কারখানার বর্জ্যে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে গ্রামের মানুষ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তোফাজ্জল সোহেল

কারখানার দূষিত বর্জ্যে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন দশ-বারোটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। গ্রামবাসী জানান, মার লিমিটেড নামক কারখানার বর্জ্য এক্তিয়ারপুর খালে নিক্ষিপ্ত করা হয়। চরম দুর্গন্ধ ও দূষণে গ্রামের লোকজনের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। কয়েক বছর ধরে চলে আসা বর্জ্য নিক্ষেপ কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না!

অপরিশোধিত বর্জ্য খাল , কৃষিজমিতে নিক্ষেপের ফলে হাঁস-মুরগি গবাদি পশু মারা যাচ্ছে। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন চর্মরোগ, শ্বাসকষ্টসহ নানান ধরনের পানিবাহিত জটিল রোগে ।কৃষি কাজের সেচ ব্যবস্থা পড়েছে হুমকির মুখে। মারা যাচ্ছে মাছসহ জলজ প্রাণী।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন(বাপা)২০১৫ সালে গ্রামবাসীদের নিয়ে আন্দোলনের নামে। ওই সময় জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ বাপা’র আহবানে পরিবেশ বিষয়ক বৈঠকের আহ্বান করেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক এর উপস্থিতিতে “উৎসে বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা” (ই টি পি) না থাকায় এবং কারখানার বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে নিক্ষেপ করে পরিবেশ-প্রতিবেশ নষ্ট করার দায়ে মার লিমিটেড নামক কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানা চালু রাখার ফলে এলাকাবাসীর সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।পরবর্তীতে সামাজিক আন্দোলন এবং প্রশাসনের বেশ কিছু নির্দেশনাসহ উপজেলা প্রশাসনের বৈঠকে মার লিমিটেড মালিকপক্ষ উৎসে বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে কারখানা চালু করবে অঙ্গীকার করেন এবং কিছুদিন কারখানা বন্ধ রেখে প্রথমে রাতের আঁধারে এবং পরবর্তীতে সার্বক্ষণিক কারখানা চালু রেখেছেন!

পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংসসহ হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকার হুমকি যে কোম্পানি, সেটি এখন পর্যন্ত কিভাবে চালু থাকতে পারে???

বাপার একটি প্রতিনিধিদল ৩ ডিসেম্বর ২০১৯ এক্তিয়ারপুর খালসহ তৎসংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখেন এবং গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলেন।

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]