কবিতা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লীনা ফেরদৌস

বিশ্ব কোয়ারেন্টাইন

বাক্সবন্দী বাঁচার লড়াই শেষ হলে

আমিও একদিন আগুনপোড়া রোদ ছোঁব,

তুমি অপেক্ষায় থেকো

অমলকান্তি।

আজ নিশ্বাসও পৃথক হতে চায়

বাতাস থেকে-

শ্বাসনালীতে কখন দুমড়ে

মুচড়ে ঢুকবে পিশাচ

মৃত্যুবীণা বাজিয়ে চলেছে

মন ,

ধাবমান মেঘে সাঁতার

কাটে শবের পরে শব

আশঙ্কা আর দুশ্চিন্তায়

কম্পিত মানচিত্র

হাতের মুঠোয়

বিষাক্ত স্পর্শ ,

পাতাদের মর্মরে

নিস্তব্ধতার হাহাকার

নিঃসঙ্গ ঘরের জানলায়

দাড়িয়ে দেখি-

দুরে জাম আর

জামরুলের পাতায়

হাসি মাখা মিষ্টি

একফালি লাজুক রোদ,

অমলকান্তি,

কোন এক নির্জলা দুপুরে

আমি একফালি লাজুক

রোদ ছোঁব।

আতঙ্কিত খবরে ভারী

ইনবক্স

স্ক্রল করে করেও খুঁজে

পাই না জীবন

অনির্দিষ্ট লক ডাউনের

রোজনামচা নিঃসীমের দিকে জমা

হতে থাকে কষ্ট,

একা একা ভাঙাচোরার

খেলা,

হিসেবি ডাল-ভাত,

অথচ কালবোশেখির

তাণ্ডব উপেক্ষা করেও

খড়কুটো মুখে নিয়ে

ফিরছে পাখিরা,

আমরাও আবার অফিস

শেষে ঘরে ফিরবো

খোলা প্রান্তরে ছুটে যাব

ছুটির দিনে,

আহ! কতদিন নরম রোদে

গা ভেজাই না!

নিস্পন্দন সময় কেটে

গেলে

হলদে সোনারোদ

সকালের জন্য

আমৃত্যু অপেক্ষা করো

অমলকান্তি।

কারফিউর নিকষ

অন্ধকারে

হঠাৎ যৌবন হারিয়ে

ফেলা শহরটি

যন্ত্রণার স্রোতে আজ বড্ড

বেশী এলোমেলো

স্বপ্ন রোমন্থন করে,

নিয়ন বাতির মায়া অনেক

দূর অবধি চলে গেছে

গলিতে গলিতে নেমেছে

সন্ত্রাস

আতঙ্কিত অস্পষ্ট

গোঙ্গানি,

অন্ধকার ছাপাখানা থেকে

বেরিয়ে এস অমলাকান্তি

তোমার চোখ আগুনে

লাল

তুমি রোদ হও, তুমি রোদ

হও-

বিশ্ব কোয়ারেন্টাইন কেটে

গেলে

আমি একদিন দুহাত ভরে

আগুনরঙা রোদ ছোঁব।

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]