁকে দু’এক লাইন কাব্যসঙ্গ – ‘রাত প্রহরের কাব্য!’
আর কল্পনায় তোমার সাথে কথা বলা।
কি আর করা –
ঘুম যে দিল আমার দু’চোখ ফাঁকি!

রাত্রি তখন তিন প্রহর
হয়তো হঠাৎ ঘুমঘোরে, নয়তো স্বপ্ন আবেশে –
তোমার ছুটে চলা, আর নুপুরের ঝুনঝুনি।
তড়িৎ আমার মুঠোফোন গেল উল্টে
এই ম্লান আলোতে যদিবা তোমার ব্যাঘাত ঘটে ঘুমে
আমি নিশ্চিত নিদ্রা দেবীর রুষ্ট বাক্য ফুটবে তোমার মুখে।
ওদিকে হঠাৎ পাশের দালানে আবার বাতি জ্বললো…
যাক বাঁচা গেল, দু’এক মিনিটে ওপাশে আঁধার নামলো।

তিন প্রহরও মিলিয়ে গেছে, চার প্রহরের মধ্য
আমি একা বসে, নীরব এ ঘরে, আঁধার আমার সঙ্গ।
আশেপাশের দালানগুলোতে যে দু’একটি বাতি জ্বলছিল –
নিভে গেছে। গলির সারমেয়রাও শ্রান্ত।
মাঝেমধ্যে প্রহরীর বাঁশির শব্দ ছিল তাও নেই
আর একটু পরেই শোনা যাবে মুয়াজ্জিনের আহবান
তার একটু পরেই সুবেহ-সাদিক। আহা –
দিন আর রাত্রির মিলন ক্ষণ, সেকি অপরূপ আভা!

ঠিক যেন, এই মুহুর্তের তোমার মুখচ্ছবি
কি শান্ত, প্রগাঢ়, উজ্জ্বল আভায় উদ্ভাসিত!
তুমি কখনোই জানবেনা, কিভাবে ‘তস্কর’সম-
চেয়ে থেকেছি তোমার ওই ঘুমন্ত মুখপানে, অন্ধকারে, বারেবারে
দেখেছি, নিঃশ্বাসের তালে তালে তোমার শরীর ভেসে চলা
আর আমি মনে মনে ভেবে চলি, আঁধারের যাত্রী
প্রহরের মোহনায় যোগী, যেন পার্থিব রাত্রিতে তোমারই প্রার্থী।

শিখা রহমান

জানি তুমি অংকে কাঁচা

জানি তুমি অঙ্কে কাঁচা…
তারপরেও বুঝে নিও চাহনির অনুপাত,
কটাক্ষের সমকোণ, সূক্ষ্মকোণ…
ভুরুর বাঁক,
ঠোঁটের জ্যামিতি,
বুঝে নিও দৃষ্টি সরল নাকি বক্ররেখা।

বিন্দু ছুয়েঁ দিয়ে তুমি বৃত্ত একেঁ নিও,
ত্রিভুজের ভরকেন্দ্র,
উপত্যকার ঢাল,
গ্রীবার বাকেঁর উপবৃত্ত।
আকঁ কষে জেনে নিও উড়ন্ত চুমুর গন্তব্য!!

জোয়ার ভাটার হিসেবে বুঝে নিও
অভিমানে কতোখানি টাল খায়
বুকের নদীর গতিপথ,
জলজ গতিবেগে পাড়ের ভাংচুর;
শরীরেরা কতো কাছে এলে আকর্ষনে
ভেংগে পড়ে যৌনকাতর সাকোঁ,
মিলিয়ে নিও নিতম্বের ওঠানামার কম্পাংক।
.
সম্পর্কের প্রাসাদে সিড়িঁ গুণে
উঠো মনের চিলেকোঠায়,
চাওয়া পাওয়ার মধ্যাকর্ষন সমীকরণে
ভালোবাসার ওজন বসিয়ে কষে নিও
পতনের ফলাফল।

জানি তুমি অংকে কাঁচা …
তারপরেও জেনে নিও অপেক্ষা ভালোবাসার ব্যস্তানুপাতিক,
ভালোবাসা শুণ্য হলে অপেক্ষা অসীম হয়ে যায়…
পারলে বুঝে নিও ভালোবাসলেই কেবল ১+১ =১ হয়!!

নূর নাহার তৃপ্তি

তরুণীর শহরে

নগরীর বাঁকে বাঁকে
আমাদের জমতে থাকা স্মৃতি
অনেক কথার ঝাঁপি
আড়ালে গিয়ে অচেনা যুগলে
এক্কাদোক্কা খেলে!
আশ্বিনে বৃষ্টি, ভেজা কাশবন
চুপসে যাওয়া আবেগ!
টুপ করেই খসে পড়ে বেসুরো বিকেল।
রাতের আঁধারে পথ হারানো মন,
কচি ধানের ঘ্রাণ, মুঠোয় জোনাক পোকা।
গলায় লেগে থাকা আলিঙ্গনের ঘাম!
বাক্সবন্দী রঙিন কোন ফিতায় দুলছে সেই জীবন!
নিয়ন আলোর নিচে হারিয়ে যাওয়া জোছনায়,
প্রিয় কিছু সুর আর নক্ষত্রের আনাগোনা।
হঠাৎ ছুটে যাওয়া উল্কো
চোখ বুঝে ভালবাসাটাকে খুঁজে ফেরা,
পিছনে বাড়ি ফেরবার তাড়া।
গলিটা পেরুলেই বুঝি ফিরে আসবে
তরুণীর সেই শহর চেনার বেলা।।

সুনয়ন দাশ

প্রেম নয় হয়তো প্রেমের মতো

একটা গল্পে মুড়ে যদি তোমাকে আমার করে নি
-কেমন হয় ? আহা্ ওসব প্রেম টেমের কথা বলছি না !
ধরো , নিঝুম রাতের কোন ঝড়ো হাওয়ায় অজানা গন্তব্যের উদ্দ্যশে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের ছোট্ট এক কামরায়
তুমি আর আমি জানালা খুলে বৃষ্টি দেখছি তুমুল বৃষ্টি ,
হয়তো খানিকটা ভিজেও গেছো তুমি ।
তোমার এলো চুলে দারুণ শ্রাবণের বর্ষায় উড়ে যাওয়া ছাতার মত একাকী অপেক্ষায় ভিজে যায় আর
ভিজে যায় ।
ধরো , একটা নদী উপর। প্রবাহী নদী বক্ররেখায় আলুথালু চুল কতগুলো সভ্যতা বয়ে বেড়াতে বেড়াতে ক্লান্ত এক স্রোতস্বনী প্রেয়সী , নাম অজানা । তুমি দেখতে ঠিক সেই নদীর মতো বেসামাল বেহায়াপনায় পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ । তুমি একাকী যেন চলে যাও ঠিকানাহীন মিলিয়ে যাও রাত্রিময় রহস্যের ওপারে । আহা্ ওসব প্রেম টেম একদম বাজে কথা ।
একটা কবিতার শিরোনাম মুড়ে যদি তোমাকে তুলে রাখি আমার কবিতার খাতায়, থাকবে(?) পাশে-
যদি কবিতার শব্দের আনাচে কানাচে কোথাও , কোথাও একটা জায়গা করে নেয়া যায়, কোথাও একটা দাড়ি কমা সেমিকোলন তবে (?)।
ভোরের নি:সঙ্গ নরম আলোয়
ধরো আকাশে কালো মেঘ আর বৃষ্টির লুটোপুটি ,
গরম পেয়ালায় তোমার জন্য একমুঠো ভালোবাসা সাথে
নাতিদীর্ঘ অপেক্ষার একটা দিন অত:পর
ট্রেনের হুঁইশেল । একটা সবুজ সিগন্যাল –
(কুঁ ঝিক ঝিক )
কবিতারা পার হয়ে যায় অলখে , গোপনে ।
তোমার সাথে সঙ্গোপনে ভাবনার জলছাদে
কবিতার কানামাছি ।
ওগুলো তোমার জন্য শুধুই কবিতা,
প্রেম নয় হয়তো প্রেমের মতো ।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]