গোপন গল্প…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জন এফ কেনেডির সঙ্গে কি সত্যিই প্রণয় ছিলো অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর? বাঙালির আইকন অভিনেতা উত্তম কুমার কি সত্যিই সুচিত্রা সেনের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিলেন মানসিক ভাবে? কেন ক্রিস্টিন কেলারের জন্য  পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের মন্ত্রী? কেন আজও অমিতাভ বচ্চন আর রেখার কোনো খবর পত্রিকায় ছাপা হলে হুমড়ি খেয়ে পড়েন পাঠক? গোপন গল্পের ছড়াছড়ি পৃথিবী জুড়ে। এসব গল্প কখনো নড়বড়ে করে দেয় রাজনীতির প্রাসাদের ভিত, আবার কখনো ঝড়ে উড়িয়ে নেয় সংসার। মানুষের গোপন গল্পের ছায়ায় বাস করে গোপন ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশংকা। একটা কথাই আছে, পৃথিবীতে অল্প কেউ প্রবল সংবাদ। পৃথিবীতে এই অল্প মানুষেরা পাদপ্রদীপের আলোয় উদ্ভাষিত। আর তাই তাদের গোপন গল্প নিয়ে আমজনতার উত্তেজনার সীমা নেই। কখনো এসব কাহিনি নিয়ে সেই মানুষটিই লিখে ফেলেন আত্মজৈবনিক কোনো লেখা, আবার কখনো

ক্রিস্টিন কেলার

সাংবাদিকরা পাতাল খুঁড়ে বের করে আনেন সেই গোপন গল্প। কেউ বলেন স্ক্যান্ডাল, কেউ বলেন কেচ্ছা। রগরগে কাহিনির ঘ্রাণ ভেসে থাকে বাতাসে। চায়ের কাপে অথবা তুমুল আড্ডায় গল্প ঝড় তোলে। তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করেন শ্রোতা অথবা পাঠক। কিন্তু এসব গল্পের পুরোটাই কি কামনার আগুনে পোড়া? সবটাই কেচ্ছা? কখনো এসব গোপন গল্পের আড়ালে থাকে ভালোবাসাও।

এবার প্রাণের বাংলার প্রচ্ছদ আয়োজনে রইলো আলোড়ন তোলা কাহিনি নিয়ে ‘গোপন গল্প’।

গত শতাব্দীর ষাটের দশকে গোটা বিশ্বে সংবাদের শিরোনাম  হয়েছিলেন ক্রিস্টিন কেলার। জন্মসূত্রে বৃটিশ নাগরিক এই সুন্দরী তরুণী মডেল জড়িয়ে পড়েছিলেন বৃটেনের রাজনীতির উঁচু মহলে। যৌন কেলেংকারীর ঢেউ সে সময় ব্রিটিশ সরকারের গদিও টালমাটাল করে দিয়েছিলো। এক রুশ গুপ্তচরের সঙ্গে যোগাযোগ ছিলো ক্রিস্টিনের। তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ ছিলো গুপ্তচরবৃত্তির। তার শয্যাসঙ্গী হয়ে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন তৎকালীন বৃটিশ যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী প্রফিউমো। ক্ষমতা থেকে পতন ঘটেছিলো তখন ক্ষমতায় থাকা ম্যাকমিলিয়ান সরকারের।

ক্রিস্টিনের বয়স তখন ১৯, ম্যান্ডির ১৬। সুন্দরী দুই নর্তকীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হলো স্টিভেন ওয়ার্ড নামে এক নামকরা হাড়ের ডাক্তারের, যাঁর সঙ্গে ওঠাবসা ছিলো সমাজের ওপরতলার বহু মানুষের। স্টিভেন ওয়ার্ড নিজে নারীসঙ্গ না করলেও এ ধরণের মেয়েদের সমাজের উঁচুতলার মানুষদের সঙ্গে নিয়মিত পরিচয় করিয়ে দিতেন। ক্রিস্টিন পরে তার বইতে লিখেছেন, ‘ওয়ার্ড কখনোই আমার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেনি।’
ওয়ার্ডের বন্ধুদের মধ্যে একজন ছিলেন লর্ডস সভার সদস্য বিল অ্যাস্টর, ক্লিভডনে যাঁর আনন্দের ফোয়ারা উপচে  পড়া বাগানবাড়িতে নিয়মিতভাবে ভিড় করতো অল্পবয়সী সুন্দরী মেয়েরা। বিল অ্যাস্টরই তাদের আমন্ত্রণ জানাতেন বৃটেনের উঁচু মহলের মানুষদের মনরঞ্জনের জন্য। এই ক্লিভড্‌নেই বিংশ শতাব্দীর সব চাইতে আলোচিত রাজনৈতিক কেলেংকারীর সূচনা হয়েছিলো। সূচনা হয়েছিলো আলোচিত প্রণয় অধ্যায়ের।

১৯৬১ সালের জুলাই মাসে ক্লিভডনে এক পার্টিতে আমন্ত্রণ পেয়ে গিয়েছিলেন আলোচিত এই প্রণয়-কান্ডের কেন্দ্রীয় চরিত্র ক্রিস্টিন কেলার। সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে সুইমিং পুলে নেমে সাঁতার কাটছিলেন ক্রিস্টিন। আর ঠিক তখনই সেখানে সস্ত্রীক উপস্থিত হন ব্রটেনের তৎকালীন যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জন প্রফুমো। ক্রিস্টিনকে দেখেই চোখ আটকে যায় বৃটিশ মন্ত্রীর। তিনি জড়িয়ে পড়েন ক্রিস্টিনের প্রেমে। এই একই সময়ে ইউজেন আইভানভ নামে রুশ দূতাবাসে কর্মরত নৌবাহিনীর একজন উর্ধ্বতন অ্যাটাশের প্রেমেও জড়িয়ে পড়েন ক্রিস্টিন। আইভানভ ছিলো দারুণ আকর্ষণীয় এক পুরুষ। কিন্তু এই ব্যক্তিটিই ছিলো তৎকালীন রুশ গোয়েন্দা বিভাগের একজন এজেন্ট। আইভানফের সঙ্গে মাত্র একটা রাতই কাটিয়েছিলেন ক্রিস্টিন। তারপর মন্ত্রীর সঙ্গেও তার প্রণয় পর্ব দ্রুত সমাপ্তির পথে আগায়। তাদের এই বিচ্ছেদও ঘটেছিলো সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশেই। কিন্তু বিধি বাম। ক্রিস্টিনের সঙ্গে মন্ত্রী এবং রুশ গুপ্তচরের গোপন সম্পর্কের গুঞ্জন ততদিনে স্থান করে নিয়েছে পত্রিকার পৃষ্ঠায়।

সুচিত্রা সেন

ক্রিস্টিন আর ইউযেন আইভানফ মাত্র একটা রাত একসঙ্গে কাটিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পরেই জন প্রফুমোর সঙ্গে ক্রিস্টিনের সম্পর্কের ইতি ঘটে। কিন্তু সরকারের একজন মন্ত্রী এবং সোভিয়েত এক গুপ্তচরের সম্পর্ককে ঘিরে নানা রসালো গুজব তখন লন্ডনের বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। এই গুঞ্জন ক্রমশ ডালপালা বিস্তার করতে শুরু করে। বৃটেনের সংসদে এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সাংসদদের জেরার মুখে পড়েন প্রফুমো। প্রথমে তিনি ক্রিস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের কথা অস্বীকার করলেও টানা তিন মাস ধরে চলা বিতর্কের মুখে ভেঙ্গে পড়েন তিনি; স্বীকার করেন লুকিয়ে রাখা প্রেম উপাখ্যানের কথা। এরপর প্রফুমো পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

সম্প্রতি হলিউডের অভিনেত্রী শ্যারন স্টোন আত্মজীবনী লিখেছেন। সেই বই প্রকাশ পাবে এই মার্চে। তার আগেই কাহিনি সংক্ষেপ থেকে জানা গেছে, বইতে শ্যারন বেসিক ইনস্টিংক্ট ছবিতে সেই আলোচিত অর্ধনগ্ন দৃশ্যে অভিনয়ের বিষয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি লিখেছেন, কোনো এক পরিচালক তাকে ছবিতে শরীরের রসায়ন গাঢ় করতে কেন্দ্রীয় পুরুষ চরিত্রের সঙ্গে বিছানায় যেতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সিনেমা এবং সিনেমার বাইরেও বাঙালি যে জুটিতে মুগ্ধ সেই উত্তম-সুচিত্রার প্রেম নিয়েও আছে এমন বহু গল্প। কোনো কোনো সাংবাদিক তাদের রসায়ন আবিষ্কার করতে গিয়ে পৌঁছে গেছেন। সিনেমা পাগল বাঙালীর মনে বিরাট কৌতুহল, সুচিত্রা সেন কি উত্তম কুমারকে ভালোবাসতেন? দুজনের মনের মধ্যে কখনোই কী ভালোবাসা মেঘ-ঘর তৈরী করেনি? ভালোবাসার শ্রাবণধারা ঝরেনি? সুচিত্রার সঙ্গে ব্যাক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে একবার উত্তম কুমার বলেছিলেন, রমার সঙ্গে একটা ইমোশনাল এটাচমেন্ট তো আমার চিরকালই আছে।‘আর সুচিত্রা সেন বলেছিলেন, উত্তমের উপর নানা ব্যাপারে আমি নির্ভর করি।’সে নির্ভরতা অবশ্য সুচিত্রার উপরও উত্তমের নেহাৎ কম ছিলো না। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে সুচিত্রার অন্তরঙ্গ বন্ধু ও সাংবাদিক গোপাল কৃষ্ণ রায় তাঁর বইতে লিখেছেন, ‘‘২৯টি ছবি করার পর একে অপরের প্রতি অনুরাগ তৈরী হওয়াটা তো খুবই স্বাভাবিক। সুচিত্রা উত্তমকে উতু বলে ডাকতো। ওদের মধ্যে প্রায়শই গভীর রাত অব্দি ফোনালাপ চলতো। একদিন তো দেখলাম সুচিত্রা উত্তমকে ফোনেই কিস করে বসলো। তবে এটাও ঠিক উত্তম যখন বাড়ি ছেড়ে চলে এলেন তখন কিন্তু সুচিত্রার বাড়ি যাননি।গিয়েছিলেন সুপ্রিয়ার বাড়ি। তবে একটা কথা রমা প্রায়ই বলতো, আমি সারাজীবন অনেকের সঙ্গেই কাজ করেছি কিন্তু উত্তমের মতো নায়ক আর একটিও পেলাম না’’।

মনরোর ও কেনেডী

যেদিন উত্তম কুমার মারা যান সেদিন ফোন পেয়ে চুপ করে রিসিভার ধরে বসেছিলেন সুচিত্রা সেন। রাত দু’টা অব্দি কোন কথা বলেননি। সারাদিন ঘরেই ছিলেন। গভীর রাতে উত্তম কুমারের বাড়িতে গিয়েছিলেন শ্রদ্ধা জানাতে।

মেরিলিন মনরোর আত্মহত্যার ঘটনার পরেই সবার প্রশ্নের আঙুল উঠেছিলো তাঁর হাতে ধরা টেলিফোনের রিসিভারের দিকে। কাকে ফোন করতে চেয়েছিলেন তিনি শেষ মুহূর্তে? কারো সঙ্গে কথা বলেছিলেন কি? পৃথিবী, নিজের চারপাশে মায়াবী জগতের উজ্জ্বল আলো, ভক্তদের উচ্ছ্বাস, প্রেমিকদের ভালোবাসা ছেড়ে চলে যাবার সময় কার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন তিনি? প্রশ্নটি আজো তদন্তকারীদের মনে একটি বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে ঝুলে আছে। প্রশ্ন যেমন আছে সে প্রশ্নের উত্তরও আছে। অনেকেই বলেছেন মনরো ফোন করতে চেয়েছিলেন তার সবচাইতে বিখ্যাত এবং ক্ষমতাবান প্রেমিক, আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন.এফ কেনেডীকে। এই প্রেম ছিলো ভীষণ গোপন। বলা যাবে না তার নাম,ছোঁয়া যাবে না তাকে, কিন্তু প্রেম রয়ে গিয়েছিলো তাদের দু‘জনের মাঝে। রাষ্ট্রের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি ভালোবেসেছিলেন মনরোকে। তাদের গোপন সাক্ষাতের কথাও সময়ের পালাবদলে প্রকাশিত হয়েছে অনুসন্ধানী আলোর নিচে। এখন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, সবকিছু বুঝেই মনরোর ভালোর জন্যই তাকে চিরকালের জন্য মৃত্যুর জাদুরকাঠি ছুঁইয়ে পাথর করে দিতে চেয়েছিলেন স্বয়ং কেনেডী-ই? কারণ মনরো তাঁর ছোট্ট লাল রঙের নোট বইটাতে সব কথা লিখে রাখতেন। নোট করে রাখতেন রাষ্ট্রের ভীষণ সব গোপন কথা। তাই তাকে সরিয়ে দেয়ার আয়োজন চলেছিলো?

শ্যারন স্টোন

প্রাচীন রেড ইণ্ডিয়ান প্রবাদ আছে, অবৈধ প্রেম, ধোঁয়া আর গর্ভাবস্থা লুকিয়ে রাখা যায় না। নব্বইয়ের দশকে ইংল্যান্ডের রাজপরিবারের গোপন কথাও লুক্কায়িত থাকেনি। রাজকুমারী ডায়না প্রকাশ করে দিয়েছিলেন যুবরাজ চার্লসের গোপন প্রণয়-কথা। আর এই প্রকাশিত গোপনীয়তা ঝড় তুলেছিলো বাকিংহাম রাজপ্রাসাদে। ফলাফল করুণ বিচ্ছেদ। রাজকুমারী সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যাবার আগেই ১২ ঘন্টার এক গোপন ফুটেজে ফাঁস করে দিয়েছিলেন স্বামী চার্লসের বাথরুমে গিয়ে প্রেমিকা ক্যামিলার সঙ্গে ফোন সেক্সের কাহিনি। এই পর্দা উন্মোচন ডায়না করেছিলেন এক সাংবাদিকের ক্যামেরার সামনে ১৯৯৭ সালে।

গোপনকে জানার ইচ্ছাটা যেন এক কাঠঠোকরা পাখি।দুপুরের নির্জনতা থেকে রাত্রির হাত-পা মেলা অন্ধকারেও চলে অন্বেষণ, জানার ইচ্ছের নিভু নিভু প্রদীপকে হাতের আড়ালে বাঁচিয়ে কেউ পথ চলে। এই কেউ আমাদের মন। পথ চলা তার ক্লান্তিহীন। খুঁজে ফেরাও তার অনন্তকালের। আর নিজের মনের মধ্যে সেই খোঁজের প্রক্রিয়াটা যখন জাঁ পল সার্ত্রের অস্তিত্ববাদের দর্শনের রাস্তা ধরে তখন চমকে দিয়ে মাথা তোলে সত্য, ভাঙ্গে গোপনীয়তার আবরণ। এই তো কিছুদিন আগে হলিউডের নায়িকারা প্রায় দলবেঁধেই মনের মধ্যে চেপে রাখা নিগ্রহ আর নিপীড়নের করুণ বাষ্প ঠেলে বের করে দিলেন। সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে সুযোগের জন্য কিশোরীবেলায় তাদের শিকার হতে হয়েছে পুরুষের অভব্য প্রস্তাবের। সইতে হয়েছে যৌন নির্যাতন। হলিউড অভিনেত্রী উইদারস্পুন বলেছেন, যৌন নিপীড়নের স্মৃতি মনের মধ্যে গোপন রেখে তিনি রাতের পর রাত ঘুমাতে পারেননি। সেই সময়টা ছিলো তার জীবনের সবচাইতে বিষন্ন সময়। গোপন তথ্য মনের মধ্যে চাপ তৈরী করে। সত্য বেশীরভাগ সময়ই প্রকাশিত হতে চায়। তাদের প্রকাশিত সত্য দুনিয়াজুড়ে জন্ম দিয়েছে স্ক্যান্ডালের। সেই গোপন প্রকাশিত হয়ে বিপাকে ফেলেছে আমেরিকার প্রেসিডেন্টকেও।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট
ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments Box