কবিতা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

তাছলিমা হোসেন শিখা

দহন

(উৎসর্গ: রুমানা মঞ্জুর, হাওয়া আক্তার জুঁই ও সাজিদা ইসলাম পারুল)

রুমানার কথা মনে পড়ে?
সেই সুনয়না রুমানা মঞ্জুর
দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের শিক্ষক ছিলেন
আইন পেশায় যিনি এখন সিদ্ধহস্ত।
এবার নিশ্চয় মনে পড়ছে?
উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য বিদেশ যেতে
চাওয়ায় তার চোখ দুটো খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে
উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়।

কী নিষ্ঠুর! কী নির্দয় পুরুষ!
বুকের ওপর চড়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে চোখ দুটো
ক্ষত করতে একটুও কষ্ট হয়নি?
এ দু’চোখেই তো তোমাকে নিয়ে এঁকেছিল স্বপ্ন।
পেরেছিলে রুমানাকে থামাতে?
আসলে রুমানাদের থামানো যায় না;
তারা বাধার পাহাড়গুলো চিরে
তৈরি করে মসৃণ পথ,
আজ রুমানা তার পাথর দৃষ্টি
দিয়েই করেছে বিশ্বজয়।

সদ্য ফোটা জুঁইয়ের কথা মনে আছে?
যে চারিদিকে সুবাস ছড়াতে চেয়েছিল!
মেধাবী হাওয়া আক্তার জুঁই,
স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে পড়তে চেয়েছিল।
খুব কি বেশি কিছু চেয়েছিল মেয়েটি?
এই ছোট্ট চাওয়ার অপরাধে তাকে
হারাতে হয় হাতের চারটি আঙ্গুল।
স্বপ্নমাখা এক সকালে প্রবাসী স্বামী ভালোবাসার
ছলনায় ভুলিয়ে মুখ বেঁধে চাপাতি দিয়ে
কেটেছিল তার আঙ্গুলগুলো।

কী নিষ্ঠুর! কী নির্দয় পুরুষ!
নরম তুলতুলে আঙ্গুলগুলো কাটতে
একটুও হাত কাঁপেনি?
একদিন এই আঙ্গুলগুলোই তোমার সারা
দেহে ভালোবাসার পরশ বুলিয়েছিল।
সেই জুঁইও কিন্তু হার মানেনি,
সে কলেজের গন্ডি পেরিয়ে আজ প্রতিষ্ঠিত।
আসলে পাপড়ি ছিঁড়লেই জুঁইদের সুবাস
ছড়ানো ঠেকানো যায় না!

কয়েকদিন ধরে অন্তর্জালে ঘুরে বেড়ানো
পারুল নামের ফুলটির ছবি খুব পোড়াচ্ছে!
এ কেমন দহন যে সমুদ্রের জল শেষ হয়ে যাচ্ছে,
তবুও নেভানো যাচ্ছে না মনের অনল।
খুব কি বেশি কিছু চেয়েছিল মেয়েটি?
স্বপ্ন দেখেছিল একটি ঘরের, সেই ঘরে
দুটি প্রাণ হেসে খেলে বেড়াবে,
এইটুকুই তো চাওয়া ছিল তার!

প্রাণের সঙ্গে যে প্রাণ বেড়ে উঠছিল
সেই প্রাণকে হারিয়ে আজ
পাগলপ্রায় সাজিদা ইসলাম পারুল!

কী নিষ্ঠুর! কী নির্দয় পুরুষ!
নিজের ঔরসজাত ভ্রুণকে হত্যা করতে
তোমার বুক একটুও কাঁপলো না?
দীঘল কালো চুলে মুখ গুঁজে রাতের পর রাত
সুবাস নিয়েছো যে পারুল ফুলের
তাকে আস্তাকুঁড়ে ফেলে দিলে?

পুরুষ তুমি কি জানো না?
পারুল, জুঁই, শিউলী, বকুলেরা
আস্তাকুঁড়ে পড়ে থাকে না।
তারা ঝরে, আবার ফোটে, অন্ধকারেও
চারিদিকে সুবাস ছড়ায়।

রুমানা, জুঁই, পারুলদের দহনে
এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের গায়ে
একের পর এক তৈরি হচ্ছে ঘা,
এত দগদগে ঘা নিয়ে এ সমাজ
বাঁচবে কী করে?

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]