খাওয়াই জীবন, জীবনই খাওয়া 

সুস্মিতা খান

ঝাঁ চকচকে রোদ্দুর। সূর্য দেবতার খুব রাগ। বার বার নীচে তাকাচ্ছেন আর বলছেন ‘শুন্ডিরও দেবো পিন্ডি চটকে’। কাজ থেকে বের হতে হতে ৪ টা। কাঁধে ঝোলা, পেটে ক্ষুধা, রাস্তায় জ্যাম, মাথায় ‘বলো দেখি কি খাই, কি খেলে শান্তি পাই’ চিন্তায় জান জেরবার। জ্যামে বসে পিঠে ঘামাচি বাড়ানো বাদ দিয়ে দিলাম একটা হাঁটা। হাঁটি আর ভাবি, ভাবি আর হাঁটি। মানসচক্ষে ভেসে আসে কি কি আছে বাসায়। ভাবনা চিন্তায় দুলে দুলে, চিক্কুর দেয়া রোদে জ্বলে পুড়ে বাড়ির দরজায়।

টিং টং! বাড়ির দরজা আর মাথার দরজা একসঙ্গে খুলে গেলো।

প্রথমেই ঝটপট ‘আলু পটলের চামড়া, তুলে নিলাম আমরা’ করে, ঝুরঝুরে কুচি করে নিলাম। ঝপাৎ করে আলুকে দিলাম জলে আর হাতে তুলে নিলাম ছুড়ি আর কুচো করলাম বরবটি, ফুলকপি, টমেটো, রসুন আর ক্যাপসিকাম। টিন থেকে বের করলাম ভুট্টো সাহেবকে। দেখি পাশ থেকে মটরের কৌটা মুখ ভারী করে বলে ‘আপনি তো আর আমার কথা ভাবলেন না, ভাবলেন শুধু ভুট্টো সাহেবের কথা’। টং করে খুলে দিলাম মটরের দুয়ার, থুক্কু, কৌটা। সবশেষে এলো টুপি পনির, ঐ যে যাকে লোকে বলে অষ্টগ্রামের পনির। চৌকো কাটে চৌকস লাগে মাইরি! দিব্যি করে বলছি মশাই! সব্জীগুলোকে ‘আরামে দাড়াও’ বলে তিন দুগুনে পাঁচ (আরে আরেকটা ডিম গেলো কই), খানা ডিমকে গোলমরিচসহ ফেটে ‘সোজা হও’ করে দিলুম।

কাটাকুটি খেলা শেষ। এইবার আসল খেলা! খেলা হবে বলে প্যানে দিলাম তেল। তাতে একে একে ঢেলে দিলাম আলু, বরবটি, ফুলকপি, টমেটো, রসুন, ক্যাপসিকাম, ভুট্টো সাহেব আর ম্যাডাম মটর। নেড়ে চেড়ে আধ সেদ্ধ হলে সব সব্জী সমানভাবে ছড়িয়ে দিলাম। সাম্যবাদী সব্জী। কোথাও কম বেশী না। তারপর দিলাম ফেটে রাখা ডিম। চুলোর তেজ একদম কম। মিনিট খানিক পথে পথে দিলাম ছড়াইয়া চৌকো পনির। চুলোর আঁচ এখনো ঢিমে।

মিনিট দশেক পরে চুলো থেকে প্লেটে। প্লেট থেকে পেটে। চুলোচুলি হয়নি বটে, কিন্তু প্লেটে আর একচুল পরিমান ছিলোনা। সত্য করে কইচি!

এখন কি নামে ডাকিবেন একে? সে আপনার অভিরুচী! একে আপনি স্প্যানিশ অমলেট বা crust less egg quiche যা খুশি বলেন, জিনিসটা জব্বর তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

খাওয়াই জীবন, জীবনই খাওয়া,
মাঝখানে সব হুদাই হাওয়া।

ছবি: লেখক