কোমল গান্ধার ষাট বছরে…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজের সিনেমায় রাজনৈতিক গল্প নির্মাণ করেছেন ঋত্বিক ঘটক। গল্পে কখনও দেশ বিভাগ, কখনো অমানবিকতা প্রতি তীব্র প্রতিবাদ অথবা যন্ত্রসভ্যতাকে প্রত্যাখ্যানের ছবি আঁকতে গিয়ে একরকম চাবুক চালিয়েছেন ঋত্বিক ঘটক।বাংলা সিনেমায় তুলে এনেছেন রক্তাক্ত সব কাহিনির বিন্যাস।

ঋত্বিক ঘটক নির্মিত কোমল গান্ধার ছবিটি এ বছর ৬০ বছরে এসে দাঁড়ালো। ১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া কোমল গান্ধার ছবির নামটি ঋত্ত্বিক নিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থ থেকেঃ ‘নাম রেখেছি কোমল গান্ধার/ মনে মনে’। কিন্তু এই সিনেমায় চিত্তাকর্ষক কোনো গল্প নেই। আছে কতগুলো দৃশ্যপট, প্রতীক আর সুর। সবকিছু মিলে এক রাজনৈতিক আবহের ভেতর দিয়ে গেছেন ঋত্ত্বিক। আজও সিনেমা দেখে দর্শকের মনে হবে এই আবহের কিছুই পাল্টায়নি।

নিজের সিনেমা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ঋত্ত্বিক ঘটক বলেছেন, ‘আমি কখনোই একটা সাধারণ পুতু পুতু মার্কা গল্প বলি না-যে একটি ছেলে  একটি মেয়ের প্রেমে পড়েছে, প্রথমে মিলতে পারলো না তাই দুঃখ পাচ্ছে, পরে মিলে গেলো অথবা একজন পটল তুললো-এমন বস্তাপচা সাজানো গল্প লিখে বা ছবি করে নির্বোধ দর্শকদের খুব হাসিয়ে বা কাঁদিয়ে ঐ গল্পের মধ্যে ইনভলভ করে দিলাম , দু ‍মিনিটেই তারা ছবির গল্প ভুলে গেলো, খুব খুশি হয়ে বাড়ি গিয়ে খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়ল-এর মধ্যে আমি নেই।’

এখানেই ঋত্ত্বিক ঘটক তার ভয়ংকর কাহিনি বিন্যাস নিয়ে পৃথক পালঙ্কে শয়ান করেন।

কোমল গান্ধারের চরিত্রগুলো ঠিক পুরোপুরি প্রকৃতস্থ নয়।দেশ ভাগের প্রেক্ষাপটে  তাদের কেউ দ্বিধাগ্রস্ত, কেউ অবদমিত, অবহেলিত, কেউ বিকারগ্রস্ত আবার কেউ সুযোসন্ধানী। সবাই যেন এক অস্থির সময়ের নট-নটি।ঋত্ত্বিক ঘটক যখন বলেন, ‘আমি মানুষের সঙ্গে কমিউনিকেট করতে চাই। কাল যদি এর চাইতে বেটার মিডিয়াম পাই, সিনেমাকে লাথি মেরে চলে যাবো।” তখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে সিনেমায় প্রতিবাদের ভাষা তৈরি করতে চেয়েছিলেন এই অসামান্য চলচ্চিত্রকার।তাঁর সিনেমায় মানুষ তার আর্থ সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থানে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সংলাপ উচ্চারণ করেছে। কোমল গান্ধার ছবিতে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের পর শরণার্থী সমস্যা আবার ভিন্ন এক মাত্রায় উপস্থাপন করেছেন ঋত্বিক ঘটক। তবে কোমল গান্ধারে এক ধরণের আশাবাদ কাজ করেছে, যা মেঘে ঢাকা তারায় পাওয়া যায় না। এই ছবির কেন্দ্রে ভারতীয় গণনাট্য সংঘের নিবেদিতপ্রাণ ও আপোশবিহীন মানসিকতা, ঋত্বিক ঘটক তাঁর নিজস্ব ভঙ্গিতে দেশভাগ, আদর্শবাদ, দুর্নীতি, শিল্প ও জীবনের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা, শিল্পের পরিধি ও শ্রেণি-সংগ্রামের বিষয়টি তুলে ধরেন।

ঋত্ত্বিক ঘটকের সিনেমা সবসময়ই এক ধরণের অম্ল স্বাদ তুলে এনেছে গোছানো গল্পের ধারার মধ্যে। ঋত্ত্বিক নিজের সিনেমা নিয়ে বলেছেন, আমি আপনাকে শস্তা আনন্দ দিতে আসিনি।’

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ বঙ্গদর্শন (কলকাতা)
ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box