খেলার আগুনে…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

হিউ হেফনার। এক নামে সবাই চেনেন। একদা নারী, লাস্য, নেশা আর উপভোগের এক আশ্চর্য সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন একা হাতেই। পৃথিবীতে প্লেবয় পত্রিকা আর তার প্লেবয় প্রাসাদের কাহিনি তো এখন কিংবদন্তী। পৃথিবীজুড়ে প্লেবয় পত্রিকার জনপ্রিয়তা এখনো আকাশচুম্বি। হিউ হেফনারের মৃত্যুর পর প্লেবয় পত্রিকার জনপ্রিয়তার পালে পড়ন্ত হাওয়ার উৎসব শুরু হয়েছে। মাঝে পত্রিকার নতুন মালিকরা নারীর নগ্ন ছবি মুদ্রণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। ‍পরে অবশ্য তারা আবার আগের সিদ্ধান্তেই ফিরে যান। ইন্টারনেট দুনিয়ার আগ্রাসনে এ ধরণের পর্ণো পত্রিকার প্রতিপত্তি বেশ অনেকটা কমে গেলেও মানুষের কৌতুহলের নিবৃত্তি হয়নি। হেফনারের বিশাল প্রাসাদোসম বাড়ি নিয়েও আছে নানান গল্প। বিভিন্ন সময়ে অনেকের জবানীতেই শোনা গেছে সেই প্রাসাদের অন্দরমহলের গল্প্।

পিটার মেকাবে চার বছর কাজ করেছেন হেফনারের সেই প্রসাদের রান্নাঘরে।পেশায় বাবুর্চি।আর এই কাজের সুযোগে সেই বন্ধ দরজার ওপাশের অনেক গল্পই

তার জানা হয়ে যায়। তখন পিটার সদ্য চাকরি হারিয়েছেন হেফনারের স্বর্গরাজ্য থেকে। জেনে ফেলা গোপন তথ্যভাণ্ডার নিয়ে পিটার সোজা চলে যায প্লেবয় পত্রিকার প্রতিপক্ষ পেন্টহাউজের দফতরে। পেন্টহাউজের পৃষ্ঠায় গরমাগরম ছাপা হয়ে গেলো পিটারের দেয়া সেই সাক্ষাৎকার। তিনি জানালেন, হেফনারের বাড়ির ভেতরে ড্রাগসের এক গোপন পৃথিবীর কথা। পিটারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী হেফনারের সেই ম্যানসনের ভেতরে সন্ধ্যা থেকেই জমে উঠতো কোকেনের আসর। হেফনার নিজে সেসব আসরে অংশ না নিলেও খুব ভালো ভাবেই জানতেন নেশার আগ্রাসনের কথা। প্রাসাদের খেলার ঘর আর বাথরুম সংলগ্ন এলাকায় বসতো সেই নেশার আসর। সেই বাড়িতেই মজুদ থাকতো প্রচুর পরিমাণে কোকেন। হেফনারের প্রিয় ‘বানি গার্ল’-রা ছিলো কোকেনে আসক্ত। বড় বড় ব্যবসায়ী ও মার্কিন সমাজের এলিট পুরুষরা নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে বানিদের সঙ্গে বিছানায় যেতো।

হেফনার তার উপরতলার ঘর থেকে খুব একটা নিচতলায় নামতেন না। ওই বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত আছে এমন ব্যক্তি টানা পাঁচ বছর তাকে চোখে দেখেনি এমন নজিরও ছিলো।

পোষা পাখির মতো হেফনারের এই লাস্যময়ী নারীদের অনেকেই আত্নহত্যাও করতে চেয়েছে। পিটারের জবানীতে জানা যায়, একবার এক সন্ধ্যায় এমনি এক নারী ভরা মজলিশের সামনে দেহের সমস্ত পোশাক খুলে লাফিয়ে পড়তে চেয়েছিলেন বারান্দা থেকে। হেফনার স্বয়ং সেই উন্মাদিনীকে প্রতিহত করেন। এরপর বহুদিন সেই নারীকে হেফনারের নিরাপত্তারক্ষীরা চোখে চোখে রাখতো।

হেফনারের কথাই ছিলো সেই রাজ্যের আইন। তার নির্দেশ অমান্য করে কোনো বানি তার কোনো বন্ধুর সঙ্গে বিছানায় যেতে রাজি না হলে তার ভাগ্যে নেমে আসতো দুর্ভোগ। পরের মাসেই হেফনারের নির্দেশে চাকরি হারাতো মেয়েটি। কখনো তাদেরকে ইচ্ছার বিরুদ্ধেও অংশ নিতে হতো যৌনক্রীড়ায়। সেখানে অবশ্য বয়সের ভারে নত হেফনার দর্শক হিসেবে বসে উপভোগ করতেন।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ পেন্টহাউজ

ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]