খুনে জোকারের ভাষা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ঢাকার ছবিঘরে বেশ হৈচৈ করেই চলছে জোকার ছবিটি। শিশুতোষ কমিকবুকের গল্প ব্যাটম্যানের সবচাইতে ভয়ংকর প্রতিপক্ষ এই জোকার চরিত্রটি।মুখে চড়া রঙ, ঠোঁটে লেপে দেয়া পুরু রক্তরঙ, সবুজ চুল-সব মিলিয়ে এক বিকটদর্শন মুখশ্রী। জোকারের এমন উপস্থিতিই দেখা যায় কমিকবুকের পাতায়।হলিউডের পরিচালক টড ফিলিপসের এই ছবিতেও জোকার এমনি এক অবয়ব নিয়ে হাজির দর্শকদের সামনে। ছবিতে জোকার চরিত্রটির জীবন বেদনার, নিগ্রহের, নিপীড়নেরও। আসল সার্কাস অথবা কমিকবুকের জোকার চরিত্রের মতোই তার কথা বলা, পোশাক আর মুখে রঙের প্রলেপ।কিন্তু সিনেমায় পরিচালক আর চিত্রনাট্যকার একটু ভিন্ন ছাঁদে ফেলে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছেন গল্প। সেখানে জীবনের পদে পদে মার খাওয়া জোকার চরিত্রটি হতাশা, যন্ত্রণা আর নিগ্রহের প্রতিশোধ নিতে গিয়ে খুনী হয়ে ওঠে। তার ঠোঁটের লাল রঙের মতোই ছবিরে পর্দায় বয়ে যায় রক্তের স্রোত।

মার্কিন মুল্লুক এবং ইউরোপেও আলোচনা, সমালোচনায় জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫৫৬ মিলিয়ন ডলার ব্যবসা করা এই জোকার সিনেমাটি। ঢাকার ছবিঘরেও দর্শকদের উৎসাহী উপস্থিতি কম নয়। কিন্তু ছবিটা দেখে আসন ছেড়ে ওঠার পর একজন দর্শকের মনে হতেই পারে কী দিলো জোকার আমাদের?

জোকার ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রটি এই ভোগবাদী অথচ নি:সঙ্গ এক সময়ের বাসিন্দা হিসেবে প্রতিশোধ নিয়ে নিজের অস্তিত্বকে ঘোষণা করেছে। প্রতিদিন আঘাত, হতাশা আর একধরণের যান্ত্রিকতার গ্লানি থেকে মুক্তি পেতে হাতে তুলে নিয়েছে অস্ত্র। খুনই হয়ে উঠেছে তার মোক্ষ।আর এখানেই প্রশ্ন উঠেছে। কোনো কোনো পশ্চিমা গণমাধ্যম প্রশ্ন তুলেছে এই খুনোখুনীর মাঝে সমাধান টানার বিষয়টি নিয়ে। তাদের প্রশ্ন হলো, সমাজের জন্য কোন বার্তা বহন করে আনলো এই ছবিটি। এর আগে নব্বইয়ের দশকে হলিউডে ‘ফলিং ডাউন’ নামে এ ধরণের আরেকটি ছবি তৈরি হয়েছিলো।সেখানেও কেন্দ্রীয় চরিত্রটি নিয়ত যান্ত্রিকতা আর একয়েমীর শিকার হতে হতে একদিন অস্ত্র তুলে নিয়েছিলো হাতে। তারপর র‌্যাম্বো ছবির নায়কের মতো গুলির ফোয়ারা ছটিয়ে খুন করেছিলো আশপাশের মানুষদের। সমাজে নেতির বিরুদ্ধে ইতির লড়াই কি এটাই? আবার ছবি দেখতে দেখতে কোনো দর্শক যে নিজের জীবনের সঙ্গে জোকার চরিত্রের সাযুজ্য খুঁজে পাবেন না এমনটাও বলা যায় না। জোকারের হতাশা, যন্ত্রণা থেকে মুক্তির পথটিও তার কাছে একমাত্র পথ বলে মনে হতে পারে। আর বিপদটা সেখানেই। কোন পথে পরিচালিত হবে মানুষ? ভায়োলেন্স-ই কি তাহলে শেষ কথা হয়ে উঠবে একবিংশ শতাব্দীর অর্থহীনতাকে খুন করার ক্ষেত্রে? অনেকগুলো প্রশ্ন, ভাবনার ভারও অনেক। তবে এ কথা সত্য জোকার সিনেমাটি ভাবিয়েছে মানুষকে। আর ভাবিছে বলেই তেরি হয়েছে প্রশ্ন। জোকার চরিত্রকে অস্থির খুনী চরিত্রে পরিণত করে কারা এই প্রশ্নটিও দর্শকদের একটু তলিয়ে ভাবার পুকুরে বুদবুদ তুলে গেছে তাতে সন্দেহ নেই। এমন মনে হতেই পারে একটি সমাজব্যবস্থার অন্ত:সারশূন্যতা, নিপীড়নমূলক প্রতিবেশই একজন মানুষকে খুনী হয়ে উঠতে শেখায়,ঠেলে দেয় মনের জটিল ছায়াসরণীতে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্র: দ্য ভার্জ, দ্য গার্ডিয়ান
ছবি: গুগল       

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]