কেন সব ফেলে এগোতে হয়! কেন?

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শিল্পী কনকনকচাঁপা কচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখছেন তার জীবনের কথা। কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো।

গানের ধারায় জীবন বদল হচ্ছিলো। কিন্তু আমি কখনওই বদল হইনা।অনেক দিন শ্বশুর শ্বাশুড়ির সঙ্গে থেকে অনেক আরাম আয়েশই করেছি।এখন জীবনের প্রয়োজনে একলা সংসার পেতেছি।যেহেতু শ্বশুর শ্বাশুড়ি সবাই খুব ভালো মানুষ, তাদের সঙ্গে আমার ওই যে একান্নবর্তী পরিবারের যে সব খুটুর-মুটুর থাকে সে সব একদমই ছিলো না তাই আলাদা হওয়ার পর আমি একদম দম ফাঁপরে পড়লাম। তারপর ও নিজের সংসার বলে কথা। আমার নিজের থালাবাটি তেমন ছিলো না এতো দিন।শ্বাশুড়িমায়ের তৈজসপত্র দিয়েই সংসার চলতো।এবার আমাকে সব কিনতে হচ্ছে।শ্বাশুড়ি মা ও অনেক কিছু আমাকে দিলেন। আম্মা রত্নাপাও কিছু কিছু কিনে দিলেন। এভাবেই দুই রুম দুই বাথরুম এক চিলতে বারান্দা রান্নাঘর ও ডাইনিং রুমের একটি বাসা আমাদের নতুন জীবন এঁটে নিলো।সেই এলাকার স্কুলে বাচ্চারা ভর্তি হলো। তাদের বাসায় রেখে রেখে দুই তিনদিন পর পরই গান রেকর্ডিং প্লেব্যাক স্টেজ পারফর্মেন্স এর জন্য বের হতে হচ্ছে কিন্তু কার কাছে রেখে

ওস্তাদজীর সঙ্গে

যাই! কথায় বলে না? যত মুশকিল ততো আহসান।এমন একজন বাড়িওয়ালা পেলাম তাদের পুরো পরিবারের মানুষ আমাদের এবং আমাদের বাচ্চাদের এমন ভালোবেসে ফেললেন যে পাশাপাশি দুই ফ্ল্যাটের দরোজা বন্ধই হয়না! আমি হয়তো বাইরে যাচ্ছি বাড়িওয়ালা ভাবি বললেন আজ আপনাদের রাঁধতে হবেনা। ইতস্তত করলেও উনি রেগে যেতেন। একটা সময় আমি নিজের বড় বোনের মতো করেই তার উপর নির্ভরশীল হয়ে গেলাম। জীবন অনেক সহজ হয়ে গেলো। বিকেল বেলা সবাই মিলে ছাদে বসে চা নাস্তা খাই।কোনদিন হয়তো আমি রান্না করে পাঠাই। ছোট ফারিয়াকে নিয়ে বাড়িওয়ালা ভাবীর তিন কন্যা একদম কাড়াকাড়ি করে।তাদের হাতেই খাওয়া নাওয়া চলে। সত্যিই ভালো বাড়িওয়ালা ভালো প্রতিবেশী পাওয়াও সৌভাগ্যের ব্যাপার। এখন জীবন যেমন কঠিন হয়ে গেছে, পাড়াপ্রতিবেশি বলে কোন চ্যাপ্টারই নেই জীবনে তখনও অনেকটা এমনই ছিলো কিন্তু আমি ওই ফিরোজা বেগম ভাবীর স্নেহময় ভালবাসায় আমাদের এই সময় শিডিউল বিহীন জীবন আরামেই চলতে লাগলো। উনাদের কথা জীবনের চলতি পথে ভুলতেই বসেছিলাম। আজ এই স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে ফেলে আসা পুরো গল্প ছবি ভাসছে আমার চোখে। আবার ওস্তাদজীর সেই গান মনে পড়ছে।

কত পথ জনপদ

 কত যে নগর চেনা হলো

 কতো যে মানুষ পরিচয়ে

 বন্ধু হলো

 সেই যে দোরে কাঁটালচাঁপা

আর তো ফিরে দেখা হলো না!

 গানটি যখন শিখেছিলাম এবং ওস্তাদজী গেয়ে শুনিয়েছিলেন তখনও যেমন কাঁদতাম এখনো আমার তেমনই কান্না পায়! যে গল্প আমি বলছি,যাদের কথা আজ বললাম তারা সবাই আছেন, আমার এখনকার বাসা থেকে হয়তো জ্যাম না থাকলে পাঁচ মিনিটের পথ কিন্তু সেই সময় সেই বয়স সেই পরিবেশ কিছুই কি আর আগের মতো আছে? পিছু ফেলে আসা সব গল্পছবিই যে দুঃখের তা তো নয় কিন্তু স্মৃতি চারণ করতেই আমার খুব কান্না পায়।শুধু মনে হয় কেন, কেন সব ফেলে এগোতে হয়! কেন?

ছবি:লেখকের ফেইসবুক থেকে

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]