খেলা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

দীপা ফিরোজ

দুই.

গুন গুন করতে করতে রুমু বারান্দায় এসে দাঁড়ায়।
– কি করছো!
– অপেক্ষা। উত্তর দেয় আসিফ। একটু ঝুঁকে রুমুর হাতটা ধরে টেনে আনে নিজের কাছে। সেই মারাত্মক হাসিটা দিয়ে তাকায় ওর মুখের দিকে:
– ভাবছি কি জানো রুমু! কেন আমরা আজীবন একসঙ্গে থাকিনা!
– তুমি কেন আমাকে খুঁজে বের করনি আগে! অভিমানী শোনায় রুমুকে।
তাকিয়ে থাকে আসিফের দিকে! সেই দিনটির কথা মনে পরে যেদিন ওর সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিলো। সুমন ভাইয়ের বাসায় পার্টিতে। আসিফ কোন একটা কাজে এসেছিলো ইস্তাম্বুলে। আগে পরিচিত থাকায় ওকে সেই পার্টিতে দাওয়াত দেন সুমন ভাই। সেখানেই রুমু দেখেছিলো প্রথম আসিফ কে। সুমন ভাইয়ের বাসায় পার্টি মানেই গান বাজনা। আর গান বাজনা মানেই রুমুকে গাইতে হবে। সেখানেই গান গাইতে গাইতে চোখে পড়লো একজন ‘নতুন’ কেউ অনিমেষ তাকিয়ে আছে ওর দিকে। এইসব তাকানোতে রুমু অভ্যস্ত। কাজেই গায়ে মাখলোনা। কিন্তু যখন অনুষ্ঠান শেষ হবার পর সুমন ভাই রুমুকে ডেকে আসিফের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন তখন এই হাসিটা দিয়েই আসিফ বলেছিলো
– আপনি এত সুন্দর গান করেন!
– অবাক হচ্ছেন! রুমু হেসে বলেছিলো।
– হ্যা অবাক হচ্ছি। আমার ধারনা ছিলো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা কেবল কম্পিউটার বোঝে!
– সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সম্পর্কে তো দেখছি আপনার বেশ অপ্রতুল ধারনা।
– তা বলতে পারেন। উনাদের খুব কাছাকাছি হবার সৌভাগ্য তো হয়নি!!
বলে সপ্রতিভ ভাবে উঠে এসে রুমুর পাশে দাঁড়িয়েছিলো আসিফ। আর কড়া কোলন আর সিগারেটের সেই পুরুষালী ঘ্রান রুমুর মাথায় যেয়ে গেঁথেছিলো।
রেড ওয়াইনের আমেজে সেই হাসি আর কোলনের মিশেল রুমুর মস্তিস্ক পর্যন্ত বিবশ করে দিলো!
– ওহ তুমি এখানে! আসিফের সঙ্গে পরিচয় হলো! জানো আমরা কিন্তু ব্যাচমেট। আমাদের দু’জনের অনেক কমন বন্ধু আছে বলছিলেন আসিফ। বলতে বলতে এসে রুমুর কাঁধে হাত রেখে দাঁড়ালো অপু। রুমুর স্বামী অপু। এমনিতে চুপচাপ অপু দুটো স্কচের পরই এরকম প্রগলভ হয়। আসিফের দিকে তাকিয়ে ও অপুর গা ঘেষে দাঁড়ায় আরো।
– হুম উনি আমার গানের প্রশংসা করছিলেন।
– কি বলো! আসিফ আপনার রুচি আছে বলতে হয়। রুমু আসলেই ভাল গান করে। আমিতো প্রায়ই বলি যে তুমি এসব কাজকর্ম ছেড়ে গান বাজনায় মন দাও।

সেই থেকে দুটো পরিবার কেমন বন্ধু হয়ে গেলো। আসিফের বউ দিবাও রুমুর খুব বন্ধু হয়ে গেলো। শুধু বন্ধু নয় রীতিমত স্তাবক। ফ্রান্স থেকে কয়েকবার এসে বেড়িয়ে গেছেন উনারা ইস্তাম্বুলে রুমুদের বাসায়। আবার রুমুর যখন ফ্রান্সে যেতে হয় কাজে, দিবা ভাবী কিছুতেই ওর কোন অজুহাত শুনবেন না, ওকে সংগে নিয়ে প্যারিসের অলিগলি ঘুরে বেড়াবেন, বাড়িতে ডাকবেন। আসিফ আর দিবা ভাবীর বাচ্চারাও রুমুর খুব ভক্ত হয়ে উঠেছে। অদ্ভুতভাবে ওরা সবসময় রুমুকে বলবে – বাবার ডিস্টিংগুইশড বন্ধু!!

এই এত আন্তরিকতা আর বন্ধুত্ব এর মাঝেই কখন দুটো মানুষ যে এত কাছে চলে এলো রুমু বুঝতে পারেনা। আসিফও ভাবে একই কথা। রুমুর ব্যাপারে ওর হিসেবগুলো কেমন গোলমেলে হয়ে গেছে। খুব অদ্ভুত মায়া এই মেয়েটার ভেতর!! কোথায় বুকের মধ্যে যেয়ে বাঁধে।

নীরা অমন নয়। নীরা ওর মতই পাকা খেলোয়ার। সেই যে প্লেন থেকে ছোট্ট একটা মেসেজ পাঠিয়েছিল – মনে হলো আমার হাত ছেড়ে দিয়ে বন্ধু চলে গেল দূরে।
– ‘তোমার মেসেজটা পরে মনটা হুহু করে উঠেছিলো’ লিখেছিলো নীরা। ‘রাত হয়েছিলো দীর্ঘ ‘
তারপর এরকম মেসেজের পর মেসেজ চলতো। এরপর দেখা হলো। কয়েকবার। অনেক কাছাকাছি চলে এসেছিলো ওরা। তখনই রুমুর সঙ্গে পরিচয়। দু’দিকেই চলছিলো তখন। কিছুক্ষণ রুমু কিছুক্ষন নীরা। অদ্ভুত বর্ণীল সময়।
কিন্তু বেশীরভাগ সময়টা কাটতো রুমুর সঙ্গে। রুমুর সম্মোহনী শক্তির কাছে প্রতিনিয়ত পরাজিত নীরা। নীরা তখন আসিফের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। নীরার দুই মেয়ে বিদেশে পড়ে। তাঁদের টুইশন, নীরার এটা সেটা আবদার এগুলো হাসিমুখেই মেনে নিচ্ছিলো আসিফ। ওর কাছে সম্পর্ক সবটাই দেয়া নেয়া। আর কর্পোরেট জবে উচ্চপদে আসীন আসিফের কাছে নিজের আনন্দের জন্য এরকম কিছু খায় খড়চা কোন ব্যাপারই না। নীরার ছিলো সীমাহীন চাহিদা। আজ এটা কাল সেটা। শেষ নেই যেন! তারপর‍ও চলছিলো। শুধু রুমু নীরা কেউই জানতোনা একে অন্যের কথা। যদিওবা ওরা দু’জন দু’জনকে খুব ভালভাবেই চিনতো।
নীরা আসিফের সমবয়সী আর রুমু ওদের প্রায় দশ বছরের ছোট। তারপরেও রুমুর ব্যাপারে নীরারও একরকম শ্রদ্ধাবোধ ছিলো। রুমুর ব্যাক্তিত্বের কাছে নত ছিলো আশেপাশের সবাই। অথচ সেই রুমু আসিফকে এত বিশ্বাস করতো যে নীরার ব্যপারে কখনোই কিছু সন্দেহ করেনি।
টানা চার বছর চলেছে সেই টান টান সম্পর্ক। পাঁচ বছরের মাথায়ই ঘটলো সেই ঘটনা। যে ঘটনায় আসিফ মোটামুটি একটা বড়সড় ধাক্কাই খেলো।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]