খেলা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

দীপা ফিরোজ

এক.

জানালার ভারী পর্দাগুলো সরিয়ে দিতেই বিছানায় হুমড়ি খেয়ে পরে সকালের রোদটুকু। এক টুকরো রোদের আলো কেমন লেপ্টে গেছে ওর গালে। খোঁচা খোঁচা দাড়ি উঠা ফর্সা গালে কি অদ্ভুত আদর লাগছে! হাসিমুখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে রুমু। ভরপুর এক মন রুমুর আজকে। অনেকদিন পর আসিফ ওর কাছে এসেছে।
ফুরফুরে একটা মন নিয়ে শাওয়ার নিতে যায় রুমু।

গুন গুন গানের সুর আর পানির আওয়াজ মিলে মিশে ঘুম ভেঙে যায় আসিফের। হঠাৎ করে ঘুম ভাংগায় ঠিক মনে করতে পারেনা কোথায় আছে! কয়েক সেকেন্ডে ধাতস্ত হয়। শেদি রিসোর্টের জানালা দিয়ে চোখে পরে সমুদ্র। এতক্ষনে মনে পরে – ও আছে ওমানের এই বিলাসবহুল রিসোর্টে।
রুমুর সঙ্গে দেখা করতে এসেছে ও। এই সময়গুলো ও আর রুমু দু’জনের কাছেই অমুল্য। দু’জনেই ওরা ব্যস্ত ওদের হাই প্রোফাইল জীবন নিয়ে। ক্যারিয়ার, সমাজ, সংসার সবকিছুর মাঝেও দু’জন মানুষ কি করে এমন অপুর্ন থাকে ওরা নিজেরাই বুঝতে পারেনা।

মুচকি হাসি হাসে আসিফ! রুমু খুব সিরিয়াসলি নেয় আসিফকে। বোকা মেয়েটা সত্যি ভালবাসে আসিফকে! আর আসিফ! যে ক’দিন ভাল লাগে ও আছে। যতদিন ভাল লাগে ও আছে। তারপর খুঁজে নেবে আরেকজন।
হলো প্রায় নয় বছর! রুমুর সঙ্গেই সর্বোচ্চ সময়।এর আগে নীরার সঙ্গে ছিলো গুনে গেঁথে চার বছর। তারপর থেকেই সুতো গুটোতে থাকে আসিফ। কারন ততদিনে রুমুর সঙ্গে দেখা হয়েছে। টুকটাক কথা বার্তা শুরু হয়েছে। নাহ! আজকে কেন এত কিছু মনে পরছে!! আড়মোড়া ভেঙে বিছানা ছাড়ে আসিফ। খাটের পাশে এলোমেলো হয়ে পরে আছে রুমুর ড্রেসিং গাউন। ভারী সৌখিন রুমু। ওর এই শৈল্পিক দিকটুকু খুব উপভোগ করে আসিফ। এ পর্যন্ত যতগুলো সম্পর্কে জড়িয়েছে তার মধ্যে রুমু সবচেয়ে ক্লাসি। কি করে যে এই মেয়ে আসিফের প্রেমে পড়লো!!

বাথরুম থেকে রুমুর কিন্নর কন্ঠের গান শোনা যায়…
‘কেন যামিনী না যেতে জাগালেনা বেলা হলো মরি লাজে…’

হোটেল রুমের ছোট বারটা থেকে ইলেক্ট্রিক টি পটে পানি গরম করে এক কাপ চা বানায় আসিফ। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে এবার যেয়ে বারান্দায় বসে। সামনে বালুতটে আছড়ে পরছে ভারত মহাসাগরের ঢেউ!
‘শরমে জড়িত চরনে কেমনে চলিব পথের মাঝে…
রুমুর গান এই বারান্দা অব্দি গড়িয়ে এসেছে। বাথরুমের দরজাটা নিশ্চয়ই ভেজানো কেবল।
এই সময়গুলোতে ওর সত্যি ইচ্ছে করে রুমুর সঙ্গে জীবনটুকু কাটিয়ে দিতে। কিন্তু সে হবার নয়।

হুম। সেই দুবাই এয়ারপোর্ট! নীরার সঙ্গে প্রথম দেখা। বিজনেস ক্লাস লাউঞ্জে ঢুকতেই নীরাকে চোখে পরেছিলো আসিফের। ঢাকা ইউনভার্সিটিতে একই ব্যাচে ছিলো ওরা। নীরা তখন গান গেয়ে, টেলিভিশনে অনুষ্ঠান করে বেশ নামডাক করেছে। কিন্তু তেমন সখ্য ছিলনা আসিফের সঙ্গে। মাঝে মাঝে হাই হ্যালো ওই পর্যন্তই। সেদিন দুবাইয়ে ও এগিয়ে গিয়ে সেই পরিচয়ই দিয়েছিল নীরাকে। উদ্বেলিত হয়েছিলো নীরা। টেলিফোন নাম্বার আদান প্রদান করেছিলো। নীরার কাছে শুনেছিল ওর জীবনের কথা। স্বামীকে হারিয়েছে বেশ কিছুদিন হলো। এখন মোটামুটি একাকী জীবন সেরকম একটা ধারনা আসিফকে দিতে চেষ্টা করে নীরা। সমব্যাথি ভাব নিয়ে ওর কথা শোনে আসিফ। ও খুব ভাল করেই জানে নীরার জীবন। লোকমুখে শোনা কথা আর কমন বন্ধুদের কাছে নীরার বেপরোয়া জীবন সম্পর্কে ভালই খোঁজ খবর আছে।
দুজনেরই বোর্ডিং কল হয় কিছুক্ষনের মধ্যে। দুজন একসঙ্গেই এগুতে থাকে ডিপারচার হলের দিকে। নীরা ফিরে যাচ্ছে বাংলাদেশে আর আসিফ ওর কর্মস্থল ফ্রান্সে। বিদায় নিয়ে দু’জন দু’দিকে পা বাড়ায়।
প্লেনে উঠে সেলফোনটা সুইচ অফ করার আগে আসিফ একটা মেসেজ টাইপ করে। টুক করে সেন্ড বাটন টা চাপে…. নীরার নাম্বারে।(চলবে)

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]