কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করলো গুগল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জুলফিকার

অত্যাধুনিক সব সুপার কম্পিউটার দিয়েও যেসব সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে না, তা অনায়াসে সমাধান করা সম্ভব হবে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের মাধ্যমে। কে আগে বানিয়ে ফেলবে কোয়ান্টাম কম্পিউটার, তা নিয়ে গত দু’দশক ধরে চলছিল এক রুদ্ধশ্বাস কম্পিটিশন। সে প্রতিযোগিতায় এবার ফার্স্ট হয়েছে গুগল। গুগল প্রথম কোয়ান্টাম কম্পিউটার বানিয়ে দেখিয়ে দিলো তাদের সর্বশ্শ্রেষ্ঠত্ব।

মার্কিন বৃহৎ তথ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল বলছে, তাদের কম্পিউটার প্রসেসর এমন একটি কম্পিউটেশন বা সংখ্যা গণনা মাত্র কয়েক মিনিটে সমাধান করেছে যা আজকের দিনের সবচেয়ে দ্রুত কম্পিউটারেরও সম্পন্ন করতে ১০ হাজার বছর লাগবে। এর মধ্যে দিয়ে কোম্পানিটি দাবি করছে যে তাদের গবেষকরা “কোয়ান্টাম শ্রেষ্ঠত্ব” যাচাই করেছেন।

কোয়ান্টাম কম্পিউটার কি?
কোয়ান্টাম লেভেলের কণিকায় তথ‍্য সংরক্ষণ করা যায়, এদেরকে বলা হয় কোয়ান্টাম ইনফরমেশন। এনট‍্যাঙ্গলমেন্ট, টেলিপোর্টেশন, সুপারপজিশন ইত‍্যাদি ধর্ম ব‍্যবহার করে তথ‍্য আদান-প্রদান, হিসাব নিকাশ করা সম্ভব। কোয়ান্টাম কম্পিউটারে সব গণনা এভাবেই করা হয়। কোয়ান্টাম কম্পিউটারে এমন অনেক কাজ করা যায় যেগুলো সাধারণ কম্পিউটারে করা যায় না। যেমন পলিনমিয়াল টাইমে প্রাইম ফ‍্যাক্টরাইজেশন বা লিনিয়ার সার্চের কমপ্লিক্সিটি স্কয়ার রুট এ নামিয়ে নিয়ে আসা, রাসায়নিক বিক্রিয়া সিমুলেট করা ইত‍্যাদি।
সহজ কথায় কোয়ান্টাম কম্পিউটার হল এমন একটা কম্পিউটার যেটা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের বিভিন্ন ধর্মকে সরাসরি কাজে লাগিয়ে সব কাজ করে। এটি প্রায় ১০০ বছরেরও আগের, পদার্থবিজ্ঞানের একটি ধারণা। পদার্থের পরমাণু এবং এর থেকেও ক্ষুদ্রতম অংশগুলো নিয়ে কাজ করার সময় বিশেষ বিশেষ আচরণের সন্ধান পাওয়া যায়। যেমন, এই ক্ষুদ্র কণাগুলো একই সঙ্গে একাধিক অবস্থায় থাকতে পারে। কোয়ান্টাম কম্পিউটার পদার্থের এই বিশেষ ধর্মগুলো ব্যবহার করে তৈরির চেষ্টা করা হয়ে থাকে।

এই কোয়ান্টাম মেশিন, যা কিনা বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ গবেষণার ফসল, তা কাজ করবে আজকের পরিচিত কম্পিউটারের চেয়ে পুরোপুরি ভিন্নভাবে। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, এই যন্ত্র একদিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সকে অনেক এগিয়ে নেবে অথবা এখনকার ফাইল এনক্রিপশন ব্যবস্থাকে সহজেই ভেঙে ফেলতে পারবে।

একটি দেশের কম্পিউটার নেটওয়ার্কের এনক্রিপশন ব্যবস্থা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এই এনক্রিপশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সে কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সরকার কোয়ান্টাম কম্পিউটার বানানোর গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে । তবে গবেষকদের কেউ কেউ গুগলের ঘোষণায় এখনই খুব বেশি উদ্বেলিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বলছেন, এরকম একটা কম্পিউটার যে তৈরি করা সম্ভব, সেটা আগে প্রমাণ করতে হবে। আর সেজন্য আরও অনেক পথ অতিক্রম করতে হবে।

গুগলের পাশাপাশি মাইক্রোসফট, ইনটেল, আইবিএমের মত বড় কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরেই কোয়ান্টাম কম্পিউটার বানানোর গবেষণায় প্রতিযোগিতা করে আসছে। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিগুলো সাম্প্রতিক সময়ে এ খাতের স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোতে ৪৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। চীন ৪০ কোটি ডলার খরচ করে তাদের কোয়ান্টাম ল্যাব গড়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোয়ান্টাম প্রযুক্তির যতগুলো পেটেন্টের আবেদন করেছে, চীন করেছে তার দ্বিগুণ। ট্রাম্প প্রশাসনও সম্প্রতি এ গবেষণায় ১.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ছবি ও তথ্যঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]