খলনায়ক থেকে নায়ক স্টোকস

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আহসান শামীম

বিশ্বকাপে এবারই নিয়মটা করা হয়েছে। অনেকেই জানেন। কিন্তু তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়, বিতর্ক গোটা বিশ্ব ক্রিকেট জুড়ে, এ কেমন নিয়ম! কোন রানে বা উইকেটে নয়, নতুন নিয়ম অনুসারে, বেশি বাউন্ডারি হাঁকানোর সুবাদে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। সুপার ওভারসহ নিউজিল্যান্ডের ১৪ চার ও তিনটি ছক্কার বিপরীতে তাদের চার মারার সংখ্যা ২৪  আর ছক্কা দুটি, যার নায়ক ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার বেন স্টোকস।

ক্রিকেট ইতিহাসে শতাব্দীর সেরা ওয়ান ডে  ফাইনাল ছিলো এবারের বিশ্বকাপে। পর্দা নামলো বিশ্বকাপের আয়োজনের উপর ঠিকই কিন্তু আলোচনা, বিতর্ক এখনো তুঙ্গে। কেউ বোধ হয় কল্পনাও করেন এমন হাই ভোল্টেজ একটা ম্যাচ হবে।

ম্যাচ টাই হওয়ায় বিশ্বকাপের ফাইনাল গড়াল সুপার ওভারে। সুপার ওভারেও আলাদা করা গেল না কোনো দলকে। স্কোর সেখানেও সমান-সমান। শেষমেশ বাউন্ডারি বেশি মারার সুবাদে নিউজিল্যান্ডকে হতাশ করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতার স্বাদ নিল ইংল্যান্ড।

২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর মরগানই বলেছিলেন ক্রিকেট বড় নিষ্ঠুর খেলা। শেষ ওভারে স্নায়ু চাপ ধরে রাখতে না পারায় বেন স্টোকসের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।স্টোকসের শেষ ওভারেই সে বছর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে নেয় ওয়েষ্ট উইন্ডিজ। বেন স্টোকস আখ্যা পান খলনায়কের। ২০১৬ থেকে ২০১৯ বিশ্বকাপ জয়ের আগে পর্যন্ত  ক্রিকেটের ‘ব্যাড বয়’ খ্যাতিটাও পেয়েছেন স্টোকস। ২০১৭ সালের অ্যাশেজ চলাকালীন ব্রিস্টলে মারামারির ঘটনায় লিপ্ত হয়ে বাদ পড়েন বেন স্টোকস।ঘুরতে হয়েছে তাকে আদালতের চক্করেও।

তিন বছর পর বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংলিশদের জেতালেন সেই ‘খলনায়ক’ বা ‘ ব্যাড বয়’ খ্যাত স্টোকসই। ছোট ক্যারিয়ারে উত্থান-পতনের মাঝে দিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে লেখা হল তাঁর খলনায়ক থেকে নায়ক হওয়ার গল্প। ফিনিক্স পাখির মত নিজেকে নতুন করে যেন চেনালেন এই অলরাউন্ডার। ইংল্যান্ড জিতলো তাদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা, স্টোকস হলেন বিশ্বকাপ ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়।

বাবা নিউজিল্যান্ডের অধিবাসী, জন্মসূত্রে বেন স্টোকসও নিউজিল্যান্ডের মানুষ। অভিবাসন সূত্রে ইংল্যান্ডের নাগরিক।ইংল্যান্ডের ইনিংসের শেষ ওভারের চতুর্থ বলে স্ট্রাইকে ছিলেন স্টোকস। দৌড়ে দুই রান নিতে যান গেলে, তাঁকে রান আউটের জন্য বল থ্রো করেন কিউই ফিল্ডার মার্টিন গাপটিল। বলটা স্টোকসের ব্যাটে লেগে বাউন্ডারির বাইরে চলে যায়।ইংল্যান্ডের ভান্ডারে ৬ রান যোগ হয়। মূলত এই একটা চারই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় গোটা বিশ্বকাপ ফাইনালের। এই ঘটনার জন্যই কিউই অধিনায়কের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ইংলিশ এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।এর জন্য সারাজীবন উইলিয়ামসনের কাছে ক্ষমা চাইবেন বলেও জানিয়েছেন স্টোকস।

ক্রিকেট ইতিহাসে এমন শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ আর হবে না বলেও মনে করেন বেন স্টোকস । তাঁর বিশ্বাস ছিল বাটলারকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত থাকতে পারলে নিউজিল্যান্ডকে চাপে রাখা সম্ভব। বাটলার ফিরে গেলেও স্টোকস ঠিকই কাজটা করে দেখালেন।খলনায়কের তকমাটা খুলে নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপের ব্যর্থ ওপেনার মার্টিন গাপটিলের গায়ে জড়িয়ে দিলেন তিনি।

ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]