খোলা জানালা…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুলতানা শিরীন সাজি

(অটোয়া থেকে): আজ সকালবেলায় জানালা দিয়ে রোদের উঁকি ঝুকি দেখে হঠাৎ মনে হচ্ছিলো ,বাইরে যেনো কোথাও কোন তুষার জমে নেই! মনে হচ্ছিলো গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়ি। অনেক দূরে চলে যাই। পাহাড়ের কাছে। সবুজ পাহাড়। সেখানে গিয়ে নীল মেঘের ওড়াউড়ি দেখি।

ফেইসবুক এ বসতেই দেখি,আমার প্রিয় পাখি বেড়াতে যাওয়ার ছবি দিয়েছে ,বান্দরবনে যাওয়ার দারুন সব ছবি গল্পসহ।সেই ছবি দেখে,সকালবেলার সেই ভাবনাগুলো মূর্ত হলো।অপূর্ব সেই নীলাচল এ যাবার ইচ্ছেগুলো কেমন যেনো জুড়ে বসলো ! এক একটা ছবি ক্লিক দেই আর বসে থাকি,মনেহয় আমি সেই পাহাড়ের কাছে গিয়ে বসে আছি। অদ্ভুত আনন্দ খেলা করছে আমার মনে। বেঁচে থাকা অদ্ভুত আলোর মত উড়ে বেড়াচ্ছে,সুরের মত গুন গুন করছে, কবিতার মত আমাকে জড়িয়ে আছে! আমি একটা পথের দিকে হেঁটে যাচ্ছি।পথের বাঁকে মিশে যেতে যেতে শুনছি ও বলছে,ও আপা তুমি একা যেয়োনা । আমি সেই শব্দের সঙ্গে মিশে, চলে যাচ্ছি দূর থেকে দুরে।আমি শুনছি কিন্তু থামছিনা। ভাবছি, কে একা নই আমরা? এই যে আমাদের আশেপাশে এত মানুষ,এই যে স্রোতে ভাসা জীবন । সব কিছু থেকেও আমরা কি একা নই? পাহাড়ের কাছে গেলে কেনো এত আপন লাগে? নদীর কাছে গেলে কেনো টানে? আর মেঘ? মনটাকে মেঘের ভেলায় ভাসিয়ে দিয়ে দূরে যেতে যেতে একটা কথাই মনেহয় শুধু ।আমরা প্রকৃতি থেকে এসেছি,এখানেই মিশে যাবো একদিন। তাইতো পাহাড়ের কাছে গেলে মনটা অদ্ভুত আনন্দে ভরে যায়। নদী,সমুদ্রের কাছে গেলে মনে হয় ভেসে যাই। গাছের সবুজে, পাতার ক্লোরোফিল এ মিশে যাই আমরা।

একটা পথের বাঁকে দেখি একজন সত্তর বয়সী পাহাড়ী মহিলা (যে নিজের বয়স বলেছে সট্টর) ,আমি আর শাপলা তার সঙ্গে গল্প করছি। সে বলছে,তার জীবনের গল্প। মেঘের, পাহাড়ের নানান গল্প। কি করে মেঘ আর পাহাড়ে প্রেম হলো! কি করে মেঘ ছুঁয়ে থাকে পাহাড়কে এই অবাক নীলাচলে! কি করে রোদ হাসে। মেঘ থেকে বৃষ্টি নামে !

আজ সকালের এই আনন্দ কি করে বোঝাই। কি করে লিখি মেঘের সেই উড়ে যাওয়া দেখতে দেখতে আমারো খুব ইচ্ছে করছিল পাহাড়ের কোনার বেঞ্চটাতে গিয়ে বসি। একটা পাহাড়ী মেয়ের হাসির ঝর্ণাধারায় মিশে যাই আমিও।

শাপলা যাকে আমি পাখি বলে ডাকি,যে বলেছে সারা জীবন ভর এই পাখি ডাক শুনতে চায় সে। তার সঙ্গে আমার সেই কবে দেখা হয়েছিলো মৈত্রী হল-এ। আমাদের কোন ছবি নাই একসঙ্গে, অথচ অন্তরের এত কাছে থাকে ও। দেশে যাবার পর অনেকবার দেখা হতে হতেও দেখা হয়নি। এই দেখা না হওয়ার জন্য আসলে কোন অসুবিধা হয়নি আমাদের বা হয়না। আমরা আপন হয়েই আছি।

যে খোলা জানালায় বসে আমরা দেখি একজন আরেকজনকে। ছুঁয়ে যাই এক জন আরেক জনের মন।সেখানে এর চেয়ে ভালো অনুভব আর হয়না। এই যে দূরে থেকেও পাশে থাকা,ছুঁয়ে না থেকেও ছুঁয়ে থাকা ,এই অদ্ভুত অনুভবের কোন তুলনা নেই।

আমরা একটা রোদেলা শীতের দিন এ মনে অজান্তেই এই ভালোবাসা, উষ্ণতা ছড়ানোর জন্য ভালোবাসা শাপলা। আমাদের বেঁচে থাকা আনন্দঘন হোক। আমরা যত দূরেই থাকিনা কেনো, একই সুরে গান গাই। অকালপ্রয়াত অসাধারন শিল্পী কালিকাপ্রসাদের লেখা এবং গাওয়া সেই গানের মত,
‘আমি তোমারই, তোমারই, তোমারই নাম গাই
আমার নাম গাও তুমি,
আমি আকাশ ও রোদের দেশে ভেসে ভেসে বেড়াই
মেঘের পাহাড়ে চড় তুমি,’

যারা আমাদের ভালোবাসে ,তাদের ভালোবাসা নিয়েই আনন্দে থাকি। এই অপার আনন্দের কোন তুলনা নেই। প্রতিদিন যায়, নতুন একটা দিন আসে আর বেঁচে থাকার আনন্দে আপ্লুত হয়ে যাই……

এক একটা দিন যায়।
বসন্ত দিনের অভিলাষ নিয়ে জানালায় চোখ রাখি।
আমার ‘খোলা জানালায়’,চোখ পরে থাকে ।
কত জীবন বয়ে যায় ,এই খোলা জানালার ওপারে!

ছবি: লেখকের ফেইসবুক থেকে ও গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]