কে হবে ক্রিকেটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

আহসান শামীম

লর্ডসে আজ রোববার ১৪ জুলাই ক্রিকেট বিশ্ব পেতে যাচ্ছে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ইংল্যান্ড না নিউজিল্যান্ডের মুকুটে বসবে জয়ের পালক এমন  বিতর্ক সব জায়গায়। সমর্থনের পাল্লাটা দু’দিকেই সমানে সমান।কাগজ কলমে শক্তির হিসাবে ইংল্যান্ড এগিয়ে। সেমিফাইনালে ওঠা না-ওঠা নিয়েই  দোদূল্যমান ছিলো নিউজিল্যান্ড কিন্তু সেমিফাইনালে হট ফেবারিটকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর চমকে উঠেছে ক্রিকেট বিশ্ব।ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লডর্সে কখনও হারেনি নিউজিল্যান্ড।

আজও কি সেই রেকর্ড অক্ষুন রেখে বিশ্বকাপটা নিজেদের করে নিতে পারবে নিউজিল্যান্ড ? নাকি, ইংল্যান্ডের জিওফ্রি আর্চার, মার্ক উডদের আগুনে বোলিংয়ের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের পরাজয় ঘটবে? ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নামার আগে ইংল্যান্ডের বোলিংয়ের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডর ব্যাটিংটা যে কঠিনই হবে এমন কথা মানছেন কিউই কোচ গ্যারি স্টিড।

প্রতিপক্ষের পেসারদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করার পক্ষপাতী নন গ্যারি স্টিড। ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে ফাইনাল খেলতে নামার আগে কিউই কোচ সোজাসাপ্টা কথা, ‘আমি মাঠে বন্ধুসুলভ কিছু আশা করছি না। আপনি যখনই মাঠে নামবেন আর ১৪০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন কোনো বোলারের মুখোমুখি হবেন তখন বিষয়টা মোটেও বন্ধুসুলভ কিছু নয়।’

দীর্ঘ ২৪ বছর পর নতুন কোনো দলের হাতে উঠছে বিশ্বকাপ ট্রফি। ফাইনালের ম্যাচ নিয়ে তাই বেশ রোমাঞ্চিত নিউজিল্যান্ডের কোচ। তাঁর বিশ্বাস হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে দুই দল তাদের সেরাটা দিয়েই খেলবে।

বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে গত নয় ম্যাচে নিউজিল্যন্ডের মার্টিন গাপটিলের রান ৭৩, ২৫, ০, ৩৫, ০, ৫, ২০, ৮ আর ১।৩২ বছর বয়সী নিউজিল্যান্ডের এই ব্যাটসম্যান ফাইনালে নিজের সবটুকু নিংড়ে দিতে চান।

১৯৯২ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল ইংলিশরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে সেবার শিরোপার স্বাদ পাওয়া হয়নি তাদের। ২৭ বছর পর আবার বিশ্বকাপ ফাইনলে উঠে সেই স্মৃতিচারণ করেছেন মরগান।

ইংলিশ দলপতি মরগান বলেন, ‘১৯৯২ সালে যখন আমরা ফাইনাল খেলেছিলাম তখন আমার বয়স ছিলো ছয়। সে দিনের কথা মনে নেই। সেই ফাইনালের হাইলাইটস আমি অনেকবার দেখেছি।আবার আমাদের সামনে বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ। এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না।’

২০১৫ সালে একবার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছে নিউজিল্যান্ড।সেই  বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারে কিউইরা।অন্যদিকে, ইংল্যান্ড খেলেছে তিনবার। দুই দলের কেউই শিরোপা জিততে পারেনি। ১৯৭৯, ১৯৮৭ আর ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে যথাক্রমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে পরাজিত হয় ইংল্যান্ড।

লর্ডসে খেলে কোনো ম্যাচেই ২৬৬ রানের বেশি রান করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ইংল্যান্ড চারবার ৩০০’র বেশি রান করেছে এই মাঠে। বিশ্বকাপের ম্যাচে লর্ডসে শুরুতে ব্যাটিং করা দলগুলোর গড় রান ২৮৮।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। পুরো ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তাঁর ব্যাটিং গড় ৪৮.০৪ হলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর গড় ৫৬.০০। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ড ওপেনার জেসন রয়ের ব্যাটিং গড় খুব বাজে। কিউইদের বিপক্ষে মাত্র ১৮.০০ গড়ে রান করেছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের রেকর্ড সাবেক ওপেনার মার্কাস ট্রেসকথিকের ৫৯৫ রান রেকর্ড। ট্রেসকথিককে টপকাতে ৯১ রান প্রয়োজন ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগানের। ৫ হাফ সেঞ্চুরিতে লর্ডসে ৫০৫ রান করেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের আজকের ম্যাচের পারফর্মেন্সের ওপর নির্ভর করছে, এবারের বিশ্বকাপের ম্যান অব দ্য সিরিজ কে হবেন? বাংলাদেশের সাকিব এই দৌড়ে এখনও এগিয়ে থাকলেও শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, নতুন ‘ বিশ্বচ্যাপিয়ন’ আর নতুন ম্যান অব দ্য সিরিজ কার ভাগ্যে ওঠে সেটা দেখার জন্য।

ছবিঃ গুগল