ক্যারুয়াকের ‘অন দ্য রোড’ ৬৪ বছরে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এক‘শ কুড়ি ফুট টানা লম্বা টাইপরাইটারের কাগজে তিন সপ্তাহে একটি সম্পূর্ণ উপন্যাস ‘অন দ্য রোড’ লিখে ফেলেছিলেন মার্কিন ঔপন্যাসিক, পাশ্চাত্যে বিট আন্দোলনের একজন পুরোধা জ্যাক ক্যারুয়াক। আর এই উপন্যাসটি-ই তাকে রাতারাতি বিখ্যাত করে তুলেছিলো। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ক্যারুয়াক উপন্যাসটি লিখেছিলেন নিউইয়র্ক শহরে এক বন্ধুর ফ্ল্যাটে বসে। লেখার শেষ চার ফুট জায়গা তাকে নতুন করে লিখতে হয়েছিলো কারণ বন্ধুর ছোট্ট কুকুরটি সে জায়গাটা খেয়ে ফেলেছিলো।

দুই বন্ধুর আমেরিকা ভ্রমণের গল্প ‘অন দ্য রোড’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে। এখন থেকে ৬৪ বছর আগে। এরও সাত বছর আগে ক্যারুয়াক একটি উপন্যাস লিখেছিলেন। সেই উপন্যাস নিয়ে প্রকাশকদের দরজায় বহুবার হানা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। কিন্তু ‘অন দ্য রোড’ ক্যারুয়াকের লেখক জীবনকে পাল্টে দেয়।পরবর্তী সংক্ষিপ্ত জীবনে ১৮টি উপন্যাস লেখেন তিনি। পৃথিবী জুড়ে কয়েক লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছে তার উপন্যাস। ১৮টি ভাষায় অনুবাদও হয়েছে। নিজের সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এই ঔপন্যাসিক একবার বলেছিলেন,‘আমি খুব সাদাসিধে একজন গল্প বলিয়ে। রাজনীতি আর কূটকৌশল আমার খুব অপছন্দের। আমার জীবনে একটাই লক্ষ্য,যে কোনো ধরণের নিয়ন্ত্রক শক্তিকে এড়িয়ে চলা।’

মাত্র ৪৭ বছর বয়সে ১৯৬৯ সালে পৃথিবীকে বিদায় জানান জ্যাক ক্যারুয়াক। ব্রেন হেমোরেজ। হাসপাতালে অপারেশন করেও বাঁচানো যায়নি তাঁকে। জীবনের গণ্ডীর ভিতরে যতদিন ছিলেন ক্যারুয়াক এক ধরণের উচ্ছন্নতা, অস্বস্তি তাকে তাড়িয়ে ফিরতো। জাহাজী হিসেবে সমুদ্রে ভেসে এসেছিলেন নিউইয়র্কে। সেখানে এসে বন্ধু হয়ে গেলেন অ্যালেন গিন্সবার্গ আর নিল ক্যাসেডির। দু’জনেই তখন বিট জেনারেশন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেদ। ক্যারুয়াক লিখতে চাইতেন। তার পায়ের তলায় ছিলো সর্ষে। বন্ধু ক্যাসিডিকে নিয়ে বের হয়ে পড়েছিলেন মার্কিন মুল্লুক ঘুরে দেখতে। তাঁর পথ ছিলো নিউইয়র্ক থেকে মেক্সিকো। আলোচকরা বলেন, ক্যারুয়াক এই যাত্রায় সত্যি মানুষের সন্ধান পেয়েছিলেন। আর সেই গল্পটাই তিনি লিখেছেন ‘অন দ্য রোড’ উপন্যাসে।

বহু কাটাছেঁড়া চলেছিলো ক্যারুয়াকের পাণ্ডুলিপির ওপর। প্রকাশকরা বেশ কয়েক বছর সম্পাদক নিয়োগ করে বইটি পরিমার্জনা করার ব্যবস্থা করেন। বই যখন ছেপে বের হলো ক্যারুয়াকের বয়স ৩৫। ছন্দবদ্ধ, কাব্যিক অথচ এক ধরণের লক্ষ্যহীনতা ঢেউ তোলে ক্যারুয়াকের গদ্যে। সাহিত্যের আলোচকরা মনে করেন, এটাই ছিলো তাঁর বৈশিষ্ট। ক্যারুয়াকের গদ্যকে তারা বলেছেন, আধুনিক প্রবাহমান গদ্য। জীবনকে উল্টেপাল্টে দেখতে চেয়েছিলেন এই লেখক। দেখেও ছিলেন। পথ, মনিুষ, নেশা আর ভালোবাসা তাঁকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিলো।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ নিউইয়র্কার, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments Box