করোনাভাইরাসঃ সাবধান কার্ডবোর্ড, প্লাস্টিক, স্টেইনলেস স্টিলের বস্তু থেকে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ভয়ংকর করোনাভাইরাস কোনো আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার পর ৩ ঘন্টা বেঁচে থাকে। স্থির বাতাসে ১ থেকে ৫ মাইক্রোমিটার আকৃতির এই ভাইরাস ভাসতে থাকে। তবে বাতাসের বেগ বেশি হলে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস দ্রুত যে কোনো স্থানে অবস্থান নিতে পারে। সম্প্রতি আমেরিকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ(এনআইএইচ) পরিচালিত এক গবেষণায় জানা গেছে, এই ভাইরাসটি আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহারের তালিকায় থাকা কার্ডবোর্ডে তৈরি আসবাবে ২৪ ঘন্টা জীবিত থাকে। প্লাস্টিক এবং স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি কোনো বস্তুতে এটি সক্রিয় থাকে ২-৩ দিন।

এনআইএইচ-এর কীটতত্ত্ববিদ নিল্টজ ভন ডরম্যালিন আর তার সহকর্মীরা করোনাভাইরাসের এই ভয়াবহ আক্রমণের সময় গবেষণা চালিয়ে এসব তথ্য প্রকাশ করেছেন। তাদের গবেষণা বলছে, দরজার হাতল, প্লাস্টিক অথবা ল্যামিনেট করা অেফিসের টেবিলটি এই ভাইরাসের অবস্থানের জন্য উপযোগী জায়গা। তবে তারা জানিয়েছেন, তামার তৈরি কোনো বস্তু বা সমতল এই ভাইরাসটিকে ৪ ঘন্টার মধ্যে মেরে ফেলতে সক্ষম।

কীটতত্বত্তবিদদের গবেষণা অবশ্য শুধু দুঃসংবাদ নয়, কিছু সুসংবাদও শুনিয়েছে। গবেষকরা বলছেন, ৬২ থেকে ৭০ শতাংশ অ্যালকোহল, হাইড্রোজেন পেরক্সাইড সম্বলিত ব্লিচিং পাউডার, যা আমরা ঘরের কাজে নিত্যদিন ব্যবহার করি এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এসব রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে প্রতিদিনের ব্যবহারের আসবাব, অফিসের কাজের টেবিল, দরজার হাতল, গাড়ির সিট মুছে নিলে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উচ্চ তাপমাত্রা একটি বড় হাতিয়ার হতে পারে। তবে সে তাপমাত্রা হতে হবে ৫৬ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড অথবা ১৩২ ডিগ্রী ফারেনহাইট। এত উচ্চ তাপমাত্রা মানুষের শরীর গ্রহণ করতে সক্ষম নয়।

মানুষের পরিধেয় পোশাকে এই ভাইরাস বেঁচে থাকে কিনা সে নিয়েও গবেষণা চলছে। কাপড়ে এই ভাইরাসের আয়ু দীর্ঘস্থায়ী হয় কিনা এ বিষয়ে অবশ্য এখনো কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তারা মনে করছেন পোশাকের লেগে এই ভাইরাস শুকিয়ে যায় এবং তা সেখানেই লেগে থাকে।

সংস্থাটির গবেষকরা বলছেন, তারা এখন তাপমাত্রা এবং বাতাসের আদ্রতায় এই জীবাণুর জীবনচক্র নিয়ে বেশি গবেষণা করছেন।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্র ও ছবিঃ বিবিসি

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]