কোভিড ১৯ ও আমাদের যাপিত জীবন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

লুতফুন নাহার লতা

কাল নানা রকম দুঃসংবাদ বুকে নিয়ে ঘুমুতে গেছি। মৃত্যু তো সেই মার্চ থেকে আমাদের পায়ে পায়ে জড়ানো কিন্তু একটি পরিবার যখন সে মৃত্যুর ভেতর দিয়ে যায় প্রতিটি সদস্য একটি ট্রমার ভেতরে থাকে। কোভিড-১৯ মৃত্যু খুব সহজ বিষয় নয়। এ আমাদের পরিচিত পৃথিবী থেকে খুব খুব আলাদা। বিগত ১২ মাস আমরা কেউ কোথাও স্বাভাবিক জীবনে আর নেই।

মানুষের এই পৃথিবী জড়িয়ে ছিলো মানুষের ভালোবাসায় , মায়া, মমতায়, চুম্বনে, আলিঙ্গনে। একে অপরকে নদীর জলের মতো লেপ্টালেপ্টি করে আমরা বেঁচে থাকি। মা, বাবা, ভাই-বোন, বাচ্চারা, আমাদের ‘পরম সন্তানেরা’ (গ্রান্ড চিল্ড্রেন) সবাই তো আমরা বেঁচে থাকি নিত্যদিনের ছোঁয়ায়, স্পর্শের চুম্বক শক্তিতে। ভালোবাসার এক জাদুকরী নিরাময়ে।

কোভিড-১৯ এসে আমাদের নিয়মতান্ত্রিক সেই জীবনকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। রুখে দিয়েছে আমাদের প্রাণের স্পন্দন। এই রোগ, জ্বর , কাশি, ব্যথা, ভয়াবহ শ্বাসকষ্ট আর মাটিতে মিলিয়ে যাবার মত দূর্বলতা দিয়ে অগনিত মানুষকে পরাজিত করছে। আর কাউকে কাউকে রেখে যাচ্ছে নানারকম ভঙ্গুর স্বাস্থ্যে, যার গভীর তত্ব তালাশ আমরা এখনো জানিনা। বিজ্ঞানীরা বলছেন তারাও জানেন না এর আফটার ম্যাথ কি হতে পারে। যাদের লাঙস, কিডনি, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট, ডায়াবেটিস, এজমা , ক্যান্সার, এবং অন্যান্য সমস্যা আছে তাদের আর রক্ষা থাকছে না।

নানা রকম ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে নিদেনপক্ষে যাদের জীবন টুকু রেখে যাচ্ছে তাদের ভবিষ্যৎ আমরা কেউ জানিনা।

এখন ঘরে ঘরে মানসিক রোগ দানা বাঁধছে। একসঙ্গে এত দীর্ঘ সময় তো আর থাকা হয়নি কারোই। প্রথম প্রথম এই পাশাপাশি থাকতে পারাটা যুগলদের জন্যে কবি বুদ্ধদেব বসুর চিল্কায় সকালের মত আনন্দময় মনে হচ্ছিলো সব দুর্দশার ভেতরে কিছুটা হলেও। কিন্তু সবাই আমরা ধৈর্য্যের শেষ সীমানায় এসে গেছি। ছোটখাটো ব্যাপারেও তুমুল মেজাজ খারাপ হচ্ছে।

কি করবো তা জানিনা , কোথায় যাবো তা জানিনা, কি হবে সামনে তাও জানিনা। যে ছেলেমেয়েরা এখন প্রেম করে ঘুরে বেড়াবে, তারা গৃহবন্দী। যে মায়েরা এখন ছেলে মেয়ের বিয়ের বাজার করবে, কিম্বা স্বামীর সঙ্গে হিমালয় দেখতে যাবে তারা গৃহবন্দী। যে সব যুগল এখন দেশ বিদেশ হানিমুন করে বেড়াবে তারা আটকে আছে। যে ছেলেমেয়ে স্কুলে , কলেজে, খেলাধুলায় গবেষনায় ব্যস্ত থাকবে তারা সব একটি অভিশপ্ত অনুজীবের কাছে বন্দী। কি হবে আমাদের আগামীর দিন গুলো!

প্রিয় ছোটবোন চামেলি গোমেজের দুই বোনের নর্থ কারোলাইনার বাড়িতে ক্রিসমাস উৎসবের পরে প্রায় ১০ /১২ জন কোভিডাক্রান্ত হয়েছিলো। একমাস হাসপাতালে জীবন যুদ্ধ শেষে হেরে গেলেন ওর জামাইবাবু দিলীপ গোমেজ। ওর মা, বড় দিদি, বড দাদা’র অবস্থা ভালনা। বাকিরা সেরে উঠছেন।

আমার আর একজন ডাক্তার বন্ধুর মা কাল থেকে নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে আছেন অচেতন।

প্রার্থনা করবেন সবাই তাঁর জন্যে।

মানুষ সেরে উঠুক। মানুষ সুস্থতা ফিরে পাক। আবার নদীর পানি খল খল করে উঠুক। মানুষ মানুষ বলে মানুষের কাছে আসুক। আমাদের ভাইবোন পূত্রকন্যার হাতে সোনার স্বপন থাকুক।

ছবি: লেখকের ফেইসবুক থেকে


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments