খেলা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

দীপা ফিরোজ

শেষ পর্ব

চোখের পানি মুছে এবার রুমু ল্যাপটপটা নিয়ে বসলো। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ইমেইলগুলো আবার পড়লো। প্রতিটি ইমেইল সত্যিই আসিফের ইমেইল আইডি থেকে এসেছে! কিন্তু আসিফের কি এই ইমেইল গুলো ওকে পাঠানোর কথা!!
এই সময় ওর মেইলবক্সে আরেকটি ইমেইল এলো। আসিফের (!) কাছ থেকেই।

ইমেইলটি পড়ে বুঝতে পারলো আসিফের ইমেইল হ্যাক হয়েছে। সম্ভবত যে হ্যাক করেছে সে এলোপাতাড়ি ইমেইলগুলো পাঠিয়েছে।
অনেক চিন্তা ভাবনা করে রুমু সিদ্ধান্ত নিলো আসিফের মুখোমুখি হবে এ ব্যাপারে। ঘড়ি দেখলো রুমু। ঢাকায় এখন প্রায় ভোর ছ’টা। ওর ভেতরের অস্থিরতা ওকে সারা রাত ঘুমাতে দেয়নি। মনে হচ্ছে মনের এরকম অবস্থায় অফিসেও যেতে পারবেনা আজকে। প্রজেক্টের কাজ কিছুই ঢুকছেনা মাথায়। ও শুধু ভাবলো যে ভাগ্য ভালো অপু এখন সংগে নেই। নির্ঘাত আঁচ করতে পারতো রুমুর সঙ্গে আসিফের এই সম্পর্ক। একবার রুমু ভাবলো অপুকে জানায় সবকিছু, বুঝিয়ে বলে হাল্কা হয়। তারপর ভাবে, কি ভাববে অপু! রুমুকে ছেড়ে চলে যাবে! তবে ছেলেরা খুব কষ্ট পাবে। এইসব সাত পাঁচ ভেবে। আসিফকে একটা টেক্সট পাঠায় – কথা বলতে পারবে? খুব জরুরী।
আসিফের কাছ থেকে কোন উত্তর আসেনা। নিশ্চয়ই ঘুমাচ্ছে। এঘর ওঘর করতে থাকে রুমু। ভেতরের অস্থিরতা কিছুতেই কমছেনা।

অবশেষে আসিফের নাম্বারে ডায়াল করে। ফোন বেজেই যাচ্ছে কিন্তু ধরছেনা আসিফ। এর মধ্যে দুটো ইমেইল আসিফের অফিসের ইমেইলে ফরোয়ার্ড করে রুমু। এই ইমেইল আসিফ ফোনেই চেক করতে পারে। দু’মিনিটের মাথায় আসিফের ফোন আসে।
– রুমু!
– তুমি কি করে পারলে!
– বিশ্বাস করো সব অনেক আগের ব্যাপার। আমি তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম।
– আগের ব্যাপার! তুমিতো আমার সঙ্গে সম্পর্কের পরও নীরার সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে গেছো! আবার মিথ্যে কথা বলছো!
– রুমু আমি তোমার উপর ছেড়ে দিলাম তুমি কি করবে। আমার কিছু বলার নেই। আমি তোমার কাছে স্বীকার করছি আমি ভুল করেছি। একটা কথা জেনো, আমি শুধু তোমাকেই ভালবাসি। আমি দিবাকেও এরকম ভালবাসিনা।
– তুমি যে এরকম একজন প্রতারক আমি ভাবতেই পারিনা। এত নীচে তুমি নামলে কিভাবে! আর কখনো আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেনা। কক্ষনো না।
শুধু এইটুকুই বলতে পারে রুমু। অসম্ভব কষ্টে ভেতরটা দুমড়ে উঠছে রুমুর। ফোনটা রেখে চুপ করে বসে থাকে ও। সেলুলয়েডের ফিতার মত এক এক করে ওর চোখের সামনে ভেসে ওঠে আসিফের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো।
– সব মিথ্যে! সব!!
ইচ্ছে করে সবার সামনে আসিফের মুখোশটা খুলে দিতে। সবাই দেখুক এই আপাত ভদ্রলোকের আসল চেহারা। চোখের সামনে কিলবিল করতে থাকে আসিফ আর নীরার সেই অনলাইন চ্যাট!!
মুক্তি চায় রুমু। চায় একবার শুধু বুক ভরে শ্বাস নিতে। কেমন আবছা হয়ে আসে চারপাশ!

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]