কবি আবুল হাসানের তিনটি কবিতা

আবুল হাসান

সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে, উজ্জ্বলতা ধরে আদ্র,
মায়াবী করুণ
এটা সেই পাথরের নাম নাকি? এটা তাই?
এটা কি পাথর নাকি কোন নদী, উপগ্রহ, কোন রাজা?
পৃথিবীর তিনভাগ জলের সমান কারো কান্না ভেজা চোখ?
মহাকাশে ছড়ানো ছয়টি তারা? তীব্র, তীক্ষ্ণ তমোহর
কী অর্থ বহন করে এই সব মিলিত অক্ষর?

আমি বহুদিন একা একা প্রশ্ন করে দেখেঠি নিজেকে,
যারা খুব হৃদয়ের কাছাকাছি থাকে, যারা এঘরে ওঘরে যায়
সময়ের সাহসী সন্তান যারা, সভ্যতার সুন্দর প্রহরী
তারা কেউ কেউ বলেছে আমাকে-
এটা তোর জন্মদাতা জনকের জীবনের রুগ্ন রূপান্তর,
একটি নামের মধ্যে নিজেরি বিস্তার ধরে রাখা,
তুই যার অনিচ্ছুক দাস!

হয়তো যুদ্ধের নাম, জ্যোৎস্নায় দুরন্ত চাঁদে ছুঁয়ে যাওয়া,
নীল দীর্ঘশ্বাস কোন মানুষের।
সত্যিই কি মানুষের?

তবে কি সে মানুষের সাথে সম্পর্কিত ছিল, কোনদিন
ভালোবেসেছিল সেও যুবতীর বামহাতে পাঁচটি আঙুল?
ভালোবেসেছিলো ফুল, মোমবাতি, শিরস্ত্রাণ, আলোর ইশকুল?

 

অপরূপ বাগান

চলে গেলে-তবু কিছু থাকবে আমার: আমি রেখে যাবো
আমার একলা ছায়া, হারানো চিবুক, চোখ, আমার নিয়তি।
জল নেমে গেলে ডাঙ্গা ধরে রাখে খড়কুটো, শালুকের ফুল:
নদীর প্রবাহপলি, হয়তো জন্মের বীজ, অলঙ্কার-অনড় শামুক।

তুমি নেমে গেলে এই বক্ষতলে সমসবত কি সত্যিই ফুরোবে?
মুখের ভভিতরে মলিন দাঁতের পংক্তি-তাহলে এ চোখ
মাথার খুলির নিচে নরোম নির্জন এক অবিনাশী ফুল:
আমার আঙুলগুলি, আমার আকাঙ্খাগুলি, অভিলাষগুলি?

জানি কিছু চিরকাল ভাস্বর উজ্জ্বল থাকে, চির অমলিন!
তুমি চলে গেলে তবু থাকবে আমার তুমি, চিরায়ত তুমি!
অনুপস্থিতি হবে আমার িএকলা ঘর, আমার বসতি।

ফিরে যাবো সংগোপনে, জানবে না, চিনবে না কেউ;
উঠানে জন্মাবে কিছু হাহাকার, অনিদ্রার গান-
আর লোকে দেখে ভাববে-বিরহবাগান ঐ উঠানে তো বেশ মানিয়েছে!

 

প্রেমিকের প্রতিদ্বন্দ্বী

অতবড় চোখ নিয়ে, অতবড় খোঁপা নিয়ে
অতবড় দীর্ঘশ্বাস বুকের নিঃশ্বাস নিয়ে
যত তুমি মেলে দাও কোমরের কোমল সারস
যত তুমি খুলে দাও ঘরের পাহারা
যত আনো ও আযুলে অবৈধ ইশারা
যত না জাগাও তুমি ফুওেলর সুরভি
আঁচলে আলগা করো কোমলতা, অন্ধকার
মাটি থেকে মৌনতার ময়ূর নাচাও কোনো
আমি ফিরবো না আর, আমি কোনদিন
কারো প্রেমিক হবো না; প্রেমিকের প্রতিদ্বন্দ্বী চাই আজ
আমি সব প্রেমিকের প্রতিদ্বন্দ্বী হবো।

Small_flowers14