কেমোথেরাপি দেয়ার পরে হিমোগ্লোবিন কমে যায় কেন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডা: হাসান শাহরিয়ার কল্লোল

কেমোথেরাপি এমন একটা ওষুধ যেটি শিরাপথে প্রবেশ করানো হয়। তার অর্থ হচ্ছে এটি রক্তের মাধ্যমে শরীরের প্রতিটি অঙ্গে, প্রতিটি কোনায় প্রবেশ করে । ফলে বাদ যায়না আমাদের বোনম্যারো-ও। বোনম্যারো হচ্ছে আমাদের শরীরের সে অংশ যেখানে রক্তের সমস্ত কোষগুলো (তা সে হোক লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত কণিকা, অনুচক্রিকা বা প্লেটলেট) তৈরি হয়।
কেমোথেরাপি যেহেতু কোষের উপরে কাজ করে সুতরাং ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ বা অনাক্রান্ত কোষ সব-ই এর দ্বারা আক্রান্ত হয়। তবে ক্যান্সার কোষের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে এই ঔষধগুলো ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ এর উপরে যেভাবে প্রভাব ফেলতে পারে , সাধারন কোষের উপরে সেরকম ভাবে প্রভাব ফেলতে পারে না।
সে কারণেই কেমোথেরাপির ফলে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলো মারা যায় কিন্তু স্বাভাবিক কোষগুলো মারা যায় না, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একইভাবে বোনম্যারো-র কোষগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে রক্ত কণিকার উৎপাদন ব্যাহত হয়। যার ফলশ্রুতিতে কমে যায় হিমোগ্লোবিন। শ্বেতকণিকা কমে যায়,  তাই মানুষ সহজেই ইনফেকশনে আক্রান্ত হতে পারে। প্লেটলেট কমে যায় , ফলে বেড়ে যায় রক্তপাত বা ব্লিডিংয়ের সম্ভাবনা।

কিন্তু আশার বিষয় হলো কেমোথেরাপি বন্ধ করার পর, স্বাভাবিক কোষের সাময়িক যে ক্ষতি হয় সেটি শরীর আবার পূরণ করে নেয় । যার ফলে কেমোথেরাপি দেয়ার কয়েক দিন পরেই ধীরে ধীরে বোনম্যারো আবার তার রক্ত কণিকার উৎপাদন স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরিয়ে আনতে পারে।
স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরিয়ে আনার এই প্রক্রিয়াটি একেক জন রোগীর ক্ষেত্রে একেক রকম হয়ে থাকে। ক্যান্সার এর রকম, কেমোথেরাপির ওষুধের সংমিশ্রণ ভেদেও এটা ভিন্ন হয়।
তাই কেমোথেরাপি দেয়ার পর পর রোগীকে সাবধানে রাখতে বলা হয় , যাতে সে সহজে জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত না হয়। তাকে কিছু সহায়ক ঔষধ দেয়া হয়, যাতে তার রক্তকণিকার উৎপাদন স্বাভাবিক হয় । তারপরও যদি কারও হিমোগ্লোবিন প্রয়োজনীয় মাত্রায় উন্নীত হতে না পারে, সে ক্ষেত্রে কখনো কখনো রোগীর ব্লাড ট্রান্সফিউশন বা রক্ত পরিসঞ্চালন দরকার হতে পারে।

যদি খাবারের কথা বলেন, সে ক্ষেত্রে যে সমস্ত খাবারে আয়রনের মাত্রা বেশি যেমন কলা, কচু, লাল শাক, পেঁপে এগুলো খেলে হিমোগ্লোবিন তৈরি হওয়া সহজ হয়। তবে একইসঙ্গে মনে রাখতে হবে হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন অংশটি কিন্তু প্রোটিন। সুতরাং যদি রোগীর শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি থাকে (যেটি ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে খুবই স্বাভাবিক) সে ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত মাত্রায় হিমোগ্লোবিন তৈরি হতে পারবে না। রক্ত কোষগুলো ম্যাচিওর হওয়ার জন্য প্রয়োজন ভিটামিন বি এর কোন কোনটির। সুতরাং এ ক্ষেত্রে ভিটামিন বি টুয়েলভ, ফলিক এসিড ইত্যাদিরও ভূমিকা আছে।

(বি:দ্র: এটা কোন সাইন্টিফিক পেপার নয় । আমি সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে মেডিকেল সাইন্স এর জটিল বিষয়গুলো কে সহজ ভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি মাত্র। মূল বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাকে যতটুকু সম্ভব অপরিবর্তিত রেখে।)

লেখক: ক্যান্সার সার্জারি বিশেষজ্ঞ। [email protected]

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]