খেলা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

দীপা ফিরোজ

তিন.
হুম। পাঁচ বছরের সেই ঘটনা!
ল্যাপটপের সামনে বসে এটা ওটা করে সময় কাটাচ্ছিলো রুমু। বড়সড় একটা প্রজেক্ট হাতে। সোমালিয়ার দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষদের খাবার দেবে জাতিসংঘের একটি অংগসংস্থা। তাদের সেই খাদ্য বিতরনের মনিটরিং এর জন্য একটি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম দরকার। সোমালিয়াতে এই কাজটি সফল হলে আফ্রিকার অন্য দেশগুলোতেও ব্যাবহার হবে এটি। যেহেতু অনেক স্টেকহোল্ডার আছে সেই জন্য খুব সহজ একটা প্রোগ্রামিং দরকার যা সবাই সহজেই ব্যবহার করতে পারে।
টাকার অংক ও ভাববার মত। ওর অফিস এই বিশেষ কাজের দায়িত্ব দিয়েছে রুমুকে।
কিছুদিন থেকেই বাড়ী ফিরেও রুমু এই প্রোজেক্ট নিয়ে চিন্তা করছে। রুমুর দুই ছেলে দুজনই বোর্ডিং স্কুলে ইউরোপে আছে। ইস্তাম্বুলে ও এখন একাই। অপু গেছে বাংলাদেশে ওর ব্যবসার কাজে।

সারা বাড়ীতে রুমু একা। অবশ্য বাগানের ওপাশের কোয়ার্টারে মাস্কারাম আছে। মাস্কারাম রুমুর ইথিওপিয়ান কাজের লোক। আর ফিলিপিনো সারাহ হলো রান্নাবান্নার জন্য। সকালে সারাহ এসে রান্না বান্না করে দিয়ে চলে যায়।
নীচতলায় রান্নাঘর থেকে এক কাপ কফি বানিয়ে ও আবার ল্যাপটপ নিয়ে বসে। আসিফও জানিয়েছে দীবা ভাবীকে নিয়ে ও কিছুদিনের জন্য বাংলাদেশে। ওর এক ভাগ্নের বিয়ে উপলক্ষ্যে। চারদিকে কেমন ফাঁকা লাগছে। যদিও আসিফ অনেক দূরে থাকে, তারপরও ফ্রান্সে থাকলে রুমুর মনে হয় ও কাছেই কোথাও আছে। যখনি অন্য কোথাও যায় আসিফ, রুমুর মনে হয় কত দূরে চলে যাচ্ছে ও। একেই কি ভালবাসা বলে!!

আসিফের কথা ভাবতে ভাবতেই টুং করে ওর জিমেইলে আসিফের একটা ইমেইল এলো। একেই বলে টেলিপ্যাথি! ওর কথা ভাবতে না ভাবতেই ইমেইল। আহা! দেশে এত ব্যস্ততার মাঝেও ওকে মনে করছে আসিফ!! ইমেইলটা খুলতে না খুলতে আরেকটা ইমেইল। তারপর টুং টুং করে প্রায় বেশ কয়েকটা ইমেইল আসিফের কাছ থেকে। রুমু হেসে ফেলে একা একাই। বুঝতে পারে খুব দুষ্টুমি হচ্ছে।
হাসি হাসি মুখে প্রথম ইমেইলটাতে ক্লিক করে।
– ওহ মাই গড!
চমকে ওঠে রুমু। একি!!
তাড়াতাড়ি পরের ইমেইলটা খোলে।
– মাই গড!! মাথা ঘুরতে থাকে রুমুর!!
তারপর তৃতীয়, চতুর্থ… এক এক করে সবকটা ইমেইল খোলে রুমু।
সবগুলোই আসিফের ইমেইল একাউন্ট থেকে কিন্তু ইমেইলগুলো আসিফ কেন পাঠিয়েছে!
প্রতিটা ইমেইল নীরার কাছ থেকে আসা এবং আসিফের প্রতিউত্তর।
এবার ধীরে সুস্থে পড়তে থাকে ইমেইল গুলো।
হাত থেকে কফির মগটা কখন মেঝেতে পরে টুকরো টুকরো হয়েছে ও জানেনা। সমস্ত ইন্দ্রিয় ওর এখন সেই ইমেইল গুলোতে।
গত পাঁচ বছর ধরে নীরার সঙ্গে আসিফের সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় রুমুর কাছে। কখন ওর দুচোখ বেয়ে পানির ঢল নেমেছে ও নিজেই জানেনা। দুটো ইমেইল এ আছে দু’জনের জিমেইল এ করা চ্যাট। আসিফ নীরাকে বলছে ও কিভাবে মিস করছে তাদের একান্তে কাটানো সময়গুলো!
শেষ ইমেইলটা পড়ে চমকে ওঠে রুমু। গতরাতের চ্যাট। তাড়াতাড়ি ও নিজের জিমেইল চ্যাট বক্সে যেয়ে দেখে গতকাল আসিফের সঙ্গে ওর অনলাইন কথোপকথন – একই সময়। কাল আসিফকে খুব আনমনা লাগছিল। রুমু বার বার বলছিল – কি ভাবছো এত!
– তোমাকে খুব মিস করছি। বলেছিল আসিফ।
একসময় বল্ল – শোন। দীবা ডাকছে। আজকে এই পর্যন্ত কাল আবার কথা বলবো। তুমি কিন্ত আমার জন্য অপেক্ষা করো।
সময় মিলিয়ে দেখলো রুমু যে সেই একই সময় আসিফ নীরাকে লিখছে – একজন বন্ধু অনলাইনে আছে। অনেকদিন পর কথা হচ্ছে। দুই মিনিট অপেক্ষা কর। আমি ওর কাছে বিদায় নিয়ে নেই তারপর আমি শুধু তোমার।
তার মানে কাল যখন আসিফ ওর সঙ্গে অনলাইনে কথা বলছিলো, তখন একই সময় নীরার সঙ্গেও কথা বলছিলো!!

এই টুকু পড়ার পর রুমু আর পড়তে পারেনা। নীরা আপা!! উনার সঙ্গে আসিফের এই সম্পর্ক!! ওর মাথায় কিছু কাজ করেনা। আসিফের এই যে দিন রাত এক করে ফেলা ভালবাসাবাসি সব কি তাহলে!! কখন চোখের পানি শুকিয়ে গেছে রুমুর চোখে। প্রচন্ড কষ্টে ভেতরটা দুমড়ে আছে রুমুর। কি করবে ও এখন! বাংলাদেশে রাত এখন তিনটে বাজে। ইচ্ছে করছে টেলিফোন করে দীবা ভাবীকে সব জানায়।

তক্ষুনি ওর মাথায় এলো, আসিফ কেন এই ইমেইলগুলো ওকে পাঠালো!!(চলবে)

ছবি: গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments Box