কে সে???

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

এমন দিনে তারে বলা যায়…
কারে বলা যায়? পাহাড়রে…

দার্জিলিং

এমন অঝোর অথচ শান্ত দিন পাহাড়ে কারা কারা সত্যিই দেখেছে আমি জানি না। আমি এত বছরেও খুব বেশি দেখিনি। কিন্তু খুব কম দেখাতেও, এই দিনগুলোর কথা পাহাড়কে ছাড়া কাউকে বলা যায় না…।

এমন দিন প্রথম দেখেছিলাম রিমবিকে। আজ থেকে ১৩ বছর আগে।
তখনও টিনএজের কোঠায়। প্রথম পাহাড়, প্রথম ট্রেকিং। সান্দাকফু ফালুট হয়ে এসে রিমবিকে নামতেই টাল সামলাতে না পারা এক অনির্বচনীয় আবহাওয়া। দিনভর রোদে রোদে নেমে এসে বিকেল পড়তেই এমন ভেজা পাহাড়…!

আমি তখন কিশোরী। এ শতাব্দীর তখনও শৈশব কাটেনি। তখন গভীর বিস্ময় আসতো সুলভে, সহজে। তুমুল আনন্দ হতো স্বল্পে, স্বচ্ছে। তখনও ‘সবকিছুই একঘেয়ে’ হয়ে যায়নি জীবনে। তখনও প্রতিটা দিন নতুন ছিলো যাপনে। প্রতিটা স্বপ্ন বিশ্বাসী ছিলো মননে।

সেই দিন সেই জল-জল পাকদণ্ডী হাতড়ে অদ্ভুত এক বিস্ময়ে আর মোহে, তীব্র শীতের শিরশির জড়িয়ে, ভেজা হাওয়ায় উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে বেড়ানোর কথা মনে করলে আজও নেশাচ্ছন্ন লাগে নিজেকে। সত্যিকারের নেশা, যে নেশায় কথা জড়িয়ে যায়, পা টলে যায়, মাথা ঝিমঝিম করে।

এর পরে মনে রাখার মতো পাহাড়ি বৃষ্টি আমার সামনে উন্মুক্ত হয়েছিলো এই সে দিন। সে দিনই বা বলি কী করে, তাও বছর চারেক হলো। ২০১৬ শরৎ। চেনা দার্জিলিং যে শুধু বৃষ্টির সাজে এত রোম্যান্টিক হতে পারে, এত এত এত উদ্দাম হতে পারে, ভাবতেও পারিনি।

কী করে পারবো? আমার প্রথম দেখা দার্জিলিংয়ে কোনও রোম্যান্স ছিলো না। একবুক দুরুদুরু আর কৌতূহল নিয়ে চলে গেছিলাম কেবল।

সানদাকুফ

দশ বছর আগে, বেসিক মাউন্টেনিয়ারিং কোর্স করতে এইচএমআই। কিছুই জানি না, কোর্স ফি দেওয়ার পরে একটা পয়সা এক্সট্রা নেই, কোনও ব্যাক আপ নেই, চলে গেছি। ঘুরে বেড়াচ্ছি। সেটাই যেন এক অভিযান ছিলো। এখন চাদ্দিকে দেখি অভিযানের ছড়াছড়ি। তখন ছিলো না এমন। তখন জানতাম অভিযানের অ-টুকুও শিখতে হলে বেসিক কোর্সটুকু করতে হবে। করতেই হবে। সহজ ছিলো না, ২৮ দিনের জন্য চলে যাওয়া। কিন্তু তখন সহজ-কঠিন ভাবনা আসেনি, ভাবনা ছিলো একটাই। কোর্স করতে হবে। সেই প্রথম আর সেই শেষ, সাপ্লি খেয়েছিলাম পরীক্ষায়। দিতেই পারিনি, কোর্সের জন্য।

এই কোর্সের সময় দু’বার দার্জিলিং ছুঁয়েছিলাম। কোর্সের আগে, আর কোর্সের পরে। প্রথমবার হামাগুড়ি দিতে শেখা বাচ্চার মতো, দ্বিতীয় বার পাড়ার উঠতি ছোকরার মতো। ২৮ দিনের কোর্স করে তখন রক্ত গরম। চারপাশের সবকিছুই তুচ্ছ, ক্ষুদ্র। নভেম্বরের মাঝামাঝি চারপাশে টুপি-জুতো-গ্লাভস ঢাকা বাঙালি পর্যটকদের মাঝে ফিনফিনে টিশার্ট চাপিয়ে ঘুরছি, আর পাশ দিয়ে ফিসফিসে শুনছি ‘মনে হয় লোকাল মেয়ে, ঠান্ডা লাগে না’– ওটাই তখন জীবনের সেরাতম সাফল্য।

হাসি পায় আজ। কিন্তু একরত্তি জীবন তখন, এক্সপোজার নেই কোনও রকম। নেই ফেসবুক। ওইটুকুতেই অদৃশ্য ডানা গজায় ছোট্ট পিঠে…

দার্জিলিং বদলে গেছে কত। বদলে গেছে রিমবিকও। আটপৌরে পাহাড়ি ছেলেটা যেন শহুরে বাবু হয়েছে। কলকাতাও কি কম বদলেছে? সে তো এখন বদলাতে বদলাতে দার্জিলিংই হয়ে গেছে প্রায়… আর বদলেছি আমিও। ডানা মুড়ে দাঁড়ে বসে থাকা পাখির মতো বৃষ্টি দেখি বারান্দা দিয়ে। বৃষ্টি আর বারান্দার মাঝে ফুলগাছের সারি।

সব বদলে যাওয়ার পরেও যেটুকু অপরিবর্তনীয় থেকে গেছে, তা হল এমন দিনে ‘তারে’ বলতে চাওয়ার ইচ্ছেটুকু। মনমাথা জুড়ে থাকা তার জায়গাটা এখনও ক্ষয়ে না যাওয়ার প্রশান্তিটুকু। তার জন্য জান কবুল করতে চাওয়ার বেপরোয়া ইচ্ছেটুকু… কে সে? কার জন্য?
ওই যে, প্রথমেই বললাম…

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]