কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য : জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

আবদুল্লাহ আল মোহন

‘আমি তোমারই. তোমারই, তোমারই নাম গাই, / আমার নাম গাও তুমি’ …
বাংলা লোকগানের জনপ্রিয় দল ‘দোহার’-এর প্রতিষ্ঠাতা, লোকগানের উজ্জ্বল নক্ষত্র কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য। কলকাতাকেন্দ্রিক বাংলা লোকসঙ্গীত ‘গানের দল’ (‘ব্যান্ড নয়’) ‘দোহার’-এর মুখ্য গায়ক ছিলেন অকাল প্রয়াত কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য। তাঁর মতোন সমমনাদের যূথবদ্ধতায় দোহার বাংলা গানে গেঁড়েছে স্থায়ী এক নোঙ্গর, যা সবার কাছেই আরাধ্য। বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য তাঁর দল ‘দোহার’-এর মাধ্যমে দর্শক-শ্রোতাকে মুগ্ধ করেছিলেন নিজস্ব কণ্ঠজাদুতে। আপন পরিচয়ের প্রশ্নে বারংবার স্বীকার করেছেন, ‘‘কালিকাপ্রসাদ

পরিবারের সঙ্গে

কোনও দিন ‘দোহার’ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। ‘দোহার’ আমার প্রাথমিক আইডেন্টিটি। … ‘দোহার’ ব্যান্ড নয়, গানের দল। … আমরা যেহেতু উত্তরপূর্ব ভারতের গান নিয়ে কাজ করি। এই অঞ্চলের মানুষ আমাদের তাদের প্রতিনিধি ভাবে।’’ বাংলা সংগীতের জগতে শুদ্ধ, সাবলীল এবং দক্ষ, মেধাসম্পন্ন কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছিলেন কালিকাপ্রসাদ। ১৯৭১ সালে ১১ সেপ্টেম্বর আসামের শিলচরে জন্ম কালিকাপ্রসাদের।

অসম্ভব প্রিয়, অকাল প্রয়াত মহান এই শিল্পীর স্মৃতির প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালের ৭ মার্চ এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘৃটনায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। প্রয়াণকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো মাত্র ৪৭ বছর। স্ত্রী ঋতচেতা গোস্বামী আর মেয়ে আশাবরীকে রেখে গেছেন কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য। কালিকাপ্রসাদের অকাল প্রয়াণে বাংলার শিকড়ের গানের ভুবনে যে অপূরণীয় ক্ষতি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর আকস্মিক অকালপ্রয়াণে শোকাহত, মর্মাহত হন সকল বাঙালি। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের সঙ্গীত পিপাসুদের, শিল্প রসিকদের মনে বিশেষ শূন্যতা সৃস্টি করে। বাংলা ভাষাভাষী মানুষ একজন ক্ষণজন্মা শিল্পীকে হারালো। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করছি। তিনি যেখানেই থাকুন, চিরশান্তিতে থাকুন। সুরসাধক, শিল্পী কালিকাপ্রসাদ আমাদের মতোন সুরাসক্ত ভক্তের অন্তরে থাকবেন। কালিকাপ্রসাদ ছিলেন এক সুরমাঝি, মানুষের প্রাণের সঙ্গীত লোকসঙ্গীতের প্রবাদপুরুষ, বিশুদ্ধ সঙ্গীতের স্বপ্নদ্রষ্টা, বাংলা লোকগীতির কিংবদন্তি, সবার অন্তরের মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়াকে তাঁর আনরিয়েল লাগতো। অজস্র লাইক মানেই গান হিট নয়। টালিগঞ্জের বেশ কিছু ছবির সঙ্গীত পরিচালক হলেও বাংলা গান নিয়ে বেশ হতাশ ছিলেন কালিকাপ্রসাদ। কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য বাংলা ভাষায় রচিত লোকসঙ্গীত চর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সহজ কথায় তিনি লোকসঙ্গীত গাইতেন। আরও সহজ করে বললে তিনি লোকসঙ্গীত শিল্পী ছিলেন। দুই বাংলায় একজন তুমুল জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত শিল্পী ছিলেন। কালিকা যে ভাবনা মাথায় নিয়ে চলছিলেন, তার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন অনেক বন্ধু। যত দিন না তাঁর নিজস্ব গবেষণা কেন্দ্র হয়, তত দিন পুরাতত্ত্ব পরিষদ ভবনের দরজা কালিকাপ্রসাদের জন্য ছিল অবারিত। মহাপ্রভু মন্দিরের পরিচালন সমিতির সম্পাদক জয়ন্ত গোস্বামী বলছেন, “কীর্তন সংরক্ষণের যে কাজ উনি করছিলেন, তা ভারী আশাপ্রদ। কিন্তু মহাপ্রভু এ কী করলেন?”

বৌ-বাচ্চাসহ কালিকা প্রসাদ

পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপূর্বাঞ্চল এবং বাংলাদেশের নানা ধরণের লোকসঙ্গীত সংগ্রহ করে সারা পৃথিবীর বাঙালীদের কাছে পরিবেশন করত ‘দোহার’। সঙ্গীত পরিবেশন ছাড়াও লোকসঙ্গীত নিয়ে গবেষণাও করতেন কালিকাপ্রসাদ। তাঁর প্রয়াণের পর মুক্তিপ্রাপ্ত দুই বাংলার জনপ্রিয় ‘ভুবন মাঝি’ চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনাও করেছেন তিনি। প্রয়াণের মাত্র কয়েকদিন আগে, সবশেষে সে বছরেরই ১ মার্চ ঢাকায় ছবিটির উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে এসেছিলেন কালিকাপ্রসাদ। তিনি ছিলেন আদতে আসামের শিলচরের মানুষ। বড় হওয়া, সঙ্গীত শিক্ষা – সবই সেখানে। হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গান শুনে বড় হওয়া। ছোট বেলা থেকেই মন ছুটতো টুসু,ভাদু,ভাওয়াইয়ায়। ভাটিয়ালি সুরের উজান বাওয়া গান শুনতে শুনতে একসময় মনে হল জোট বাধা দরকার। তৈরি হল দোহার। কলকাতায় ১৯৯৯ সালে আরও কয়েকজন বন্ধু গায়ক-যন্ত্রীর সঙ্গে তিনি তৈরি করেছিলেন লোকগানের দল ‘দোহার’। নিজের ও দোহার নিয়ে বলেছিলেন, ‘‘দোহার’-এর যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৯ সালের ৭ আগস্ট প্রথম

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। আমার বেড়ে ওঠা আসামের শিলচরে। নিজেদেরকে আমরা ‘সুরমা’ সিলেটী সংস্কৃতির উত্তরাধিকার বলে মনে করি। শিলচর-করিমগঞ্জে তারই একটা পরম্পরা ছিল। আমি ওখানে বড় হয়েছি। এরপর ১৯৯৪ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য বিষয়ে ভর্তি হয়ে কলকাতায় আসা। শিলচরে বেড়ে উঠেছি গানের-সংস্কৃতির মাঝে। আমার বড় জ্যাঠা আলাউদ্দিন খাঁ সাহেবের ছাত্র ছিলেন। আমার আরেক কাকা মুকুন্দ ভট্টাচার্য ছিলেন গণনাট্য সঙ্গীতের দক্ষ শিল্পী। আমার বাবা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বড় মাপের সংগঠক ছিলেন। আমার পিসি আনন্দময়ী ভট্টাচার্য সুদক্ষ সঙ্গীতশিল্পী। শিলচর সঙ্গীত প্রতিষ্ঠানটা উত্তরপূর্ব ভারতের সবচেয়ে পুরনো সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ আমার বেড়ে ওঠা সঙ্গীতের মাঝে। বাড়িতে পড়তে না বসলে বকা খেতে হয়নি; কিন্তু সন্ধ্যায় তবলার রেওয়াজে না বসলে বকা খেতে হয়েছে।’

লোকগানের এই বাণিজ্যিকীকরণের বিপক্ষে ছিলেন তিনি। লোকগানের সারকথা, আধ্যাত্মিক দর্শনকে সত্যিকার অর্থে ধারণ করতে পেরেছিলেন কালিকাপ্রসাদ। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হওয়ার পরও গোঁড়া ধর্মীয় আর সামাজিক বেড়াজালকে ছিন্ন করা বাউলেরা যেভাবে গানে গানেই প্রচার করেছেন নিজেদের দর্শন, ঠিক একইভাবে। কালিকাপ্রসাদের জন্ম হয়েছিল ১৯৭১ সালে। এ কারণে তিনি নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধের সন্তান’ হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করতেন। জন্ম শিলচরে হলেও তাঁর প্রাণটা ছিল পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি সিলেটে। বর্তমান বাংলাদেশের পদকর্তাদের পদ তিনি গাইতেন পরম যত্নে। সুযোগমতো তুলে ধরতেন বৈশ্বিক শ্রোতাদের সামনে। শ্রোতাদের জানাতেন, পৃথিবীতে বাংলাদেশ নামে একটি দেশ আছে। সেই দেশে শাহ আবদুল করিমের মতো গীতিকার জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর ধ্যান-জ্ঞান, সুরসাধনায় ছিল সিলেট। সিলেট লোকসংস্কৃতি, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের বাউল ও মরমি গানকে তিনি গণমানুষের খুব কাছে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি লালন, শেখ ভানু, শাহ আবদুল করিম, দুরবিন শাহ, হাসন রাজা, আরকুম শাহ, উকিল মুন্সি, শিতালং, রাধারমণসহ দুই বাংলার বাউল-ফকিরকে খুঁজে খুঁজে বের করে তাঁদের বাণী, শব্দ সৃষ্টি ও সুর এবং লোকশিল্পী ও সাহিত্যিকদের নিয়ে গবেষণা করতেন। আর গাইতেন এবং গাওয়ার জন্য উৎসাহ দিতেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিখ্যাত সুরকাররা যখন লোককবি হিসেবে শীতলং শাহ কিংবা রাধারমণের পদ থেকে তাদের পরিচয় মুছে দিয়ে পদটাকে নিজের বলে চালাতে কার্পণ্য করেননি, তখন কালিকাপ্রসাদ শেখ ভানু, শীতলং শাহ কিংবা রাধারমণকে পূর্ণ পরিচয়ে অধিষ্ঠিত করেছেন নাগরিক পরিসরে, ব্যাপক মাত্রায়। প্রকৃত সুর ও বাণী তুলে ধরে সুরে সুরে তা প্রকাশ করেছেন দেশ থেকে দেশান্তরে।

সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা নিয়েও কালিকাপ্রসাদ হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন মরমি কবিদের। লালন, শাহনূর, দুরবিন শাহ, হাসন রাজা, শাহ আবদুল করিম কিংবা রাধারমণের গান গেয়ে গেয়ে ভারত-বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ও শহরে ঘুরেছেন। হাওর-বাঁওড়, নদী-নালা, মাটি-মানুষ ও প্রকৃতিকে ভালোবাসতেন। বাউল-ফকিরদের হারিয়ে যাওয়া শিকড়ের গানগুলোকে খুঁজে খুঁজে বের করেছেন। নিজে গেয়েছেন এবং নতুন প্রজন্মকে উদ্দীপনা দিয়েছেন গাওয়ার জন্য। কালিকাপ্রসাদ শুধু শিল্পী বা স্বদেশের দর্শনের প্রচারকই ছিলেন না; তিনি সচেতন ছিলেন বিকৃত লোকসঙ্গীত বিষয়ে। আগ্রহী ছিলেন শ্রোতাদের অবিকৃত বাণী ও সুর শোনাতে। যখনই সুযোগ পেয়েছেন তিনি বলে গেছেন কোন গান কীভাবে বিকৃত হয়েছে। এই গুণটি তেমন দেখা যায় না অন্য কোনো শিল্পীর ক্ষেত্রে। লোকসঙ্গীতের ক্ষেত্রে গভীর মনোযোগ এবং ব্যাপক অনুসন্ধান না থাকলে এই বিকৃতি সহজে ধরা যায় না। কালিকাপ্রসাদ যে শুধু হারিয়ে যাওয়া বাংলার লোকসঙ্গীতই ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তা নয়। বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রসঙ্গীতের দাপটে আমাদের নিজস্ব যেসব বাদ্যযন্ত্র হারিয়ে যেতে বসেছিল সেগুলোও তিনি ধরে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। সারিন্দা, দোতারা, ডুগডুগি ছিল আমাদের বাংলার লোকসঙ্গীতের অন্যতম বাদ্যযন্ত্র। এসব বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে লোকসঙ্গীত গেয়েই এই গান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এই বাদ্যযন্ত্রগুলো এখন আর তেমন দেখা যায় না। বলা যায় এগুলো এখন হারিয়েই গেছে। কালিকাপ্রসাদ নতুন করে লোকসঙ্গীতের মতো বাঙালীর এই নিজস্ব বাদ্যযন্ত্রগুলো তুলে এনে নতুন করে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছিলেন। একটি কথা তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন এবং সর্বত্রই বলতেন যে বাংলার লোকসঙ্গীত যথেষ্ট সমৃদ্ধ। এই ভাণ্ডার কখনই শেষ হবে না। প্রয়োজন শুধু আমাদের জীবনে এই সঙ্গীতকে ধারণ করা। আর এই কাজটাই কালিকা প্রসাদ করছিলেন।
বাউল শাহ আবদুল করিমের প্রতি তার বিশেষ অনুরাগ ছিলো। এ নিয়ে বলেছিলেন, ‘২০০০ সালে শাহ আবদুল করিমের সঙ্গে দেখা করার জন্যে প্রথম বাংলাদেশ আসা। উনার গান আমরা ছোটবেলা থেকেই শিলচরে শুনেছি। আমার কাকার কাছে লোকসঙ্গীতের প্রথম যে গানটি শিখেছি ওটা ছিল শাহ আবদুল করিমের। গানটি ছিল ‘তোমার কি মায়া লাগে না’। কিন্তু তখন আমি জানতাম না যে, এই শাহ আবদুল করিম সেই শাহ আবদুল করিম। কারণ, আমার ধারণা ছিল, যারা গান লিখেছেন তারা কেউ বেঁচে নেই। কারণ লালন বলে, হাসন বলে, রামপ্রসাদ বলে—গানের মধ্যে যাদের ভণিতা পাই, তারা তো পুরানা লোক। হঠাৎ আমরা শুনলাম, আমরা যে বলি, ‘করিম কয় তোমার কাছে মায়া যদি পাই’, এই করিম বেঁচে আছেন। তখন তার সঙ্গে দেখা করার জন্য খোঁজ লাগালাম। শুনলাম সিলেটে থাকেন। চলে এলাম বাংলাদেশ।’ তখন ছিলো ফেব্রুয়ারি মাস। আর তাই প্রাসঙ্গিকভাবেই একুশে ফেব্রুয়ারি আর ভাষা আন্দোলন নিয়ে স্মৃতির খাতার পাতা খুলে তিনি বলেন, ‘এলাম যখন তখন ফেব্রুয়ারি মাস, ভাবলাম যে ফেব্রুয়ারির উদযাপনটা দেখে যাবো। চলে এলাম ঢাকায়। কি দেখবো জানতাম না। জানতাম যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে এখানে বিরাট কিছু একটা হয়। জানার একটা কারণ আছে। আমি যে শহরে থাকি, সেই শহরে ভারতবর্ষে প্রথম ভাষার জন্যে ১১জন প্রাণ দিয়েছিলেন। ফলত ৫২’র ভাষা আন্দোলনের কোথাও তার একটা রেখাপাত করেছিল। দ্বিতীয়ত, মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক মানুষ আমাদের ওখানে গিয়ে উঠেছিলেন। আমার কাকারা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে ওখানে গান গেয়ে টাকা তুলতেন। একাত্তর সালে আমার বয়স দেড় বছর। কাকা আমাকে একটা রেকর্ড প্লেয়ার বানিয়ে দিয়েছিলেন। তার একপাশে ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ, অন্যপাশে অংশুমান রায়ের বিখ্যাত গান ‘বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ।’ বাড়ির বড়রা বলেন, মুজিবের ভাষণ শুনে নাকি আমি কেঁপে কেঁপে উঠতাম, ওটা শুনেই নাকি আমার মুখে বুলি ফুটেছে। … আমি অনেক জায়গায় বলেছি, এখনো বলি, সব বাঙালির যদি কোনো তীর্থ হয়, সেটা একুশের ঢাকা। বাঙালি হিসেবে যদি তীর্থ করতে আসে, তাহলে তার একুশের ঢাকায় আসা উচিত।’

অকালপ্রয়াত শিল্পী কালিকাপ্রসাদকে স্মরণ করে বান্ধব, কবি শ্রীজাত ৮ মার্চ লিখেছিলেন ‘মাটির শ্লোক’। কবিতার ভাষা, ছন্দ, কল্পনায় শোকের উচ্চারণ কাব্যভাষ্যটি অনুরণন জাগায়, চোখে জল আনে। ‘মাটির শ্লোক’-এ পরম প্রিয় বন্ধুহারা কবি বেদনাহত হয়ে লিখছেন,
‘ফুলের গন্ধ ভাল্লাগে না। কাদের বাড়ি সাজায় শোক?
গান ফিরেছে মাটির কাছে। মৃত্যু কেবল মিথ্যে হোক।
পিছু নিচ্ছে হরিধ্বনি। তোমার হরি করিম শা’…
চোখের পাতায় ঘুম নেমেছে, হাতের পাতায় অবজ্ঞা
তোমার মধ্যে মাটিই ছিল। মাটির দোহা, মাটির শ্লোক –
গান ফিরেছে মাটির কাছে। মৃত্যু কেবল মিথ্যে হোক।
হাসতে হাসি বেমানানের, এই নগরের ফকিরচাঁদ
সাথ সঙ্গত রইল পড়ে, ঠান্ডা হাতেই মেটাই সাধ।
চুপের পরে আর কী কথা… ধূপের ধোঁয়া জ্বালায় চোখ…
গান ফিরেছে মাটির কাছে। মৃত্যু কেবল মিথ্যে হোক।
আর ক’টা দিন থাকলে হতো। চড়ুইভাতি’র সময় শেষ,
দোতারা যায় আকাশপানে, সেই যেখানে গানের দেশ…
সবাই আগুন পেরিয়ে এলাম। সবাই তোমার গানের লোক।
গান ফিরেছে মাটির কাছে। মৃত্যু কেবল মিথ্যে হোক।’

ছবি: গুগল

(তথ্যসূত্র : দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা, দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, ইন্টারনেট)

লেখক:সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ভাসানটেক সরকারী কলেজ, ঢাকা